আগুন লেগে গেছে। বিগ ব্যাশে মাঠের সামান্য ‘সিঙ্গেল’ না নেওয়া থেকেই যে বড় উত্তেজনার জন্ম হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ান গণমাধ্যম জানিয়েছে, বাবর আজম ও স্টিভ স্মিথের মধ্যে মাঠের ঘটনার রেশ গিয়ে পৌঁছায় ড্রেসিংরুম পর্যন্ত, যেখানে পরিস্থিতি হয়ে ওঠে বেশ তিক্ত।
বলা হচ্ছে, ঘটনার সূত্রপাত বাবর আজমের দিক থেকেই। স্টিভ স্মিথ বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে এগিয়ে গেলে বাবর নাকি বিরক্ত হয়ে তাঁকে সরিয়ে দেন, যা মুহূর্তের মধ্যেই পরিবেশকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে। এরপর বাবর পুরোপুরি কথা বলতে অস্বীকার করেন স্টিভ স্মিথের সঙ্গে।
ড্রেসিংরুমে তাঁকে নাকি ভীষণ আবেগপ্রবণ অবস্থায় দেখা যায়, এমনকি চোখের জলও ফেলেন তিনি। সতীর্থরা তাঁকে শান্ত করার চেষ্টা করলে বাবর জানান, হাজার হাজার দর্শকের সামনে তিনি নিজেকে অপমানিত ও অসম্মানিত বোধ করেছেন। একজন আন্তর্জাতিক তারকা হিসেবে তিনি সম্মান পাওয়ার যোগ্য এবং অস্ট্রেলিয়ায় এসেছেন সম্মান অর্জনের জন্য, অপদস্থ হওয়ার জন্য নয়—এমন অনুভূতির কথাই নাকি তিনি প্রকাশ করেন।

অন্যদিকে, স্টিভ স্মিথ পুরো বিষয়টি শান্তভাবে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করছিলেন বলেই জানা গেছে। তাঁর দাবি ছিল, সিদ্ধান্তটি কোনোভাবেই অসম্মানের নয়, পুরোপুরি কৌশলগত। সিডনি সিক্সার্স দলের এক ক্রিকেটারের বরাতে জানা যায়, ওই ওভারে বাবর আগেই তিনটি ডট বল খেলেছিলেন এবং ব্যাটে ঠিকমতো বল পাচ্ছিলেন না। সেই কারণেই রান নেওয়ার ঝুঁকি না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এদিকে এই ঘটনার পর বাবর আজমের পক্ষ থেকে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) ও বিগ ব্যাশ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করার সম্ভাবনার কথাও শোনা যাচ্ছে। এমনকি গুঞ্জন আছে, পরিস্থিতি যদি আরও জটিল হয়, তাহলে তিনি মাঝপথেই বিগ ব্যাশ ছেড়ে দেশে ফিরে আসতে পারেন আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রস্তুতি শুরু করার জন্য।
সব মিলিয়ে সম্মান বনাম কৌশল—এই বিতর্কে এখন ক্রিকেট দুনিয়া দুই ভাগে বিভক্ত। এই ঘটনায় প্রশ্ন উঠছে, মাঠের সিদ্ধান্ত আর একজন তারকার আত্মসম্মানের সীমারেখা ঠিক কোথায়? ক্রিকেটে তো দলীয় চাহিদারই সবার আগে স্থান পাওয়া উচিৎ।











