মুস্তাফিজুর রহমান, ব্রেকথ্রু এক্সপার্ট

এমন দুর্ধর্ষ বোলিং প্রদর্শনী বেশ জোরালভাবেই বলছে, আইপিএল নিলামে আরও বেশি মূল্যে মুস্তাফিজ বিক্রি হতেই পারতেন। টি-টোয়েন্টিতে তিনি তো এখন গোটা বিশ্বেই অনন্য।

ব্রেকথ্রু দরকার, মুস্তাফিজকে ডাকুন। এক ওভারের মধ্যে পুরো ম্যাচের ভোল পালটে দেবেন তিনি। দুবাই ক্যাপিটালসকে এক ওভারেই ম্যাচের মোমেন্টাম এনে দিলেন মুস্তাফিজুর রহমান। দুই সেট ব্যাটার সহ তিন উইকেট তুলে নিলেন দ্য কাটার মাস্টার। বিশাল সংগ্রহের পথে হাটতে থাকা গালফ জায়ান্টস হোচট খেয়েছে মুস্তাফিজের হাতের কারুকাজে।

প্রতিটা মুহূর্তে মুস্তাফিজুর বোঝাচ্ছেন ৯ কোটি ২০ লাখ রুপি প্রাইসট্যাগটা তার জন্য মোটেও চাপের কিছু নয়। তিনি যেন আশ্বাস দিচ্ছেন কলকাতা নাইট রাইডার্সকে। আইএল টি-টোয়েন্টির প্রতিটি ম্যাচে নিজের মুন্সিয়ানা দেখিয়ে যাচ্ছেন মুস্তাফিজুর। মোহাম্মদ নবী তার বলে ওঠা ক্যাচ ফেলে না দিলে তিনিই বনে যেতে পারতেন টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি বোলার।

জেমস ভিন্স ও আজমতউল্লাহ ওমরজাইয়ের ৬৬ রানের জুটিতে ভর করে, নিদেনপক্ষে ১৮০ এর কাছকাছি কোন একটা সংগ্রহ গড়ার দিকেই ছিল গালফ জায়ান্টসের নজর। সেই মুহূর্তে দুবাইয়ের উইকেট প্রয়োজন ছিল ভীষণভাবে। অধিনায়ক নবী বোলিং প্রান্তে নিয়ে এলেন মুস্তাফিজুর রহমানকে।

আর বোলিংয়ে এসেই বাজিমাত করলেন মুস্তাফিজ। প্রথমে জেমস ভিন্স কট বিহাইন্ড হলেন মুস্তাফিজের বলে। ব্যাটের খোঁচা ধরতেই পারেননি ফিজ। উইকেটরক্ষক শায়ান জাহাঙ্গীরের আবেদনে বাংলাদেশী আম্পায়ার গাজী সোহেল তর্জনী তুলে আউটের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেন।

এরপর সেই ওভারে এক বল বাদেই আজমতউল্লাহ ওমরজাইকে বোল্ড আউট করেন মুস্তাফিজুর রহমান। ২৬ বলে ৪৩ বল করা ওমরজাই আউট হন দলীয় সংগ্রহ যখন ১১৬ রান। সেখানেই থেমে থাকেননি মুস্তাফিজ। ব্যক্তিগত দ্বিতীয় ওভারের শেষ বলে আরও একটি উইকেট তিনি যুক্ত করেন নিজের ঝুলিতে।

এদফা সিন ডিকসন পরিণত হন মুস্তাফিজের উইকেটে। ওই একটা ওভারই তছনছ করে দেয় গালফ জায়ান্টসের ব্যাটিংয়ের সকল পরিকল্পনা। তৃতীয় ওভারে মুস্তাফিজ ছিলেন খানিকটা খরুচে। যার দায়ভার অবশ্য তার উপর পুরোপুরি বর্তায় না। উইকেটরক্ষকের ভুলে চারটি অতিরিক্ত রান যুক্ত হয় ফিজের নামের পাশে। অথচ সেই বলটা সহজেই দস্তানাবন্দী করতে পারতেন শায়ান।

ঠিক তেমনি এক্সট্রা কাভারে একেবারে সহজ একটা ক্যাচ গিয়েছিল মোহাম্মদ নবীর কাছে। কিন্তু পানির মত সহজ ক্যাচটা ফেলে দেন দুবাইয়ের অধিনায়ক। নতুবা দিনশেষে মুস্তাফিজের নামের পাশে চারটি উইকেট শোভা পেত। কিন্তু তার সৃষ্টি করা ধ্বংসযজ্ঞ আর মাথাতুলে দাঁড়াতে দেয়নি গালফ জায়ান্টসের ব্যাটারদের। ফিজের করা শেষ ওভারে তো রানআউটের হ্যাটট্রিক মঞ্চস্থ হয়।

অর্থাৎ ১৫৬ রানে গালফকে অলআউট করার ক্ষেত্রে, ছয়টি উইকেটের সাথে জড়িত ছিলেন মুস্তাফিজের। এমন দুর্ধর্ষ বোলিং প্রদর্শনী বেশ জোরালভাবেই বলছে, আইপিএল নিলামে আরও বেশি মূল্যে মুস্তাফিজ বিক্রি হতেই পারতেন। টি-টোয়েন্টিতে তিনি তো এখন গোটা বিশ্বেই অনন্য।

লেখক পরিচিতি

রাকিব হোসেন রুম্মান

কর্পোরেট কেরানি না হয়ে, সৃষ্টি সুখের উল্লাসে ভাসতে চেয়েছিলাম..

Share via
Copy link