‘রিশাদ হোসেন বিশ্বমানের লেগ স্পিনার’- বেন ম্যাকডরম্যাট এভাবেই নিজের অভিব্যক্তি প্রকাশ করেছেন। আর রিশাদ, আরও একটিবার নিজের সামর্থ্যের প্রতিচ্ছবি ফুটিয়ে তুলেছেন বিগ ব্যাশের বড় মঞ্চে। ছক্কা হজমের পরের বলেই ব্যাটারকে প্যাভিলিয়নে ফেরানোর আনন্দে মেতে উঠেছেন রিশাদ। ৫ ম্যাচে এখন রিশাদের উইকেট সংখ্যা ৮।
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ খেলার পরিবর্তে রিশাদ হোসেনকে বিগ ব্যাশ খেলার ছাড়পত্র দিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। বৈরি পরিবেশে রিশাদ নিজের সামর্থ্যের সত্যিকার প্রদর্শন ঘটিয়ে জায়গা করে নিচ্ছেন সকলের মনে। সেই ধারাবাহিকতা তিনি অব্যাহত রেখেছেন মেলবোর্ন রেনেগেডসের বিপক্ষেও।
চার ওভার হাত ঘুরিয়ে দুইটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নিয়েছেন রিশাদ। যার একটি ছিল মোহাম্মদ রিজওয়ানের উইকেট। আর দ্বিতীয়টি ছিল জ্যাক ফ্রেজার ম্যাকগার্ক। ম্যাকগার্ককে আউট করার ঠিক আগের বলটাতেই ছক্কা হজম করেছিলেন টাইগার লেগ স্পিনার। কিন্তু ঠিক তার পরের বলে প্রতিশোধ নিয়ে নেন রিশাদ।

একটা স্কিডি ডেলিভারিতে প্যাডেল সুইপ করতে গিয়েছিলেন ম্যাকগার্ক। ব্যাটে বলে ঠিকঠাক সংযোগ ঘটতে দেননি রিশাদ। আর তাতেই ত্রিশ গজ বৃত্তের ভেতর আউট ম্যাকগার্ক। ছক্কা হজমের পরের বলেই ব্যাটারকে প্যাভিলিয়নে ফেরানোর আনন্দ বর্ণনাতীত। অবশ্য ওই ওভারের প্রথম বলেই আরেকটি উইকেট পেতে পারতেন রিশাদ।
রিশাদের লেগ স্পিনিং বলের বিপরীতে শট চালান অলিভার পিক। লং অনে সহজ ক্যাচ ওঠে। কিন্তু সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা নিখিল চৌধুরী ক্যাচ তালুবন্দী তো করতেই পারেননি, উল্টো সেটিকে ছক্কা বানিয়ে দেন। সেই ক্যাচ মিসের বিষাদ ভুলে রিশাদ পরবর্তীতে ঠিকই ঘুরে দাঁড়ায়। তারও বহু আগে, নিজের দ্বিতীয় ওভারে রিজওয়ানকে সাজঘরে ফেরান রিশাদ হোসেন।
রিশাদের বলে রিভার্স সুইপ করতে গিয়ে, ত্রিশ গজ বৃত্তের ভেতরেই ক্যাচ দিয়ে ফেরেন পাকিস্তানি ব্যাটার। এদিন হোবার্ট হারিকেন্সের জার্সিতে ৪ ওভার বোলিং করেছেন রিশাদ। ৩৪ রান হজম করেছেন সে কথা সত্য। কিন্তু নিখিল ক্যাচকে ছক্কায় পরিণত না করলে উইকেটের ট্যালিতে যেমন সংখ্যা পরিবর্তন হতো, ঠিক তেমনি খরচের হিসেবটাও আরেকটু সংযত হতো। তবে সে যাই হোক, রিশাদ নিজের প্রথম বিগ ব্যাশ রাঙিয়ে আসছেন আপন রঙে, সেটাই বরং আনন্দ ও গৌরবের।












