ক্রিকেটে ভারত মানেই অতি-নাটকীয়তা!

২০২৫ এশিয়া কাপের ফাইনাল শেষে ভারতীয় দল পিসিবি চেয়ারম্যান মোহসিন নকভির কাছ থেকে ট্রফি গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানায়। যেটাকে মাত্রাতিরিক্ত নাটকীয়তা হিসেবে অ্যাখ্যা দিয়েছেন সাবেক ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক জেসন হোল্ডার।

২০২৫ এশিয়া কাপের ফাইনালে পাকিস্তানকে পাঁচ উইকেটে হারিয়ে শিরোপা জয় করে ভারত। বহু দলীয় টুর্নামেন্টে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের বিপক্ষে আধিপত্য আরও একবার প্রমাণ করে তারা।

কিন্তু, ম্যাচ শেষে যে দৃশ্য দেখা যায়, সেটিই আলোচনার মূল বিষয় হয়ে ওঠে। ভারতীয় দল পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) চেয়ারম্যান মহসিন নাকভির কাছ থেকে ট্রফি গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানায়। যেটাকে মাত্রাতিরিক্ত নাটকীয়তা হিসেবে অ্যাখ্যা দিয়েছেন সাবেক ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক জেসন হোল্ডার।

ট্রফি প্রদানলগ্নে পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, শেষ পর্যন্ত নকভি নিজেই ট্রফি নিয়ে ফিরে যান। ফলে চ্যাম্পিয়ন হয়েও ট্রফি ছাড়াই দেশে ফেরে ভারতীয় দল।

এই ঘটনাপ্রবাহে হতাশা প্রকাশ করেছেন হোল্ডার। সম্প্রতি ক্রিকবাজের একটি পডকাস্টে কথা বলতে গিয়ে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ভারত-পাকিস্তান দ্বন্দ্ব এখন অনেক সময়ই প্রয়োজনের সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। ক্রিকেটকে ঘিরে এমন আচরণ ক্রিকেটের সৌন্দর্যকেই ক্ষুণ্ন করে।

আলোচনাকে আরও বিস্তৃত করে হোল্ডার তুলে ধরেন আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও মালিকানা কাঠামোর প্রভাব। বিশেষ করে ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে পাকিস্তানি খেলোয়াড়দের সীমিত সুযোগ নিয়ে তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করেন।

বিশ্বব্যাপী ফ্র‍্যাঞ্চাইজি লিগগুলোর অনেক দল ভারতীয় মালিকানাধীন হওয়ায় অনেক পাকিস্তানি ক্রিকেটার সেখানে খেলার সুযোগ পান না, এ বিষয়টিকে তিনি দু:খজনক বলেই উল্লেখ করেন।

হোল্ডারের মতে, শীর্ষস্থানীয় ক্রিকেটাররা কেবল মাঠের ফলাফলের মাধ্যমেই নয়, আচরণ ও দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমেও একটি প্রজন্মকে প্রভাবিত করেন। তাই বিভাজনের বদলে ঐক্যের পথ খোঁজার দায়িত্বও তাঁদেরই।

তিনি স্বীকার করেন, ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের পেছনে দীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাস রয়েছে। তবে পরিবর্তনের সূচনা যেকোনো জায়গা থেকেই হতে পারে, আর ক্রিকেটই হতে পারে সেই পরিবর্তনের সবচেয়ে যোগ্য সেতু।

হোল্ডার বিশ্বাস করেন, খেলাধুলার মঞ্চে যদি দুই দেশ কাছাকাছি আসতে পারে, তাহলে তার প্রভাব পড়তে পারে জাতিগত জীবনেও। উত্তেজনা ও সংঘাত কমে আসা শুধু ক্রিকেটের জন্য নয়, মানবিক সম্পর্কের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। তিনি মনে করিয়ে দেন, খেলোয়াড়রা দেশের মানুষের জন্য আদর্শস্বরূপ। তাঁদের আচরণের প্রতিফলন সমাজে ছড়িয়ে পড়ে।

সব বিতর্কের মাঝেও ভারত ও পাকিস্তান উভয় দেশের প্রতি গভীর শ্রদ্ধার কথা জানান হোল্ডার। তাঁর চোখে, দুটি দেশই সমৃদ্ধ সংস্কৃতি ও অসাধারণ মানুষের আবাসভূমি। তাই এমন মুহূর্তগুলো ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য আরও বেদনাদায়ক হয়ে ওঠে।

শেষ পর্যন্ত তিনি আহ্বান জানান ক্রিকেটের চেতনা রক্ষার। ক্রিকেটকে ঘিরে যেন জাতিগত জীবনে দ্বৈরথের বিপরীতে আরও ঐক্য ও সৌহার্দ্য গড়ে ওঠে, এই বার্তাই দেন হোল্ডার।

লেখক পরিচিতি

ক্রীড়াচর্চা হোক কাব্য-কথায়!

Share via
Copy link