একবার তোমায় দেখতে পাবো, এই নিশ্চয়তা টুকু পেলে বিদ্যাসাগরের মতো আমিও সাঁতরে পার হবো ভরা দামোদর। মহাদেব সাহার বিখ্যাত একটা কবিতার লাইন। এখানের প্রতিপাদ্য বিষয়টা ‘নিশ্চয়তা’। এই শব্দটায় যেন বদলে দিয়েছে পুরো চট্টগ্রাম রয়্যালসকে। ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি না দিলেও তারা এখন পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে। পেছনের কারণ, আগেই বলেছি ‘নিশ্চয়তা’।
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) কোনো অঘটন না ঘটায় যেন এক অস্বাভাবিক ঘটনা। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। ম্যাচের আগের দিন মালিকানা বদল হয় চট্টগ্রাম ফ্র্যাঞ্চাইজির। প্রতিপক্ষকে নিয়ে ছক কষার আগের দিনই, অনিশ্চয়তা শুষে নেয় কলমের কালি। বাধ্য হয়েই দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেয় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। অনেকেই তাই দলটির নাম দেয় ‘কমিটির টিম’।
অবশ্য দলটি নিয়ে ট্রলের সূচনা নাইম শেখকে ঘিরে। এক কোটি ১০ লাখ টাকা দিয়ে নিলাম থেকে তাঁকে নেওয়া বাড়াবাড়ি হিসেবেই ধরে ছিল সবাই। দলে ভালো মানের বিদেশি নেই। শেখ মেহেদী দলের ক্যাপ্টেন। বিদেশ থেকে উড়িয়ে আনা খেলোয়াড়দের নামই শোনেনি অনেকে। এমন সব সমালোচনা আর ট্রলের বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে মাঠের খেলায় নামতেই বদলে গেল সবকিছু। সাত ম্যাচে পাঁচ জয়, টুর্নামেন্টের সবচেয়ে ধারাবাহিক দল হয়েই এখন সবার শীর্ষে চট্টগ্রাম।

চট্টগ্রামের এই সাফল্যের অনেক কারণ অবশ্য রয়েছে। অন্যতম দলটির বোলিং আক্রমণ। এটাকে অন্তত হেসে উড়িয়ে দেওয়ার উপায় ছিল না। শরিফুল ইসলাম পরীক্ষিত নাম। প্রমাণও মিলেছে, ১৩ উইকেট শিকার করে আসরের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি তিনি। তানভির ইসলামকে নিয়ে দ্বিধা থাকার কথা কারও ছিল না। আর দলটির প্রাণভোমরা শেখ মেহেদী। ব্যাটে-বলে যেন সামনে থেকেই নেতৃত্ব দিচ্ছেন দলকে।
এছাড়াও মুকিদুল ইসলাম, আবু হায়দার রনিরা ঘরোয়াতে ধারাবাহিক পারফর্মার। সেই সঙ্গে যুক্ত হওয়া আমির জামালও হয়ে উঠেছেন দারুণ কার্যকর।
এত গেল বোলিংয়ের কথা, ব্যাটিংটাও যে কম শক্তিশালী নয়। চট্টগ্রামকে প্রথম ম্যাচে দেখার পর অনেকেই বলতে বাধ্য হয়েছিলেন, আর দুটো ভালো মানের ব্যাটার এলে এই দলটি চমক দেখাবে। এখানেই বাজিমাত করেছে এই দলটি। উড়িয়ে আনা হয়েছে অ্যাডাম রসিংটন নামের রান মেশিনকে।

নাইম শেখের সঙ্গে যিনি হয়ে উঠেছেন দলের ভিত গড়ার কারিগর। পাকিস্তানের সম্ভাবনাময় তারকা হাসান নওয়াজের সংযোজনটাও হয়ে উঠেছে ট্রাম্প কার্ড। এনসিএলের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক মাহমুদুল হাসান জয়ও পালন করছেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। আর শেখ মেহেদী তো পুরোদস্তুর অলরাউন্ডার বনে গেছেন।
সবচেয়ে বড় কথা, চট্টগ্রাম খেলছে একটা দল হয়ে। আত্মবিশ্বাস, একতা আর ড্রেসিংরুমের সুস্থ পরিবেশটাই ট্রলের শিকার হওয়া দলটিকে বানিয়েছে টেবিল টপার। তবে এর নেপথ্যে যে রয়েছে সেই নিশ্চয়তা। বিসিবির তত্ত্বাবধানে থাকায় পারিশ্রমিক ইস্যু নিয়ে কোনো চিন্তা করতে হচ্ছে না কাউকে। ফোকাস তাই সম্পূর্ণ মাঠের খেলায়। আর এভাবেই ধরা দিচ্ছে চট্টগ্রামের সাফল্য।
Share via:











