রোহিত শর্মার ঝড় কখনও থমকে যায়, বিরাট কোহলির আগ্রাসনও কখনও ফিঁকে হয়ে যায়। ঠিক তখনই দৃশ্যপটে হাজির হন এক বিরহী নটরাজ, যিনি আজকালকার স্যোশাল মিডিয়ার যুগে তেমন কোনো আলোচনার ঝড় তোলেন না। তিনি গ্ল্যামারের দুনিয়ার রশদ হন না।
কিন্তু, ব্যাট হাতে নেওয়া মাত্রই ভরসা যুগিয়ে যান। তিনি যতক্ষণ খেলেন ভারত আশায় বুক বাঁধে। বাইশ গজে তিনি স্বপ্ন আঁকেন। ব্যাট দিয়ে বলে দেন, এটা আমার সাম্রাজ্য। যতক্ষণ আমি আছি, ততক্ষণ ভয় নেই।
হ্যাঁ, লোকেশ রাহুলের ব্যাট এমনই অনন্ত যৌবনা। প্রিয়তমার চোখের কালিও এক সময় ম্লান হয়ে যায়। কিন্তু, লোকেশ রাহুলের ব্যাট ম্লান হয় না, তিনি কখনওই ক্ষান্ত দেন না, রণে ভঙ্গ দেন না। ওটা তাঁর ধাঁচেই নেই।

ব্যাট তাঁর তলোয়ার যেন, লাগামহীন পাগলা ঘোড়া নিয়ে তিনি ছুটে যান প্রতিপক্ষ বোলারদের বিপক্ষে। যেমনটা গেলেন রাজকোটে। রোহিত শর্মা বিরাট কোহলি যেদিন ম্লান হয়ে ফিরে গেলেন সাজঘরে, তখনই উজ্জ্বল আলোয় উদ্ভাসিত হল লোকেশ রাহুলের যুদ্ধংদেহী চরিত্র।
৯২ বল খেললেন, ১০২ রান করলেন। একদম শেষ অবধি টিকে থাকলেন ভারতের পতাকা হাতে, অভয় দিলেন। হাঁকালেন ১১ টি চার আর একটি ছক্কা। ১২২ ছুঁইছুই স্ট্রাইক রেটে পেয়ে গেলেন ক্যারিয়ারের অষ্টম সেঞ্চুরি। ভারত বোর্ডে জমা করল ২৮৭ রান।
শেষ চারটি ওয়ানডেতে দু’টো ফিফটি, একটা সেঞ্চুরি। ২০২৫ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ওয়ানডের শেষ ১০ ওভারে সবচেয়ে বেশি রান লোকেশের। তারপরও, বিরাট-রোহিতের সাম্রাজ্যে তারপরও লোকেশ রাহুলকে ঘিরে আলোচনা হয় সামান্যই।

তবুও এমন কিছু দিন আসে, যখন লোকেশ নিজেই সেনাপতির ভার বহন করেন নিজের কাঁধে। এক গাল হাসি দিয়ে তাঁর ব্যাটটা বলে, এই রক্ত সিংহাসনে আমার নামটা লিখে দাও।










