মেহেদী হাসান মিরাজ, আর কত ব্যর্থ হবেন? ব্যাটিংটা যাচ্ছেতাই, বোলিংয়েও আসেন না ঠিকঠাক। মিরাজ যেন ভয় পাওয়া চেহারা নিয়ে সবার পেছনে দাঁড়িয়ে থাকা দলনেতা। যার হওয়ার কথা দলের সবচেয়ে বড় শক্তি, তিনিই এখন বড় দুর্বলতা। দলের ভারী বোঝা, যা কাঁধে নিয়ে চললে বাড়বে বিপদ। প্রতি ম্যাচের আলোকে তাঁর ব্যর্থতার ফিরিস্তি একটু দেখে নেওয়া যাক।
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের মঞ্চে সিলেট টাইটান্স ইতিমধ্যেই খেলেছে সাত ম্যাচ। এর মধ্যে একবারের জন্যও মিরাজ বলার মতো কিছুই করতে পারেননি। রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের বিপক্ষে আসরের প্রথম ম্যাচ, ব্যাট হাতে নামার প্রয়োজন পড়েনি। তবে বল হাতে ব্যর্থতার নজির গড়েছিলেন তিনি। তিন ওভারে ৩৯ রান, ইকোনমি রেট ১৩, বিনিময়ে এক উইকেট। দলকেও হারতে হয়েছে।
পরের ম্যাচে প্রতিপক্ষ নোয়াখালী, একবারের জন্যও মিরাজ বল হাতে নেননি। ব্যাটে অবশ্য ৩৭ বলে করেছিলেন ৩৩। ১৪৪ রানের লক্ষ্যে নেমে কষ্টেসৃষ্টেই জিতেছিল সিলেট। বলে রাখা ভালো, এদিন ব্যাট করেছিলেন পাঁচ নম্বরে।
নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে প্রতিপক্ষ ঢাকা ক্যাপিটালস। মিরাজ নিজেকে নিয়ে এলেন তিন নম্বরে, ফিরলেন ছয় রান করে। বল হাতে তিন ওভারে ১৯ রান দিয়ে এক উইকেট। দল জিতে যাওয়ায় রদবদলটা চোখে লাগেনি।

এবারের অ্যাসাইনমেন্ট রংপুর রাইডার্স। আসরের সেরা দল। ব্যাট হাতে তিন নম্বরেই দেখা গেল অধিনায়ককে। ছয় বলে চার রান। বল করতে এসে তিন ওভারে ৩৫ রানের বিনিময়ে কোনো শিকার ধরা পড়ল না জালে। চট্টগ্রামের বিপক্ষে সিদ্ধান্ত নিলেন ক্যাপ্টেন ওপেন করবেন। তাতেই যেন ব্যর্থতার ষোলকলা পূর্ণ হলো। ব্যাটে ছয় বলে পাঁচ, বলে তিন ওভারে খরচা ২৮।
ফের দেখা নোয়াখালীর সঙ্গে। লো স্কোরিং ম্যাচে বল হাতে এলেন এক ওভার, নয় রানে এক শিকার। ব্যাটিংয়ে নিজেকে নামালেন মিডল অর্ডারে। ৬২ রানের লক্ষ্যে আর নামতেই হয়নি তাঁকে। সবশেষ চট্টগ্রামের বিপক্ষে দ্বিতীয় দেখা। বল হাতে এলেন না, পরাজয়ের দিনে ব্যাটে এলো ১৭ রান।
এবার একটু ফর্দের হিসাব টানা যাক। সাত ম্যাচে মিরাজ বল করেছেন কেবল ১৩ ওভার, ১৩০ রান খরচায় নিয়েছেন তিন উইকেট। ইকোনমি কাটায় কাটায় দশ। ব্যাটিংয়ে আরও যাচ্ছেতাই, সাত ম্যাচে পাঁচ ইনিংস ব্যাট করে ১৩ গড়ে নামের পাশে মোটে ৬৫ রান। স্ট্রাইক রেট ৯২। আধুনিক টি-টোয়েন্টিতে যা ভয়াবহ রকমের বাজে হিসেবে ধরা হয়।
দলের নিয়মিত সদস্য হওয়া সত্ত্বেও তাঁর ভূমিকা, ব্যাটিং পজিশন ও কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তাই ক্রমেই আরও বড় হচ্ছে। বাস্তবতা হলো, মিরাজকে ঘিরে টিম ম্যানেজমেন্টের পরিকল্পনার কোনো নির্দিষ্ট ঠিকানা নেই, আর সেই অনিশ্চয়তার খেসারত দিচ্ছে দলই।

এক ম্যাচে ওপেনার, আবার কখনো চার নম্বরে। অথচ এই দুই পজিশনই তাঁর স্বাভাবিক ব্যাটিং জায়গা নয়। ওপেনিংয়ে ব্যর্থ হলে আবার তাঁকে নামানো হচ্ছে মিডল অর্ডারে, যেখানে তাঁর ভূমিকা আরও অস্পষ্ট হয়ে পড়ে। এমনকি রনি তালুকদারকেও নিজেদের পজিশন হারাতে হচ্ছে মিরাজের জন্য। কখনো ওপেনার, কখনো দল থেকে বাদ, আবার ফেরানো হচ্ছে চার নম্বরে, যা আদৌ তাঁর জায়গা নয়। এই অস্থিরতা পুরো ব্যাটিং ইউনিটকেই নড়বড়ে করে দিচ্ছে।
বল হাতে পূর্ণ কোটা বোলিং করছেন না। তাঁর ভূমিকাটা যেন দলের ষষ্ঠ বোলিং অপশন। এর অর্থ দাঁড়াচ্ছে—দল একদিকে হারাচ্ছে একজন কার্যকর বোলিং অলরাউন্ডার, অন্যদিকে জায়গা পাচ্ছে না একজন প্রকৃত বোলারও।
আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, মিরাজ যখন ওপেন কিংবা তিন নম্বরে ব্যাট করছেন, তখন তাঁর স্ট্রাইক রেট থাকছে ১০০ বা তারও কম। এই স্ট্রাইক রেট টপ অর্ডারের জন্য মোটেও যথেষ্ট নয়। এতে করে দলকে উৎসর্গ করতে হচ্ছে একজন প্রকৃত ব্যাটার কিংবা ব্যাটিং অলরাউন্ডারের জায়গা, যা সরাসরি দলীয় শক্তি কমিয়ে দিচ্ছে। এক কথায়, মিরাজ খেললেই যেন বিপদ বাড়ছে দলের।











