প্রথম ওভারেই উইকেট পেতে পারতেন তাসকিন আহমেদ। নিজের পছন্দের উইকেটটি। রহমানুল্লাহ গুরবাজকে এখন পর্যন্ত যে ঠিক কতবার তিনি আউট করেছেন, তার কোন ইয়ত্তা নেই। সেই গুরবাজের উইকেটটি এবার পাওয়া হল না তাসকিনের। ক্যাচ মিসের সাথে তাসকিনের বেশ পুরনো শত্রুতা। আবারও ছুটল তার বলে ওঠা ক্যাচ, এদফা ছাড়লেন ইথান ডিসুজা।
প্রথম ওভারের আক্ষেপ ভুলে তাসকিন ফের ফিরলেন বোলিং প্রান্তে। এদিন পাওয়ার প্লে শেষ হওয়ার আগেই তাসকিনকে দিয়ে তিন ওভার করিয়ে নেন শারজাহ ওয়ারিয়ার্সের অধিনায়ক সিকান্দার রাজা। দ্বিতীয় ওভারের শুরুতে তাসকিনের উপর চড়াও হলেন জীবন পাওয়া গুরবাজ। প্রথম দুই বলে এক ছয়, এক চারে নিলেন দশ রান।
তাসকিন নিজেকে একটু অভাগাই ভাবছিলেন হয়ত। কিন্তু সেই ভাবনা থেকে পরিত্রাণ পেয়ে যান, সেই ওভারের শেষ বলে। জেমস ভিন্সকে মানসিকভাবে পরাস্ত করে ফেলেছিলেন তিনি দূর্দান্ত এক রান বাঁচিয়ে। নিজের ছোড়া বলে, ভিন্সের খেলা শটকে লাফিয়ে পড়ে আটকে দেন তাসকিন। সেখানেই থেমে থাকেননি। বল থ্রোও করেন। সেই থ্রো করা বল লাগে ভিন্সের ব্যাটে। শর্ট মিডউইকেটে দাঁড়ানো ডোয়েন প্রিটোরিয়াস আবেদন করেন, অবস্ট্রাকটিং দ্য ফিল্ডের।

কিন্তু অধিনায়ক সিকান্দার রাজা আবেদন তুলে নেন। কিন্তু ভিন্সকে আউট করবার ভাবনা মাথা থেকে ফেলে দেননি তাসকিন। ওভারের শেষ বলে তিনি ঠিকই শিকার করলেন ভিন্সকে। প্রায় ১৪০ কিলোমিটার গতির বলে শট চালান ভিন্স, মিড অফে দাঁড়ানো সিকান্দার সহজেই লুফে নেন সেই ক্যাচ। উচ্ছ্বাসে ভাসেন তাসকিন।
প্রথম দুই ওভারে ২০ রান হজম করা তাসকিন এরপর যেন ছন্দ ফিরে ফেলেন। তৃতীয় ওভারে কৃপণতার পরিচয় দিলেন। তার তৃতীয় ওভারে খরচ মাত্র ছয় রান। এরপর তাকে ডেথ ওভারের জন্য বিশ্রামে রেখে দেন রাজা। তাসকিন আবার ফেরেন বোলিং প্রান্তে ইনিংসে ১৯ তম ওভারে। তখন গালফ জায়ান্টসের জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ১২ বলে ৩২ রান।
আট উইকেট হারানো গালফের সামনে এই ম্যাচ জেতার সম্ভাবনা ছিল শূন্যের কাছাকাছি। ব্যক্তিগত শেষ ওভারে আটরান খরচা করে তাসকিন আর গালফের জন্য তেমন সুযোগ কাজে লাগানোর অবকাশ রাখেননি। আগেরদিনের তুলনায় এদিন শারজাহয়ের জার্সিতে তাসকিন আরও বেশি সাবলীল মনে হয়েছে। যতটুকু সময় আর তিনি সুযোগ পাবেন, একটাই হয়ত প্রার্থনা করবেন, ক্যাচ উঠলে যেন তা না ছোটে ফিল্ডারের হাত থেকে।












