অ্যাশেজে স্টার্কের রাজত্ব, ব্যর্থতার ছায়া কার কাঁধে?

পাঁচ টেস্টজুড়ে যেখানে ইংলিশ শিবির ছিল দিশাহারা, সেখানে অস্ট্রেলিয়ান ড্রেসিংরুমে একের পর এক ব্যক্তিগত মাইলফলক গড়ে ওঠে। তবে এই সাফল্যের গল্পে যেমন আছে উজ্জ্বল নায়কদের নাম, তেমনি আছে প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ কিছু মুখও। চলুন, সিরিজে অংশ নেওয়া সব অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটারের পারফরম্যান্স এক নজরে দেখা যাক। 

২০২৫-২৬ মৌসুমের  ঐতিহাসিক অ্যাশেজ দ্বৈরথে ইংল্যান্ডকে কার্যত ৪-১ ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়ে আবারও ট্রফি  নিজেদের করে নেয় অস্ট্রেলিয়া। পাঁচ টেস্টজুড়ে যেখানে ইংলিশ শিবির ছিল দিশাহারা, সেখানে অস্ট্রেলিয়ান ড্রেসিংরুমে একের পর এক ব্যক্তিগত মাইলফলক গড়ে ওঠে।

তবে, এই সাফল্যের গল্পে যেমন আছে উজ্জ্বল নায়কদের নাম, তেমনি আছে প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ কিছু মুখও। চলুন, সিরিজে অংশ নেওয়া সব অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটারের পারফরম্যান্স এক নজরে দেখা যাক।

  • টপ অর্ডার

এই সিরিজে অস্ট্রেলিয়ার টপ অর্ডারের নেতৃত্ব দিয়েছেন ট্রাভিস হেড। ৬২.৯ গড়ে ৬২৯ রান করে তিনি ছিলেন দলের সর্বোচ্চ রানসংগ্রাহক। ৭২০ বল মোকাবিলা করে তিনটি শতক হাঁকান এই বাঁহাতি ব্যাটার।

অপরদিকে বিদায়ী সিরিজে খাজার অভিজ্ঞতার ঝলক খুব একটা দেখা যায়নি। অ্যাডিলেডে করা ৮২ রানের ইনিংসটি ছাড়া বাকি সময় তিনি ছিলেন ছায়ামাত্র। সাত ইনিংসে গড় দাঁড়ায় মাত্র ২৫.১৪।

জেক ওয়েদারাল্ডকে ঘিরেও ছিল আকাশসম প্রত্যাশা। তবে গাব্বায় করা ৭২ রান ছাড়া বাকি ইনিংসগুলোতে তিনি ছিলেন নিতান্তই নিষ্প্রভ। পুরো সিরিজে তাঁর সংগ্রহ ২০১ রান।

  • মিডল অর্ডার

চার টেস্টে অধিনায়কত্বের দায়িত্ব সামলানোর পাশাপাশি ব্যাট হাতেও দলের হাল ধরেন স্টিভ স্মিথ । আট ইনিংসে ২৮৬ রান, যার মধ্যে রয়েছে একটি শতক ও একটি অর্ধ শতক। গাব্বায় ৬১ এবং সিডনিতে ১৩৮ রানের ইনিংস দুটি অস্ট্রেলিয়ার জয়ের ভিত্তি গড়ে দেয়।

মার্নাস লাবুশেনকে দুই, তিন ও চার নম্বরে খেলতে দেখা গেছে। তিন নম্বরে তার গড় ছিল ৩৪.৫৭। সব মিলিয়ে ২৫৯ রান করলেও চারটি ইনিংসে এক অঙ্কে থেমে যাওয়ায় পারফরম্যান্সে ধারাবাহিকতা ছিল না।

সাত নম্বরে ব্যাট করে তিন ইনিংসে মোট ৬৫ রান করেন জশ ইংলিশ। গড় মাত্র ২১.৬৬। অপরদিকে ব্যাট হাতে দারুণ ছিলেন অ্যালেক্স ক্যারি। পাঁচ ম্যাচে ৩২৩ রান করে তিনি মিডল ও লোয়ার অর্ডারে দলের ভারসাম্য রক্ষা করেন।

  • অলরাউন্ডার

শেফিল্ড শিল্ডে দারুণ ফর্ম নিয়ে এলেও অ্যাশেজে সেই ছাপ রাখতে পারেননি ক্যামেরন গ্রিন। পাঁচ ম্যাচে মাত্র ১৭১ রান করেন তিনি। বল হাতেও নেন কেবলই চারটি উইকেট।

মাইকেল নেসার বল হাতে ছিলেন ভয়ংকর কার্যকর। ছয় ইনিংসে ১৫ উইকেট নিয়ে ইংল্যান্ড ব্যাটিংকে নড়বড়ে করে দেন নেসার। ব্যাট হাতেও চার ইনিংসে করেন ৭৫ রান।

মাত্র একটি ম্যাচ খেলেই নিজের উপস্থিতি জানান দেন বো ওয়েবস্টার। সেই ম্যাচে তিনটি উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি ব্যাট হাতে ৮৪ রান করেন।

চোটের কারণে পুরো সিরিজে খেলতে না পারলেও অ্যাডিলেড টেস্টে ফিরে এসে নেতৃত্বের ছাপ রাখেন কামিন্স। ১৭ ওভারে তিন উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি ব্যাট হাতে করেন ১৯ রান।

  • বোলার

এই সিরিজে অস্ট্রেলিয়ার আধিপত্যের মূল কারিগর ছিলেন মিচেল স্টার্ক। ১০ ইনিংসে ১৫৩ ওভার বোলিং করে ৩১টি উইকেট নেন তিনি। পুরো সিরিজে তার ইকোনমি রেট ছিল ৪.০৩।

স্টার্কের নিখুঁত সঙ্গী হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করেন স্কট বোল্যান্ড। ২০ উইকেট নিয়ে তিনি ছিলেন দলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি।

অভিষেকেই সম্ভাবনার জানান দেন ব্রেন্ডন ডগেট। প্রথম ম্যাচে পাঁচ উইকেট পেলেও ব্রিসবেনে কিছুটা নিষ্প্রভ ছিলেন। ইনজুরি ও কম ব্যবহারের মধ্যেও কার্যকর ছিলেন অভিজ্ঞ নাথান লায়ন। পার্থ ও অ্যাডিলেড, এই দুই ম্যাচে খেলেন তিনি। পার্থে মাত্র দুই ওভার, তবে অ্যাডিলেডে পাঁচ উইকেট। ৭৫ ওভারে ২.৮৫ ইকোনমি রেটই তাঁর নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের প্রমাণ।

 

লেখক পরিচিতি

ক্রীড়াচর্চা হোক কাব্য-কথায়!

Share via
Copy link