টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ দরজায় এসে দাঁড়িয়েছে। শেষবার শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট উঠেছিল ভারতের মাথায়। দুই বছর পর ঘরের মাঠে সেই সাফল্য ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ তাদের সামনে। এবারের আসরে ভারতের সম্ভাবনা, শক্তিমত্তা এবং সমস্যার জায়গাগুলো একটু খতিয়ে দেখা যাক।
চ্যাম্পিয়ন হওয়ার লক্ষ্যেই যে মাঠে নামছে ভারত, তার আগাম আভাস পাওয়া গেছে দল গঠন এবং কৌশলে পরিবর্তন আনা দেখেই। ঘোষিত স্কোয়াডে নজর রাখলেই বোঝা যায়, ভারত ধীরে ধীরে আরও তরুণ ও আক্রমণাত্মক একটি সেটআপের দিকে এগোচ্ছে।
ভারতের ব্যাটিং শক্তির বড় জায়গা ওপেনিং বিভাগ। সম্ভাব্য ওপেনার হিসেবে সঞ্জু স্যামসন ও অভিষেক শর্মা দুজনেই ইনিংসের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে অভ্যস্ত। দুজনেরই স্ট্রাইক রেট ১৫০-এর ওপরে, যা পাওয়ারপ্লেতেই প্রতিপক্ষ বোলারদের ওপর চাপ তৈরি করতে সক্ষম। ঘরের মাঠে পরিচিত কন্ডিশনে এই আগ্রাসী শুরু ভারতের বড় শক্তি হয়ে উঠতে পারে, বিশেষ করে বড় ম্যাচগুলোতে দ্রুত রান তোলার ক্ষেত্রে।

বোলিং বিভাগেও ভারতের শক্তির জায়গা স্পষ্ট। জাসপ্রিত বুমরাহ, আর্শদ্বীপ সিং ও বরুণ চক্রবর্তীর সমন্বয়ে গড়া আক্রমণ টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে যেকোনো দলের জন্যই আতঙ্কের। ডেথ ওভারে বুমরাহর নিখুঁত ইয়র্কার, নতুন বলে আরশদীপের বাঁহাতি সুইং ও ভিন্ন অ্যাঙ্গেল এবং মাঝের ওভারগুলোতে বরুণ চক্রবর্তীর মিস্ট্রি স্পিন পুরো ইনিংস জুড়েই উইকেট নেওয়ার বিকল্প তৈরি করে দেয়। ফলে রান বাঁচানোর পাশাপাশি প্রতিপক্ষের গতি ভাঙার সামর্থ্য ভারতের রয়েছে।
তবে এই শক্তির আড়ালেই লুকিয়ে আছে কিছু উদ্বেগও। ভারতের মিডল অর্ডার সাম্প্রতিক সময়ে প্রত্যাশিত ধারাবাহিকতা দেখাতে পারেনি। অধিনায়ক সুরিয়াকুমার যাদব নিজেই রান খরায় ভুগছেন, যা বড় টুর্নামেন্টের আগে চিন্তার কারণ। পাশাপাশি শিভাম দুবে, তিলক ভার্মা ও অক্ষর প্যাটেল ধারাবাহিক না হওয়ায় মাঝের ওভারগুলোতে দ্রুত রান তোলার সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
এই বিশ্বকাপ ভারতের জন্য সুযোগের দিক থেকেও বিশেষ কিছু বয়ে এনেছে। ঘরের মাঠে, নিজেদের দর্শকদের সামনে শিরোপা ধরে রাখার সুযোগ পাচ্ছে তারা। ২০০৭ সালের প্রথম আসর জয়ের পর ঘরের মাঠে শিরোপা ধরে রাখার সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি তারা। এবার সামনে আরও বড় ইতিহাস গড়ার হাতছানি, প্রথম দল হিসেবে তিনবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের সুযোগ।

সবচেয়ে বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে কয়েকজন খেলোয়াড়ের ফর্ম ও ওপেনারদের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে শুরুতেই দ্রুত উইকেট পড়ে গেলে পুরো ব্যাটিং ইউনিটে চাপ বাড়বে। বৈশ্বিক টুর্নামেন্টে দলগত পারফরম্যান্সই সাফল্যের মূল চাবিকাঠি, সেখানে কয়েকজনের ওপর ভরসা করে এগোলে বড় মূল্য চুকাতে হতে পারে।
সব মিলিয়ে, শক্তিশালী ফেভারিট হিসেবেই ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নামছে ভারত, তবে শিরোপা ধরে রাখতে হলে সম্ভাবনার পাশাপাশি দুর্বলতাগুলো সামলে এগোনোই হবে তাদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।











