পরিকল্পনা অনুযায়ী পা ফেলেছে আরসিবি!

যেন পরিকল্পনা করেই প্রতিটি পদক্ষেপ  নিয়েছে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরু। মিনি নিলামে ঢোকার আগে থেকেই তাদের লক্ষ্য ছিল একটাই, শিরোপাজয়ী স্কোয়াডের কাঠামো অক্ষুণ্ণ রেখে প্রয়োজনীয় জায়গাগুলোতে নিখুঁত সংযোজন। বড় ভাঙাগড়া নয়, বরং স্থিতিশীলতাকে ধরে রেখে দলকে আরও শক্তিশালী করাই ছিল আরসিবির মূল দর্শন।

যেন পরিকল্পনা করেই প্রতিটি পদক্ষেপ  নিয়েছে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরু। মিনি নিলামে ঢোকার আগে থেকেই তাদের লক্ষ্য ছিল একটাই, শিরোপাজয়ী স্কোয়াডের কাঠামো অক্ষুণ্ণ রেখে প্রয়োজনীয় জায়গাগুলোতে নিখুঁত সংযোজন। বড় ভাঙাগড়া নয়, বরং স্থিতিশীলতাকে ধরে রেখে দলকে আরও শক্তিশালী করাই ছিল আরসিবির মূল দর্শন। আর নিলামের শেষে তাকালেই বোঝা যায়, সেই পরিকল্পনাতেই পুরোপুরি সফল হয়েছে ব্যাঙ্গালুরু শিবির।

সবচেয়ে বড় চমক ভেঙ্কটেশ আইয়ার। গত মৌসুমে যাকে দলে নিতে ২৩ কোটি ৫০ লাখ রুপি পর্যন্ত দর হাঁকিয়েছিল আরসিবি, এবার তাকেই পেয়েছে মাত্র  ৭ কোটি রুপিতে। নিলামের হিসেবে এটা নিঃসন্দেহে আরসিবির সবচেয়ে বড় জয়। ভেঙ্কটেশ আইয়ার এখন সম্ভাব্য একাদশে তিন নম্বরে খেলতে পারেন, যদিও সেক্ষেত্রে দেবদত্ত পাডিক্কালকে জায়গা ছাড়তে হতে পারে। তবে বাস্তবতা হলো, ভেঙ্কটেশই এই স্কোয়াডে একমাত্র নতুন নাম, যিনি সরাসরি আরসিবির সেরা একাদশের অংশ হতে পারেন। যা প্রমাণ করে, ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের দল কতটা স্থিতিশীল।

এর বাইরে নিলামে আরসিবির কেনাকাটা ছিল বেশ হিসেবি। জশ হ্যাজেলউডের ব্যাকআপ হিসেবে দলে নেওয়া হয়েছে নিউজিল্যান্ড পেসার জ্যাকব ডাফিকে। অস্ট্রেলিয়ান পেস ইউনিটের বিকল্প হিসেবে তিনি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেন। আর বাঁহাতি পেস আক্রমণে যশ দয়ালের মতোই গতি ও সুইং দেওয়া মঙ্গেশ যাদবকে দলে টেনে আরসিবি নিশ্চিত করেছে শক্তিশালী ব্যাকআপ।

বর্তমান স্কোয়াড বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায়, ব্যাটিং অর্ডারে খুব বেশি নড়চড়ের সুযোগ নেই। ওপেনিংয়ে থাকছেন বিরাট কোহলি ও ফিল সল্ট। তিনে ভেঙ্কটেশ আইয়ার ঢুকলে চার নম্বরে অধিনায়ক রজত পাটিদার। পাঁচে উইকেটকিপার ব্যাটার জিতেশ শর্মা, যিনি মাঝের ওভারে গতি বাড়াতে সক্ষম। ছয়ে টিম ডেভিড, শেষ ওভারের ভয়ংকর ফিনিশার। সাত নম্বরে রোমারিও শেফার্ড, যিনি ব্যাট ও বল দুই দিকেই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারেন।

অলরাউন্ড শক্তির জায়গায় ক্রুনাল পান্ডিয়া থাকছেন আট নম্বরে। অভিজ্ঞতা ও নিয়ন্ত্রিত বোলিং দিয়ে মাঝের ওভার সামলানোর দায়িত্ব তার কাঁধেই। পেস আক্রমণে ভুবনেশ্বর কুমার ও জশ হ্যাজেলউডের জুটি নতুন বলে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলতে পারে। সঙ্গে যশ দয়াল অথবা সুয়াশ শর্মা, একজন বাঁহাতি পেসার, অন্যজন লেগ স্পিনার, দুজনেই ইম্প্যাক্ট সাব হিসেবে ম্যাচ অনুযায়ী ব্যবহারযোগ্য।

বোলিং ইউনিটের গভীরতা আরসিবির বড় শক্তি। হ্যাজেলউডের অনুপস্থিতিতে ডাফি, দয়ালের বিকল্প হিসেবে মঙ্গেশ যাদব, প্রায় প্রতিটি জায়গায় প্রস্তুত ব্যাকআপ রেখেছে ম্যানেজমেন্ট। ফলে ইনজুরি বা ফর্মের সমস্যায় একাদশে বড় পরিবর্তনের প্রয়োজন পড়বে না।

সবকিছু মিলিয়ে বলা যায়, এই আরসিবি দলটা ঝুঁকি নেয়নি, নিয়েছে পরিমিত ও বাস্তব সিদ্ধান্ত। বড় নামের পেছনে অযথা ছোটা নয়, বরং আগের সাফল্যের ভিত শক্ত করে তোলাই ছিল তাদের লক্ষ্য। শিরোপা ধরে রাখা কঠিন কাজ, তবে এই স্কোয়াড নিয়ে আরসিবির প্লে-অফের পথে হাঁটা যে মসৃণ হবে, তা বলাই যায়। মাঠের লড়াইয়ে শেষ কথা বলবে পারফরম্যান্স, আর সেই পরীক্ষার জন্য আরসিবি যে পুরোপুরি প্রস্তুত, এতে আর সন্দেহ কোথায়।

লেখক পরিচিতি

প্রত্যয় হক কাব্য

স্বপ্ন লেখার কি-বোর্ড

Share via
Copy link