এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোন ঘোষণা না আসলেও বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো যে শ্রীলঙ্কায় হতে চলেছে, তা মোটামুটি নিশ্চিত। আর এখানেই বরং বাংলাদেশের জন্য সম্ভাবনার নব দুয়ার উন্মোচিত হচ্ছে। শ্রীলঙ্কার মাটি বাংলাদেশের ভীষণ পরিচিত। তাছাড়া সেখানে বাংলাদেশের দারুণ কিছু জয়ের স্মৃতিও রয়েছে। এমনকি সাম্প্রতিক সময়ের লঙ্কানদের মাটিতে সিরিজ জয়ের দৃষ্টান্তও স্থাপন করে এসেছে লিটন দাসের দল।
সম্ভাবনার দুয়ার কিভাবে উন্মোচিত হচ্ছে সে প্রসঙ্গে ফেরা যাক। বাংলাদেশ দল শ্রীলঙ্কার মাটিতে পাঁচটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ জিতেছে এখন অবধি। যার মধ্যে দুইটি এসেছে বিগত বছরে, স্বাগতিক শ্রীলঙ্কাকে ২-১ ব্যবধানে পরাজিত করে সিরিজ নিজেদের করে নিয়েছিল টাইগাররা। বলে রাখা ভাল সেই সিরিজের প্রথম ম্যাচে হেরে ব্যাকফুটে ছিল সফরকারীরা।
অতএব এখন শ্রীলঙ্কায় টি-টোয়েন্টি ম্যাচ জেতার স্মৃতি তরতাজা। গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালে বাংলাদেশ নিজেদের খেলা ৩০টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচের মধ্যে ১৫টি ম্যাচে জয়লাভ করেছে। সেটাও দলকে আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে। সে তালিকায় রয়েছে শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানের মত দলের বিপক্ষে জয়।

এমনকি একটা কোরগ্রুপ নিয়ে বিশ্বকাপে যাচ্ছে বাংলাদেশ দল। গত এক বছরে এই দলটাই টি-টোয়েন্টিতে ছিল প্রায় ফিক্স। বর্তমান দলের মধ্যে লিটন দাস শ্রীলঙ্কার মাটিতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রহ করেছেন বাংলাদেশের পক্ষে। প্রায় ১৩৫ স্ট্রাইকরেটে ২০৯ রান এসেছে তার ব্যাট থেকে। তিনিই তো গোটা দলকে নেতৃত্ব দিতে চলেছেন বিশ্বকাপে। লঙ্কার বুকে তার ৮ টি-টোয়েন্টি খেলার অভিজ্ঞতা বেশ কাজে লাগবে বাংলাদেশের।
এছাড়া যেই মুস্তাফিজু রহমানকে ঘিরে সৃষ্টি হয়েছে বিরুপ পরিস্থিতির বলয়, সেই মুস্তাফিজ বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ উইকেট নিয়েছেন শ্রীলঙ্কার মাটিতে। ৯ ম্যাচে ১৩ উইকেট নিয়েছেন স্রেফ ১৫.২ স্ট্রাইকরেটে। ইকোনমি ছিল তার ৭.৬৬। তিনিই যে এবারের বিশ্বকাপে হতে চলেছেন বাংলাদেশের প্রধান অস্ত্র তা না বলে দিলেও চলছে।
অতএব শ্রীলঙ্কার মাটি বাংলাদেশের জন্য পয়া ভেন্যু হিসেবে ধরা দিতে পারে আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সাফল্য তিন ম্যাচ জয় ছাপিয়ে দারুণ কিছু অর্জন খুব একটা অবাস্তব নয় বটে। এখন দেখবার পালা, বাংলাদেশ আদোতে প্রত্যাশা পূরণে সফল হতে পারে কি-না।












