‘ব্যাটসম্যান হিসেবে চার-পাঁচ আমার জন্য আদর্শ পশিজন’। এভাবেই অকপটে নিজের অভিব্যক্তি জানিয়েছেন সাব্বির রহমান। নিজের ব্যাটিং পজিশন নিয়ে যে তিনি মোটেও সন্তুষ্ট নন, তা তার বক্তব্যেই স্পষ্ট। হওয়ার কথাও নয়। একাদশ বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগেও তার পারফমেন্স বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। কিন্তু দ্বাদশ বিপিএলে এসে সেই অর্থে তিনি নেই আলোচনার কেন্দ্রে।
তবে পারফরমেন্স যে সাব্বির করছেন না, তা বলবার উপায় নেই। এখন পর্যন্ত তিনি সাত ইনিংসে ব্যাটিং করেছেন। প্রতিটি ইনিংসেই অন্তত একটি করে ছক্কা হাঁকিয়েছেন সাব্বির রহমান। কিন্তু ব্যাটিং অর্ডারের একেবারে শেষ দিকে নেমে, খুব বেশি বল খেলার সুযোগ তার হচ্ছে না। যেখানে গত আসরে ১১৮ বল খেলেছেন তিনি নয় ইনিংসে, সেখানে এবার সাত ইনিংসে মাত্র ৮১টি বল মোকাবেলা করতে পেরেছেন এখন অবধি।
তার দল ঢাকা ক্যাপিটালসের ব্যাটিং অর্ডার পারফরম করতে পারছে না, তবুও সাব্বির সাত নম্বরে নেমেছেন অধিকাংশ ম্যাচে। এমনকি সিলেট পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে তো তিনি ব্যাটিং করতে নেমেছিলেন আট নম্বরে। সেই সময়টায় পরিস্থিতি থাকে ভীষণ বেগতিক। মাথার উপর থাকে রাজ্যের চাপ। সেই চাপ সামলে নিজের ইনিংসকে বড় করবার মত সুযোগ তার হয়ে ওঠেনি।

তবুও নিজের সামর্থ্যের প্রতিচ্ছবি তিনি ফেলে যাওয়ার আপ্রাণ চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছেন এবারের আসরে। ১৪৪.৪৪ স্ট্রাইকরেটে চলছে তার ব্যাট দ্বাদশ বিপিএলে। এর মধ্যে ছক্কা হাঁকিয়েছেন মোট ১১টি। চার মেরেছেন মোটে তিনটি। অথচ গতবছর তার স্ট্রাইকরেট ছিল ১৬০.১৬। বাউন্ডারির সংখ্যা ছিল সব মিলিয়ে ২৪টি। যার ১৮টি ছিল ছক্কা।
প্রথমে উইকেট বুঝতে দুই-এক বল খরচ করলেও পরে রানের সাথে বলের ফারাকটা ঠিকই বাড়িয়ে নিতে পেরেছিলেন সাব্বির। কিন্তু এবার সেই সুযোগটাও মিলছে না তার। সাত-আট নম্বরে একজন ব্যাটারকে ব্যাটিং করতে হয়, আস্কিং রানরেটের সাথে পাল্লা দিয়ে, সতীর্থ বোলারদের সঙ্গে নিয়ে। সে কাজে চাইলেই নিজের সাবলীল স্ট্রোকপ্লে করা সম্ভব হয়ে ওঠে না।
সেকারণেই নজর কাড়া পারফরমেন্স কিংবা বড় ইনিংস কোনটাই চোখে পড়ছে না সাব্বিরের কাছ থেকে। এ নিয়ে তার মনের ভেতর নিশ্চয়ই আক্ষেপ রয়েছে। তবে সেই আক্ষেপকে চেপে রেখে তিনি দলের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছেন। তাইতো যতটুকু সম্ভব দলকে সার্ভিস দিচ্ছেন সাত কিংবা আট নম্বরে ব্যাটিং করতে নেমে।

ঢাকা ক্যাপিটালসের অবস্থান পয়েন্ট টেবিলের পাঁচ নম্বরে। এখনও প্লে-অফ খেলার সম্ভাবনা শেষ হয়ে যায়নি বটে। কিন্তু বেঁচে থাকা সম্ভাবনা বাস্তব হওয়াও ভীষণ কঠিন। সাব্বিরকে আরেকটু উপরে খেলতে পাঠালে দৃশ্যপট ভিন্ন হলেও হতে পারত। কেননা ঢাকার মিডল অর্ডার যে একেবারেই নিষ্প্রভ। যে কারণেই পরাজয়ের দুষ্ট চক্র বহু কষ্টে এড়িয়েছে ঢাকা ক্যাপিটালস।











