‘পয়সা উসুল দুলাভাই’

৫০ স্ট্রাইকরেটের সেই ইনিংসটিই শেষ অবধি সিলেটকে নিয়ে গেছে ১৮০ রানের বেশ বড়সড় সংগ্রহের দিকে। একটি ওভারেই তিনি সিলেটের দর্শকদের বলতে বাধ্য করিয়েছেন, 'পয়সা উসুল দুলাভাই'।

তিন ছক্কা, দুই চার- নাসির হোসেনের এক ওভারেই মঈন আলীর ধ্বংসলীলা। বল হাতে নাসির এদিন ছিলেন দারুণ ছন্দে। কিন্তু সেই ছন্দকে এক লহমায় কুয়াশার ধূসর চাদরে লেপ্টে দিয়েছেন ইংলিশ অলরাউন্ডার। শ্বশুরবাড়ির দর্শকদের তিনি মাতিয়েছেন দারুণ আনন্দে।

সিলেট টাইটান্সের জার্সিতে এদিন ছয় নম্বর ব্যাটার হিসেবে এলেন মঈন। দলের রান ১৩৪। এরপর কি এক তাণ্ডব চালালেন তিনি! ইনিংসের ১৯ তম ওভারে নাসির আহমেদের হাতে বল তুলে দিলেন ঢাকা ক্যাপিটালসের অধিনায়ক মোহাম্মদ মিঠুন। এমন বেধম প্রহারের শিকার তার বোলার হবেন, সেটা হয়ত ঘুনাক্ষরেও তিনি টের পাননি।

কেননা আগের তিন ওভারে নাসিরের খরচা ছিল মাত্র সাত রান। একটি মেইডেন উইকেট ওভার দিয়ে দিনটা শুরু করেছিলেন নাসির। এমন বোলারের উপর ভরসা করা মোটেও ভুলের কিছু না। কিন্তু মঈন আলী সেই ভরসাকে পরিণত করলেন ভয়াল এক স্মৃতিতে। কাউ কর্ণারের উপর দিয়ে ছক্কা হাঁকিয়ে নাসিরকে বোলিং প্রান্তে স্বাগত জানান মঈন।

এরপর একটা ডাবলসে ব্যঘাত ঘটে বাউন্ডারির ধারায়। সেই কৃতীত্ব অবশ্য ফিল্ডার মোহাম্মদ সাইফের। তৃতীয় বলে বল আবার বাউন্ডারির ওপারে। এবার থার্ডম্যান অঞ্চল দিয়ে। চতুর্থ বলে আবার ছক্কা। এবার ঠিকানা ডিপ স্কোয়ার লেগ। এরপর আবার মিডউইকেট দিয়ে চার। শেষ বলটায় স্ট্রেইট ছক্কা হাঁকিয়ে নাসিরকে বিদায় জানান মঈন আলী।

নাসিরের শেষ ওভার থেকে মঈনের ধ্বংসলীলায় স্কোরবোর্ডে যুক্ত হয়েছে ছয় বলে ২৮ রান। মঈনের ইনিংস থেমেছে আট বলে ২৮ রান করে। ৩৫০ স্ট্রাইকরেটের সেই ইনিংসটিই শেষ অবধি সিলেটকে নিয়ে গেছে ১৮০ রানের বেশ বড়সড় সংগ্রহের দিকে। একটি ওভারেই তিনি সিলেটের দর্শকদের বলতে বাধ্য করিয়েছেন, ‘পয়সা উসুল দুলাভাই’।

লেখক পরিচিতি

রাকিব হোসেন রুম্মান

কর্পোরেট কেরানি না হয়ে, সৃষ্টি সুখের উল্লাসে ভাসতে চেয়েছিলাম..

Share via
Copy link