মাত্র সাত মাস। এর মধ্যেই ইতি টানল জাবি আলোনসো যুগ। সোমবার হঠাৎ করেই রিয়াল মাদ্রিদ জানিয়ে দিল, আর এগোচ্ছে না তারা। বাইরে থেকে যতই একে পারস্পরিক সিদ্ধান্ত বলা হোক না কেন, ক্লাবের অন্দরমহলের গল্প বলছে ভিন্ন কথা। বাস্তবে এই বিচ্ছেদের ভারটা আলোনসোর কাঁধেই বেশি পড়েছে।
এল ক্ল্যাসিকোর আগের রাতেও ক্লাব সূত্রে ইঙ্গিত ছিল, কোচ বদলের কোনো পরিকল্পনা নেই। কিন্তু ২৪ ঘণ্টা পার হওয়ার আগেই দৃশ্যপট পাল্টে যায়। স্প্যানিশ সুপার কাপের ফাইনালে বার্সেলোনার কাছে হারের পর সোমবার ভালদেবেবাসে ডাকা হয় আলোনসোকে। আলোচনার টেবিলে ছিল দলের ক্রমবর্ধমান সমস্যা, আর সেখান থেকেই ভাঙন।
স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম মার্কা জানায়, বৈঠকে রিয়াল মাদ্রিদ আলোনসোর কাছে স্পষ্ট অনুরোধ রাখে যে, দলের শারীরিক প্রস্তুতি সামাল দিতে আবার ফিরিয়ে আনতে হবে আন্তোনিও পিন্তুসকে। আলোনসোর অধীনে পিন্তুস কার্যত প্রথম দল থেকে বিচ্ছিন্ন ছিলেন। ‘হেড অব পারফরম্যান্স’ নামের এক পদে বসানো হলেও বাস্তবে সেই ভূমিকার সঙ্গে মাঠের কোনো সংযোগ ছিল না।

আলোনসো দায়িত্ব নেওয়ার সময় বায়ার লেভারকুজেন থেকে নিজের লোকজন এনেছিলেন। ক্লাবের শীর্ষ কর্তারা মনে করতেন, আলোনসোর কৌশলগত চাপ ও ট্রেনিংয়ের ধরন খেলোয়াড়দের মানসিক ও শারীরিকভাবে নিঃশেষ করে দিচ্ছে। ফিটনেসে দৃশ্যমান উন্নতি না হওয়াটাও ছিল বড় অভিযোগ।
কিন্তু আলোনসোর কাছে নিজের কোচিং স্টাফে হস্তক্ষেপ ছিল অগ্রহণযোগ্য। যার ফলস্বরূপই এখন দেখা মিললো বিচ্ছেদের। আবার আলভারো আরবেলোয়া অন্তর্বর্তী দায়িত্ব নেওয়ার এক ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে পিন্তুস আবার প্রথম দলের ফিটনেস কোচ হিসেবে কাজে ফেরেন।
ডিসেম্বরের শুরুতে সেলতা ভিগোর কাছে অপ্রত্যাশিত হার ছিল প্রথম বড় ধাক্কা। তারপর ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে পরাজয়। যদিও এর মাঝেই টানা পাঁচ ম্যাচে জয় তুলে নেন আলোনসো। তবে সেলতার বিপক্ষে সেই পরাজয়ের পর থেকেই ক্লাবের শীর্ষ মহলে আস্থার ভিত নড়বড়ে হয়ে যায়। কর্তারা শুধু জয় নয়, মাঠের উন্নতি দেখতে চেয়েছিলেন।

আলোনসোর বিদায়ের পেছনে আরেকটি বড় কারণ ছিল খেলোয়াড়দের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন। শুরুটা ভিনিসিয়ুস জুনিয়রকে ঘিরে।
ফর্ম হারানো এই ব্রাজিলিয়ানকে যেভাবে সামলানো হয়েছে, তাতে ক্লাব সন্তুষ্ট ছিল না। ফেদে ভালভার্দেসহ আরও কয়েকজনের সঙ্গে মতবিরোধ তৈরি হয়। ধীরে ধীরে ড্রেসিংরুমের আবহ হয়ে ওঠে ভারী।
সবশেষে বার্সেলোনার বিপক্ষে ৩-২ গোলের হার যেন সবকিছুরই সারসংক্ষেপ হয়ে দাঁড়ায়। আর সেখানেই শেষ হয়, মাত্র সাত মাসের এক উচ্চাকাঙ্ক্ষী কিন্তু অসম্পূর্ণ অধ্যায়।











