বিরাট কোহলি যেন মাঠেই নামেন ইতিহাসের পাতা পরিমার্জন করতে। ক্যারিয়ারের গোধুলিলগ্নে এসেও তিনি মাঠে নামছেন, ব্যাট হাতে শাসন করছেন। সবশেষ সাতটি ওয়ানডে ম্যাচে ছয়টি পঞ্চাশোর্ধ ইনিংস। তিনটি শতক। ইন্দোরে নিউজিল্যান্ড সিরিজের তৃতীয় ওয়ানডেতে ১২৪ রানের দুর্দান্ত ইনিংসের সুবাদে তিন নম্বর পজিশনে অস্ট্রেলিয়ান কিংবদন্তি রিকি পন্টিংকে টপকে গেলেন বিরাট।
নিউজিল্যান্ডের ৩৩৭ রানের জবাবে ৭১ রানেই চার উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় স্বাগতিকরা। ঠিক তখনই দৃঢ়তার প্রতীক হয়ে দাঁড়ান কোহলি। দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে বাঁচিয়ে রেখেছিলেন ভারতের আশা, পাশাপাশি তুলে নেন নিজের ক্যারিয়ারের ৫৪তম ওয়ানডে শতক।
এই ইনিংসের মধ্য দিয়েই কোহলি ছুঁয়ে ফেলেন এক ঐতিহাসিক উচ্চতা। ওয়ানডেতে তিন নম্বর পজিশনে ব্যাটিং করে তাঁর মোট রান এখন ১২,৬৬২। যা রিকি পন্টিংয়ের ১২,৬৫৫ রানকে ছাড়িয়ে গেছে। ফলে এই পজিশনে ওয়ানডে ইতিহাসের সর্বোচ্চ রানসংগ্রাহক এখন বিরাট কোহলি।

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তাঁর শতকসংখ্যাও নতুন রেকর্ড ছুঁয়েছে। মাত্র ৩৬ ইনিংসে সাতটি ওয়ানডে শতক করে কিউইদের বিপক্ষে সর্বোচ্চ সেঞ্চুরির মালিক এখন কোহলি। রিকি পন্টিং ও বীরেন্দের শেবাগ দুজনেরই রয়েছে ছয়টি করে শতক।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এটি ছিল তাঁর ৮৫তম শতক, ওয়ানডেতে ৫৪তম, ভারতের মাটিতে ৪১তম এবং নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সপ্তম। এখন পর্যন্ত পাঁচটি আলাদা দলের বিপক্ষে তাঁর সাত বা তার বেশি ওয়ানডে শতক রয়েছে। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ১০টি, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৯টি, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৮টি এবং দক্ষিণ আফ্রিকা ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৭টি করে।
কোহলি যতক্ষণ ক্রিজে ছিলেন, ততক্ষণই ম্যাচে ভারতের সম্ভাবনা বেঁচে ছিল। শেষ পর্যন্ত ১০৮ বলে ১২৪ রান করে আউট হওয়ার পর ভারতের রান তাড়া কার্যত থেমে যায়। অন্যান্য ব্যাটারদের ব্যর্থতায় যদিও ম্যাচের ফল ভারতের পক্ষে যায়নি, তবু কোহলির এই ইনিংস মনে করিয়ে দিল – চাপের মুখে এখনও তিনিই ভরসার সবচেয়ে বড় নাম।











