সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে দ্রুত বদলে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের মানচিত্র। এই পরিবর্তনের স্রোতে একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ঠিক কতটা নিরাপদ, সে প্রশ্নই নতুন করে সামনে চলে এল। আশঙ্কা করা হচ্ছে, ২০২৭ সালের আইসিসি ক্রিকেট বিশ্বকাপের পর ৫০ ওভারের ক্রিকেট ধীরে ধীরে প্রান্তিক হয়ে পড়তে পারে।
ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ প্রবণতার সাম্প্রতিক চিত্র বলছে বিশ্বকাপ পরবর্তী সময়ে ওয়ানডে ফরম্যাটের অবস্থান স্বস্তিদায়ক নয়। যদিও তিনি সরাসরি পতনের ভবিষ্যদ্বাণী পাওয়া যায়নি, তবে খেলাটির বর্তমান গতিপথ নিয়ে ভাবার এটাই আদর্শ সময়।
সাবেক ভারতীয় ক্রিকেটার রবিচন্দ্রন অশ্বিনের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে আধুনিক ক্রিকেটের এক বাস্তব চিত্র। বিশ্বজুড়ে ফ্র্যাঞ্চাইজি ভিত্তিক টি-টোয়েন্টি লিগগুলোর লাগাতার বিস্তার এবং একই সঙ্গে টেস্ট ক্রিকেটের ঐতিহ্যগত গুরুত্ব – এই দুইয়ের মাঝখানে পড়ে একদিনের ক্রিকেট যেন নিজের জায়গা হারাতে বসেছে। দ্রুত ফলাফল, বিনোদনের মাত্রা এবং আর্থিক লাভ – সব মিলিয়ে খেলোয়াড়, ক্রিকেট বোর্ড ও দর্শকদের মনোযোগ ক্রমেই ঝুঁকছে ছোট ফরম্যাটের দিকে।

অশ্বিনের ভাষ্যমতে, বিশ্বকাপের মঞ্চে ওয়ানডে ক্রিকেট এখনও আলাদা মর্যাদা ধরে রেখেছে। কিন্তু বড় টুর্নামেন্টের বাইরে আন্তর্জাতিক সূচিতে এই ফরম্যাটের উপস্থিতি দিন দিন প্রশ্নের মুখে পড়ছে। ২০২৭ সালের পর একদিনের ক্রিকেট ঠিক কোন অবস্থানে দাঁড়াবে, এই অনিশ্চয়তাই তাকে সবচেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন করছে বলে জানান অশ্বিন।
এই সংকটময় সময়ে তারকা ক্রিকেটারদের ভূমিকাকেও বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। অশ্বিন মনে করেন, বিরাট কোহলি ও রোহিত শর্মার মতো আইকনিক ব্যক্তিত্বরা এখনও ওয়ানডে ক্রিকেটের প্রাণভোমরা। তাদের উপস্থিতিই দর্শকদের মাঠে ও পর্দায় ধরে রাখে, আর ফরম্যাটটিকে টিকে থাকার শক্তি জোগায়।
একের পর এক ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের জন্য বছর জুড়েই ব্যস্ত সময় অতিবাহিত করেন ক্রিকেটারেরা। তবে একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট যেন আগের মতো তেমন গুরুত্ব পাচ্ছে না। টি-টোয়েন্টি প্রভাবিত এই যুগে একদিনের ক্রিকেট কীভাবে নিজেকে নতুন করে সংজ্ঞায়িত করবে, সেই প্রশ্নের উত্তর খোঁজাই এখন সময়ের দাবি।











