মন্থর কেন বাবর আজম?

পাঁচ ম্যাচে ১২৯ রান, স্ট্রাইক রেট মাত্র ১১৭.২৭। বাবর আজম বিগ ব্যাশ খেলতে এসেও একই সমস্যায় ভুগছেন। রান তোলায় গতি নেই একদমই। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও তিনি একই দোষে দুষ্ট। 

পাঁচ ম্যাচে ১২৯ রান, স্ট্রাইক রেট মাত্র ১১৭.২৭। বাবর আজম বিগ ব্যাশ খেলতে এসেও একই সমস্যায় ভুগছেন। রান তোলায় গতি নেই একদমই। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও তিনি একই দোষে দুষ্ট।

আধুনিক সীমিত ওভারের ক্রিকেটে বাবর আজমের ব্যাটিংয়ের এই ধরণের জন্য তিনি পাকিস্তানের টি-টোয়েন্টি পরিকল্পনা থেকে জায়গা হারান প্রায়শই। এবার এই ব্যাপারে নতুন করে আলোচনা উসকে দিলেন অস্ট্রেলিয়ার সাবেক উইকেটরক্ষক-ব্যাটার অ্যাডাম গিলক্রিস্ট।

অস্ট্রেলিয়ার বিগ ব্যাশ লিগে ধারাভাষ্য দেওয়ার সময় পাকিস্তান তারকার ধীরগতির রান তোলাকে কেন্দ্র করে নিজের উদ্বেগ প্রকাশ করেন এই কিংবদন্তি। গিলক্রিস্ট স্পষ্ট করে বলেন, ‘বাবর আজমকে কখনোই পাওয়ার হিটার হিসেবে বিচার করা ঠিক নয়। ছক্কা হাঁকানো তার মূল শক্তি নয়—বরং নিখুঁত টাইমিং, ক্লাসি শট নির্বাচন এবং শক্ত টেকনিকই বাবরের আসল পরিচয়।’

তাই প্রতি বলেই আক্রমণাত্মক হওয়ার প্রত্যাশা করাও অবাস্তব বলে মনে করেন তিনি। তবে, সীমিত ওভারের ক্রিকেটে সমস্যাটা তৈরি হয় অন্য জায়গায়। গিলক্রিস্টের মতে, ‘বাবর যদি শুধু প্রতি বলে একটি করে রান, এই রেটে খেলেন এবং বড় স্কোরের দায়টা পুরোপুরি অপর প্রান্তের ব্যাটারের ওপর চাপিয়ে দেন, তাহলে সেটা দলের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। এতে ইনিংসের গতি কমে যায় এবং অন্য ব্যাটারের ওপর অযথা চাপ তৈরি হয়।’

এই প্রেক্ষাপটে বাবর আজমকে আরও পরিস্থিতি অনুযায়ী মানিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেন গিলক্রিস্ট। তার মতে, বাউন্ডারির ওপর অতিরিক্ত নির্ভর না করে স্ট্রাইক রোটেশন বাড়ানো, ফাঁকা জায়গা খুঁজে নেওয়া এবং বুদ্ধিদীপ্ত শট খেলার মাধ্যমে চাপ কমানোই হতে পারে কার্যকর সমাধান।

গিলক্রিস্ট বিশ্বাস করেন, যদি বাবর তার স্বাভাবিক ব্যাটিং দক্ষতার সঙ্গে নিয়ন্ত্রিত আগ্রাসন যোগ করতে পারেন, তাহলে তিনি সীমিত ওভারের ক্রিকেটে আরও ভয়ংকর হয়ে উঠবেন। এতে করে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ইনিংসের ভারসাম্য বজায় থাকবে এবং সতীর্থ ব্যাটারদের ওপর চাপও কমবে।

বাবর আজম যখন নিয়মিতভাবে আন্তর্জাতিক ম্যাচের পাশাপাশি বিভিন্ন উচ্চমানের লিগে খেলছেন, তখন তার ব্যাটিং সক্ষমতা নিয়ে এই মন্তব্য নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। আধুনিক সাদা বলের ক্রিকেটে যেখানে স্ট্রাইক রোটেশন ও গেম অ্যাওয়ারনেসকেই এখন সাফল্যের চাবিকাঠি হিসেবে দেখা হচ্ছে। গিলক্রিস্টের পরামর্শ বাবরের জন্য কতটা কার্যকর হয়—সেদিকেই এখন তাকিয়ে থাকবে ক্রিকেটবিশ্ব।

Share via
Copy link