২০২৬ সালের আইসিসি টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে সামনে রেখে বড় বিতর্কে জড়াল আয়োজক ভারত। পাকিস্তান–জন্ম ক্রিকেটারদের ভিসা জটিলতা নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিল ভারতের নিরপেক্ষতা, কূটনীতি ও আইসিসি ইভেন্ট আয়োজনের সক্ষমতা নিয়ে।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তান দল বিশ্বকাপ খেলতে ভারত যাবে না বলেই স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলেছে। বাংলাদেশ দলও ভারতে যেতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র দলের চারজন পাকিস্তান–জন্ম ক্রিকেটার ভারতীয় ভিসা পাননি।
অথচ, এর মধ্যেই বিশ্বকাপের স্কোয়াডে এখনো কানাডা, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান, নেদারল্যান্ডস, ইতালি ও জিম্বাবুয়ের মতো দলে অন্তত ১৫ জনের বেশি পাকিস্তান–জন্ম ক্রিকেটার রয়েছেন, যাদের অংশগ্রহণ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

এই প্রেক্ষাপটে আলোচনায় উঠে এসেছেন আলী খান। পাকিস্তানে জন্ম নেওয়া এই পেসার পুরো ক্যারিয়ারজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলেছেন এবং বর্তমানে তিনি একজন স্বীকৃত ইউএসএ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার। তবু শুধু জন্মস্থানের কারণে তাঁকে ভারতে ঢোকার ভিসা দেওয়া হয়নি।
বিষয়টি আরও বিস্ময়কর এই কারণে যে, এই আলী খানকেই ২০২০ সালে আইপিএলের নিলামে কলকাতা নাইট রাইডার্স দলে ভিড়িয়েছিল। যদিও সেবার মাঠে নামার সুযোগ পাননি, তবু তখন তাঁর পাকিস্তান জন্ম কোনো বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি।
তুলনা টানতে যেতে হবে আরও পেছনে। ২০১২ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের সাবেক অলরাউন্ডার আজহার মেহমুদ আইপিএলে খেলেছিলেন। মূল কারণ ছিল তাঁর ব্রিটিশ দ্বৈত নাগরিকত্ব। তিনি একজন প্রকৃত পাকিস্তানি ক্রিকেটার হওয়া সত্ত্বেও ভারতের মাটিতে খেলতে কোনো সমস্যায় পড়েননি। তখন বিষয়টিকে অনেকেই ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখেছিলেন।

কিন্তু সময় বদলেছে। ভারত–পাকিস্তান রাজনৈতিক সম্পর্কের অবনতি বাস্তবতা। তবু প্রশ্ন উঠছে—একজন মার্কিন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারকে শুধুমাত্র পাকিস্তানে জন্ম নেওয়ার কারণে ভিসা না দেওয়া কি যুক্তিসংগত? এটি কি সত্যিই দেশপ্রেম, নাকি নির্বাচনী স্টান্ট ও সুবিধালোভী দেশপ্রেম?
ক্রিকেটাররা মাঠে একে অপরের সঙ্গে হাত মেলাতে পারবেন না, অথচ রাজনীতিকদের কূটনৈতিক হাত মেলানো চলমান—এই দ্বিচারিতা নিয়েই ক্ষোভ বাড়ছে। ভারত নি:সন্দেহে ক্রিকেটের পরাশক্তি। কিন্তু, আলী খান বা বাংলাদেশের নিরাপত্তার ইস্যু-জনিত এই জাতীয় ঘটনায় বোর্ড ও সরকারের অবস্থান স্পষ্টভাবে দ্বিমুখী নীতির ইঙ্গিত দিচ্ছে। আইসিসির মতো বৈশ্বিক টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ যদি জন্মস্থানের ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়, তবে সেটি আন্তর্জাতিক ক্রীড়ানীতির পরিপন্থী।
এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠে আসছে—বর্তমান বাস্তবতায় ভারত কি সত্যিই একটি নিরপেক্ষ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক আইসিসি ইভেন্ট আয়োজনের জন্য প্রস্তুত? বিতর্ক যত বাড়ছে, বিশ্বকাপ আয়োজন নিয়ে সংশয়ও তত গভীর হচ্ছে।











