কয়েক মাস আগেও ভারতীয় ক্রিকেটে শুভমান গিলের নাম মানেই ছিল উজ্জ্বলতা, নিশ্চয়তা আর ভবিষ্যতের প্রতিশ্রুতি। যেখানেই হাত দিয়েছেন, সেখানেই পেয়েছেন সাফল্য। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে ৭৫৪ রানের পাহাড়, টেস্ট ও ওয়ানডে দলের অধিনায়কত্ব, আর সঙ্গে টি-টোয়েন্টিতে সহ-অধিনায়কের দায়িত্ব – সব মিলিয়ে মনে হচ্ছিল, ভারতীয় ক্রিকেট তার নতুন রাজা পেতে যাচ্ছে।
কিন্তু বছরের শেষ প্রান্তে এসে ছবিটা বদলে গেছে নাটকীয়ভাবে। ঘরের মাঠে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের স্কোয়াডেই নেই তিনি। তা হওয়াটাই যদিও অনুমেয়। কেননা, শেষ ১৮ ইনিংসে ২৫.১৩ গড়ে ৩৭৭ রান করেছেন তিনি। স্ট্রাইকরেটটাও বড্ড বেমানান।
দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের টেস্ট সিরিজে গুরুতর ঘাড়ের চোটে পরের ম্যাচ থেকে ছিটকে যান গিল। পরবর্তীতে তিনি টি-টোয়েন্টি সিরিজে ফিরেছিলেন। কিন্তু, কোনোক্রমেই যেন ২০ ওভারের ফরম্যাটে রান তুলতে পারছেন না গিল। প্রথম তিন ম্যাচে তাঁর ব্যাট থেকে আসে ৪, ০ এবং ২৮ রান। এরপর পায়ের আঙুলে চোট পেয়ে পরের দুই ম্যাচ থেকে ছিটকে যান। সেখানেই শেষ হয়ে যায় তাঁর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের স্বপ্ন।

সবচেয়ে বড় বিতর্কটা এখানেই যে টি-টোয়েন্টিতে তখন ওপেনিংয়ে দুর্দান্ত ছন্দে ছিলেন অভিষেক শর্মা ও সাঞ্জু স্যামসন। যশস্বী জয়সওয়ালও যে গিলের তুলনায় অধিক টি-টোয়েন্টি উপযোগী সেটাও অস্বীকার করার উপায় নেই। তা হলে প্রশ্ন, ফর্মে থাকা একটা দলকে কেন ভাঙা হলো?
উত্তরটা লুকিয়ে আছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনায়। নতুন কাউকে ‘সব ফরম্যাটের নেতা’ হিসেবে তৈরি করতে গিয়েই তাঁকে টি-টোয়েন্টিতে ফিরিয়ে আনা হয়, আর সেখানে তাঁকে দেওয়া হয় সহ-অধিনায়কের দায়িত্ব। কিন্তু বাস্তবতা যেন ভিন্ন পথ দেখায়।
টানা ১৮ ম্যাচ ধরে একটি অর্ধশতকও করতে পারেননি গিল। সাম্প্রতিক সময়ে গিল তাঁর ব্যাটিং টেকনিকে কিছু পরিবর্তন আনেন। আগের তুলনায় ব্যাট আরও সোজা পথে চালাচ্ছেন, যা তাঁকে টেস্ট ক্রিকেটে আরও উপযোগী করে তুললেও টি-টোয়েন্টিতে হিতে বিপরীত হচ্ছে।











