নাহিদের গতির সামনে আত্মবিশ্বাসী আরিফুল!

নামজাদা সব ব্যাটাররা যেখানে ভড়কে যান নাহিদের সামনে সেখানে ২১ বছরের আরিফুল খেললেন আত্মবিশ্বাস নিয়ে। অবশ্য তাঁর সক্ষমতাও যে বিশ্বমানেরই। তাই তো নাহিদ-আরিফুলের ব্যাটেলটা হলো দেখার মতো, যেখানে জয়টা কেড়ে নিলেন আরিফুলই।

নাহিদ রানার ছোড়া বাউন্সার কিছুটা হকচকিয়ে দিল আরিফুল ইসলামকে। সেটা সাময়িক সময়ের জন্যই। পরের বলটাতে ক্লাসিক স্কয়ার কাট, আরিফুলের সামর্থের জানান দেওয়ার জন্য ওটাই যথেষ্ট। নামজাদা সব ব্যাটাররা যেখানে ভড়কে যান নাহিদের সামনে সেখানে ২১ বছরের আরিফুল খেললেন আত্মবিশ্বাস নিয়ে। অবশ্য তাঁর সক্ষমতাও যে বিশ্বমানেরই। তাই তো নাহিদ-আরিফুলের ব্যাটেলটা হলো দেখার মতো, যেখানে জয়টা কেড়ে নিলেন আরিফুলই।

একটু বল বাই বল দেখা খতিয়ে দেখা যাক। অষ্টম ওভারে আরিফুলের সাথে প্রথম দেখা নাহিদের। প্রথম বলটা নাহিদ ছুঁড়লেন ১৪২ কিলোমিটার গতিতে। আরিফুল সামলালেন আত্মবিশ্বাসের সাথেই। তবে পরের বলটা নাহিদ পরাস্ত করলেন বাউন্সার হাঁকিয়ে। পুরো বিপিএলেই যে ত্রাস ছড়াচ্ছেন  গতি দিয়ে।

আরিফুল নিজেকে সামলে নিলেন বিদ্যুৎ বেগে। প্রায় ১৪৭ গতিতে ধেয়ে আসা বলটাকে দৃষ্টিনন্দন স্কয়ার কাটে পরিণত করলেন চারে।  বলের কাছে গেলেন যেন মাখনের মাঝ দিয়ে ছুরি চালালেন। স্রেফ পিউর ক্লাস।

শেষ বলটা আবারও চিরচেনা লেন্থেই করলেন নাহিদ আরিফুলকে। আরিফুলও যেন তৈরি ছিলেন  আগে থেকেই। সামলে নিলেন দারুণ ভাবে। ওই চার বলে খেলে আদায় করলেন একটা চার। লড়াইটা হলো সমানে সমান।

আবারও হার্ড লেন্থে গতি দিয়ে শরিরের দিকে ছুড়লেন নাহিদ। প্রায় ১৪৫ গতিতে। আরিফুল লাফিয়ে এডজাস্ট করতে চাইলেন, তবে কিছুটা বেগ পেতে হলো তাঁকে। । পরেরটা প্রায়  ১৪৭ এ ছুড়লেন নাহিদ, তবে আরিফুল লেগ সাইডে ঠেলে দিয়ে আদায় করলেন একটা রান।

চতুর্থ বলে আবারও স্ট্রাইক এলো আরিফুলের হাতে। নাহিদের ১৪৫ কিলোমিটার গতিতে ছোড়া বলটাকে  তিনি খেললেন স্পেশাল ভাবে। ওভারের দ্বিতীয় বল, যেটাকে লেগসাইডে ঠেলে দিয়ে আদায় করেছিলেন সিঙ্গেল,  এবার সেটাকেই স্কুপের মতো করে পাঠালেন সিমানার ওপারে। একেবারে বলের উপর চোখ রাখলেন, লাইনে গিয়ে ছক্কা আদায় করলেন। ধারাভাষ্যকক্ষ দেখে ভেসে আসল শট অব দ্য ডে।

পরের নহিদ স্লোয়ার দিলেন, তবে আরিফুল আগেই পড়ে ফেললেন,  ডিফেন্স করলেন। কোন তাড়াহুড়ো নেই চোখেমুখে, কেবল দেখা গেল আত্মবিশ্বাস। ওভারে শেষ বলটা   কাভার অঞ্চল দিয়ে সপাটে চালাবোর চেষ্টা করলেন তবে ঠিকঠাক টাইমিং হল না  এলো এক রান।

এবার হিসাবটা টানা যাক। নাহিদের নয় বল খেলে আরিফুল আদায় করলেন ১১ রান। এক ছয়ের সাথে আছে এক চার। তবে এসব পরিসংখ্যানের অঙ্ক ছাপিয়ে একটা জিনিসই সামনে এলো, সেটা আরিফুলের মান।

ক্রিকেট পাড়ায় তাঁকে নিয়ে হৈচৈ কম হয় না। দিনের পর দিন বেঞ্চে বসে কাটাতে হয় তাঁকে সুযোগের অভাবে। তবে তিনি সুযোগ পেলে তা কাজে লাগাতে জানেন আরিফুল। প্রতিপক্ষের সেরা বোলারের বিরক্ষে চোখের কোনে জ্বল জ্বল করে ওঠে আত্মবিশ্বাস। এই আরিফুলকে বিশ্বমানের না বলে উপায় আছে কি?

লেখক পরিচিতি

প্রত্যয় হক কাব্য

স্বপ্ন লেখার কি-বোর্ড

Share via
Copy link