স্মৃতির পাতায় কখনো কখনো এমন কিছু গল্প লেখা হয়, যেখানে আবেগ আর বাস্তবতা এক বিন্দুতে এসে মিশে যায়। ভারতের বিপক্ষে ভাদোদরায় প্রথম ওয়ানডেতে নিউজিল্যান্ডের একাদশে নাম লেখানো আদিত্য অশোকের গল্পটাও ঠিক তেমনই। ভারতীয় মাটিতে জন্ম, অথচ ব্ল্যাকক্যাপস জার্সিতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট – দু’টি পরিচয়ের মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে এক তরুণ লেগ স্পিনারের উত্থানের কাহিনি।
তামিলনাড়ুর ভেলোরে জন্ম আদিত্য অশোকের। বয়স যখন মাত্র চার, তখন পরিবারের সঙ্গে নিউজিল্যান্ডে পাড়ি জমান তিনি। অকল্যান্ডেই কেটে যায় তাঁর বেড়ে ওঠার দিনগুলো।
ছোটবেলা থেকেই ক্রিকেটের প্রতি ঝোঁক, স্কুল ক্রিকেট আর স্থানীয় লিগে নিয়মিত খেলতে খেলতেই লেগ স্পিনে আলাদা ছাপ ফেলতে শুরু করেন আদিত্য। ধীরে ধীরে বোঝা যাচ্ছিল, এই তরুণের হাতে রয়েছে বিশেষ কিছু।

২০২০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ডের হয়ে খেলেন আদিত্য অশোক। সেখানেই তাঁর বোলিংয়ের আসল ঝলক দেখা যায়। বল ঘোরানোর ক্ষমতা, লেগ স্পিনের ধার আর ব্যাটসম্যানকে বিভ্রান্ত করার গুণ। ওই টুর্নামেন্টের পারফরম্যান্স তাঁকে ভবিষ্যতের ব্ল্যাক ক্যাপ হিসেবে চিহ্নিত করে দেয়।
এরপর অকল্যান্ডের হয়ে ঘরোয়া ক্রিকেটে নিয়মিত ভালো পারফরম্যান্সের সুবাদে জাতীয় দলের দরজা খুলে যায় তাঁর সামনে। ২০২৩ সালে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি – দুই ফরম্যাটেই নিউজিল্যান্ডের হয়ে আন্তর্জাতিক অভিষেক হয় আদিত্য অশোকের।
ক্যারিয়ারের গতি যখন ঠিকমতো ছন্দে, তখনই বাধা হয়ে দাঁড়ায় বড় ধরনের পিঠের অস্ত্রোপচার। ২০২৩ সালের শেষ দিকে সেই সার্জারির কারণে প্রায় এক বছর ক্রিকেটের বাইরে থাকতে হয় তাঁকে। মাঠের বাইরে কাটানো এই সময়টা ছিল মানসিক পরীক্ষার, তবে একই সঙ্গে তাঁকে আরও দৃঢ় ও পরিণত করে তোলে।

২০২৫ সালের শুরুতে আদিত্য অশোক যোগ দেন চেন্নাই সুপার কিংসের একাডেমিতে। ভারতের ভিন্নধর্মী পিচ ও কন্ডিশনে নিজের বোলিং ভিন্নতা নিয়ে কাজ করার সুযোগ পান তিনি। এই সময়টাই তাকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে মানিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতিকে আরও মজবুত করে এবং আইপিএলে খেলার স্বপ্নকে বাস্তব রূপ দেওয়ার আকাঙ্খা জাগিয়ে তোলে।
ব্ল্যাকক্যাপস জার্সি গায়ে এটিই আদিত্য অশোকের প্রথম ভারত সফর। প্রথম ওয়ানডেতে টসের পর নিউজিল্যান্ডের একাদশে তাঁর নাম থাকাটা বাড়তি আবেগ যোগ করেছে পুরো ঘটনায়। যেখানে তাঁর জন্ম, সেই দেশেই এবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজেকে প্রমাণ করার মঞ্চ।
ভারতীয় শিকড় আর নিউজিল্যান্ডের ক্রিকেটীয় পরিচয়ের মেলবন্ধনে দাঁড়িয়ে থাকা আদিত্য অশোক এখন ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে। অভিজ্ঞ ইশ সোধির ক্যারিয়ার যখন শেষের পথে, তখন সাদা বলের ক্রিকেটে নিউজিল্যান্ডের সম্ভাব্য ভরসা হিসেবেই ধীরে ধীরে নিজেকে তুলে ধরছেন এই তরুণ লেগ স্পিনার।











