নিরাপত্তা প্রতিবেদন সিদ্ধান্ত নয়, সতর্কবার্তা

আইসিসির কোনো বড় টুর্নামেন্টের আগে স্বাগতিক দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা। এই কাজটি করে আইসিসির নিয়োগ দেওয়া একটি স্বাধীন নিরাপত্তা বিশ্লেষক দল। যার দায়িত্বে এখন আছেন নিরাপত্তা বিষয়ক পরামর্শক রেগ ডিক্যাসন।

তাঁর দল মাঠে নেমে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে একটি ‘ইন্টারনাল থ্রেট অ্যাসেসমেন্ট রিপোর্ট’ তৈরি করে, যা অংশগ্রহণকারী বোর্ডগুলোর কাছে পাঠানো হয়। স্বাগতিক দেশে দল পাঠানো কতটা নিরাপদ, সেটি বোর্ডগুলোকে বুঝতে সাহায্য করে এই প্রতিবেদন।

তবে, এখানে কী করা উচিত বা কী করা উচিত নয়, সে সিদ্ধান্ত দেওয়া হয় না; সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব পুরোপুরি সংশ্লিষ্ট বোর্ডের। সেই হিসেবেই বল এখন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) কোর্টে।

টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ সামনে রেখে আইসিসির এমনই একটি নিরাপত্তা প্রতিবেদনে বাংলাদেশ দলকে ঘিরে কিছু সম্ভাব্য ঝুঁকির কথা উঠে এসেছে, যা নিয়ে তোলপাড় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্য। এই রিপোর্টের কোথাও নিরাপত্তার কারণে মুস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দিতে বলা হয়নি। বলা হয়েছে — আইপিএল থেকে মুস্তাফিজকে বাদ দেওয়া নিয়ে যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, তাঁর উপস্থিতি নিরাপত্তা ইস্যু তৈরি করতে পারে। অর্থাৎ এটি কোনো নির্দেশনা নয়, বরং ঝুঁকির একটি ধারণা মাত্র।

আরও বলা হয়েছে, ভারতে বিশ্বকাপ চলাকালে বাংলাদেশি সমর্থকেরা যদি বাংলাদেশের জার্সি পরে প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করেন, তাহলে সেটি সমস্যার কারণ হতে পারে। অন্যদিকে, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ও ভারত-বাংলাদেশ রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রভাব বাংলাদেশ দলের ওপর পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হয়েছে। রিপোর্টে কোথাও বাংলাদেশকে ভারতে খেলতে না যাওয়ার সুপারিশ করা হয়নি, আবার যাওয়ার পক্ষেও কোনো নির্দেশ নেই।

এই জায়গাতেই বিষয়টি এসে দাঁড়িয়েছে বোর্ডের সিদ্ধান্তে। ঝুঁকি যেখানে আছে, সেখানে খেলতে না যাওয়াটাই যুক্তিসংগত—এমন মত দিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। তাঁর মতে, আইসিসির নিরাপত্তা দলের পর্যবেক্ষণ স্পষ্টভাবে দেখাচ্ছে যে বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারতে টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে যাওয়ার মতো অনুকূল পরিবেশ নেই।

উল্লেখ করার মত ব্যাপার হল, এই ইন্টারনাল থ্রেট অ্যাসেসমেন্ট রিপোর্ট তৈরি করেছে আইসিসির নিয়োগ করা স্বাধীন নিরাপত্তা বিশ্লেষক দল, যেখানে আইসিসির নিরাপত্তাবিশেষজ্ঞদের পাশাপাশি স্বাগতিক দেশের বিভিন্ন নিরাপত্তা সংস্থার প্রতিনিধিরাও যুক্ত থাকেন। অনেক সময় আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সংস্থারাও এতে ভূমিকা রাখে।

তাই বাংলাদেশ দলকে ঘিরে যে ঝুঁকির কথা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, সেগুলো নিয়ে ভারতের বিভিন্ন নিরাপত্তা সংস্থারও শঙ্কা থাকা অস্বাভাবিক নয়। তবে, এই রিপোর্টকে ভেন্যু পরিবর্তনের বিষয়ে আইসিসির আনুষ্ঠানিক অবস্থান ভেবে নেওয়াও ভুল। নিয়ম অনুযায়ী, এমন রিপোর্ট বিশ্বকাপ হোক বা অন্য কোনো বড় ইভেন্ট—আইসিসি সব বোর্ডকেই দিয়ে থাকে।

বিসিবিও স্পষ্ট করেছে, এটি মূলত আইসিসির নিরাপত্তা বিভাগের সঙ্গে তাদের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগের অংশ। এতে সম্ভাব্য ঝুঁকির ধারণা দেওয়া হয়েছে মাত্র, কিন্তু বাংলাদেশের ম্যাচ ভারতের বাইরে আয়োজনের বিষয়ে বিসিবির অনুরোধে আইসিসির কোনো চূড়ান্ত বা আনুষ্ঠানিক জবাব এখনও আসেনি।

Share via
Copy link