ম্যাককালাম আর ‘বাজবল’ দর্শন দুটোই হুমকির মুখে!

অনেক প্রত্যাশা আর আত্মবিশ্বাস নিয়ে বেন স্টোকসের নেতৃত্বাধীন দল অস্ট্রেলিয়ায় পা রাখলেও, সিরিজ শেষ হয়েছে পুরনো হতাশারই পুনরাবৃত্তি হয়ে। এই ব্যর্থতার কেন্দ্রে এসে দাঁড়িয়েছেন প্রধান কোচ ব্রেন্ডন ম্যাককালাম।

অনেক প্রত্যাশা আর আত্মবিশ্বাস নিয়ে বেন স্টোকসের নেতৃত্বাধীন দল অস্ট্রেলিয়ায় পা রাখলেও, সিরিজ শেষ হয়েছে পুরনো হতাশারই পুনরাবৃত্তি হয়ে। এই ব্যর্থতার কেন্দ্রে এসে দাঁড়িয়েছেন প্রধান কোচ ব্রেন্ডন ম্যাককালাম। শুরুতে বেন স্টোকসের সঙ্গে ম্যাককালামের বোঝাপড়া এবং ‘বাজবল’ দর্শন ইংল্যান্ড ক্রিকেটে এক নতুন প্রাণের সঞ্চার করলেও সময় গড়ানোর সাথে সাথে সেই উচ্ছ্বাস ফিকে হতে শুরু করে।

আধুনিক ক্রিকেটে একজন প্রধান কোচের মূল্যায়ন শেষ পর্যন্ত এসে ঠেকে ফলাফলের ওপর। দায়িত্বের শুরুতে কিছু উজ্জ্বল মুহূর্ত থাকলেও, সামগ্রিক চিত্রে ম্যাককালামের শাসনামলে ইংল্যান্ডের অর্জন খুব একটা সমৃদ্ধ নয়। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে ইংল্যান্ড কখনোই প্রকৃত শিরোপার দাবিদার হয়ে উঠতে পারেনি। ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে কোনো বড় সিরিজ জয়ও আসেনি।

ম্যাককালাম শাসনের আরেকটি বড় সমালোচনার জায়গা হলো নির্দিষ্ট প্লেয়ারদের ওপর আস্থা রাখা। কিন্তু তার ফল খুব একটা ইতিবাচক হয়নি। জ্যাক ক্রলি ও ওলি পোপের মতো ব্যাটাররা গুরুত্বপূর্ণ টপ অর্ডারে নিয়মিতভাবে খেলেও ধারাবাহিকতা দেখাতে ব্যর্থ হয়েছেন। বরং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাঁদের পারফরম্যান্সে অবনমনই চোখে পড়েছে।

বোলিং আক্রমণের চিত্রও উদ্বেগজনক। জেমস অ্যান্ডারসন ও স্টুয়ার্ট ব্রডকে সরিয়ে নতুন যুগ শুরুর চেষ্টা হলেও, পরিকল্পনা বাস্তবে সফল হয়নি। মার্ক উড ও জোফরা আর্চারের মতো ম্যাচজয়ীরা চোটের কারণে নির্ভরযোগ্য বিকল্প হয়ে উঠতে পারেননি। ফলে ব্রাইডন কার্স, জশ টাং ও ম্যাথিউ পটসের মতো তুলনামূলক অনভিজ্ঞ বোলারদের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়েছে।

এছাড়া হ্যারি ব্রুক ও শোয়েব বশিরের মতো প্রতিভা ঠিক কতটা সঠিকভাবে ব্যবহৃত হয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। একই সঙ্গে রেহান আহমেদ, জর্ডান কক্সের মতো সম্ভাবনাময় ক্রিকেটাররা দীর্ঘদিন ধরেই মূল দলে নিয়মিত সুযোগের অপেক্ষায়।

 

ইংল্যান্ড ক্রিকেট দল বরাবরই কিছুটা স্বাধীনচেতা মানসিকতার জন্য পরিচিত। তবে ম্যাককালামের অধীনে সেই স্বাধীনতা যে শৃঙ্খলার সীমা ছাড়িয়ে গেছে, তা এখন বলাই বাহুল্য।

সফরের মাঝপথে গলফ সেশন, রাতভর আড্ডা, এমনকি নেশাগ্রস্ত অবস্থায় বিতর্ক, এ ধরনের অপ্রত্যাশিত ঘটনার অভিযোগও এসেছে হরহামেশাই। সবচেয়ে বড় কথা, কোচ হিসেবে ম্যাককালাম খেলোয়াড়দের জন্য স্পষ্ট সীমারেখা টানতে ব্যর্থ হয়েছেন। যার প্রভাব সরাসরি মাঠের পারফরম্যান্সে পড়েছে।

এই বাস্তবতায় ইংল্যান্ড ও ইসিবির সামনে বড় চ্যালেঞ্জ এখন ম্যাককালাম কে সরিয়ে টেস্ট ক্রিকেটে নতুন করে ভিত্তি গড়ে দিতে পারে এমন একজন কোচের সন্ধান করা। যিনি শৃঙ্খলা, দায়বদ্ধতা ও বাস্তববাদী পরিকল্পনাকে আবারও ইংল্যান্ড ক্রিকেটের মূলে ফিরিয়ে আনতে পারবেন।

লেখক পরিচিতি

ক্রীড়াচর্চা হোক কাব্য-কথায়!

Share via
Copy link