শ্রেষ্ঠত্বের মুকুটে পালকের অভাব নেই ডেভিড ওয়ার্নারের। তিনি আরও এক রঙিন পালক জুড়ে নিলেন বিগ ব্যাশের মঞ্চে। দুর্ধর্ষ ব্যাটিংয়ের জন্য ক্যারিয়ার জুড়েই তিনি ছিলেন প্রসিদ্ধ। গোধুলি লগ্নে সেই পুরনো তেজ আর আগ্রাসন আরও একবার করলেন মঞ্চস্থ। বয়স বেড়েছে সে কথা সত্য, কিন্তু এখনও মঞ্চ মাতাতে তিনি অনন্য।
বিগ ব্যাশে ওয়ার্নারের দল সিডনি স্ট্রাইকার্স ধুকছে বেশ। হোবার্ট হারিকেন্সের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে দলটির ঝুলিতে ছিল পাঁচ ম্যাচে স্রেফ একটি জয়। দলের বেহাল দশার সাথে বেগতিক দিন যাচ্ছিল ডেভিড ওয়ার্নারেরও। কিন্তু ধ্বংসস্তুপের মাঝে থেকে ফিনিক্স পাখি হওয়ার সমস্ত রসদ ওয়ার্নারের মস্তিষ্কে অবরুদ্ধ।
ধুন্ধুমার ব্যাটিংয়ে বিগ ব্যাশ ক্যারিয়ারে নিজের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন ডেভিড ওয়ার্নার। টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে এটি তার নবম সেঞ্চুরি। বা-হাতি এই ব্যাটার এদিন বনে গিয়েছিলেন এক মুক্ত পাখি। ব্যাটকে ডানা বানিয়ে তিনি উড়ে বেড়িয়েছেন রানের অসীম দুনিয়াতে।

মাত্র ৬৫ বলের একটা ইনিংস। তাতেই তার রান ১৩০। পাক্কা ২০০ স্ট্রাইকরেটের এক হারিকেন বইয়ে দিয়েছেন তিনি হোবার্টের বোলিং ইউনিটের উপর। ১১ খানা চারের বিপরীতে ৯ খানা বিশাল ছক্কাও এসেছে বা-হাতি এই ব্যাটারের ব্যাট থেকে। অস্ট্রেলিয়ার বড় বাউন্ডারিকেও তোয়াক্কা করেননি বর্ষীয়ান এই ব্যাটার।
সিডনি থান্ডার্সের ২০৫ রানের প্রায় ৬৪ শতাংশই এসেছে তার ব্যাট থেকে। তার কল্যাণেই বিগ ব্যাশ ইতিহাসে দলটি গড়েছে সর্বোচ্চ সংগ্রহ। বাইশ গজে ব্যাটিংয়ের পারফরমিং আর্টে তিনি মাতিয়ে রেখেছিলেন গোটা স্টেডিয়ামকে। বয়সের সাথে বিধ্বংসী না হওয়ার কোন সম্পর্ক নেই- সেই বার্তাতে তিনি রীতিমত হোবার্টের বোলারদের করেছেন তুলোধুনো।
এমন সব ইনিংসেই বরং আক্ষেপ বাড়ে। এমন চরিত্রদের কেন বয়সটা বাড়ে? তারা কেন অন্ততকাল একই ধাঁচে বিনোদনের মধ্যমণি হয়ে উঠতে পারেন না? প্রকৃতি কেন এতটা রুঢ়?












