বাংলাদেশের পায়ের নিচে মাটি শক্ত নয়

শেষ অবধি বাংলাদেশ দল বিশ্বকাপ খেলতে পৌঁছায়, তবে এদফা খেলোয়াড়দের দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের অংশগ্রহণ নিয়ে শঙ্কার মেঘ এখনও ঘনিভূত হয়ে আছে দেশের ক্রিকেটে। আর সেই শঙ্কাকে তাচ্ছিল্যের সুরে অবজ্ঞা করে যাচ্ছে ভারতীয় কিংবদন্তি সাবেক ক্রিকেটাররা, কিন্তু কেন?

কারণটা খুবই স্পষ্ট, ওয়ানডে ফরম্যাটে বাংলাদেশ দল যতটা ‘থ্রেট ক্রিয়েট’ করতে সক্ষম, তার সিকিভাগও তার করে দেখাতে পারেনি টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের বৈশ্বিক আসরগুলোতে। এখন পর্যন্ত হওয়া নয়টি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছে বাংলাদেশ। বিশ্বকাপের মঞ্চে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সাফল্য তিনটি জয়।

এই সাফল্যকে অগ্রাহ্য বা অবজ্ঞা বা আড়াল করা খুবই সহজ। বাংলাদেশ দল নিজেদের জন্য সমীহ সৃষ্টি করতে পারেনি প্রতিপক্ষের মনে। নিজেদের খেলা ৪৫টি ম্যাচের ৭১ শতাংশ ম্যাচই হেরেছে বাংলাদেশ। কেবল ১২টি ম্যাচে জয়লাভ করতে সক্ষম হয়েছে, ৩২ খানা পরাজয়ের বিপরীতে।

এই ১২ জয়ের মধ্যে শুধু দু’টো ম্যাচে বাংলাদেশ জিততে পেরেছে চ্যাম্পিয়ন বা উপরের সারির দলের বিপক্ষে। প্রথম আসরে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। এরপর ২০২৪ সালে এসে ট্রাঞ্জিশন পিরিয়ডে থাকা শ্রীলঙ্কাকে হারাতে সক্ষম হয় বাংলাদেশ। এছাড়া বাকি দশটি জয়ের তিনটি নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে, দুইটি করে জয় আছে নেপাল এবং ওমানের বিরুদ্ধে। তাছাড়া একটি করে জয় পেয়েছে আফগানিস্তান, জিম্বাবুয়ে ও পাপুয়া নিউ গিনির বিপক্ষে।

এই যখন দশা, তখন স্বাভাবিকভাবেই বাংলাদেশকে মাইনাস করার প্রসঙ্গে দ্বিধার জায়গাটা কম। এমনকি ব্যক্তিগত নৈপুন্য দেখানোর ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা থাকেন পিছিয়ে। ১৯টি পঞ্চাশোর্ধ ইনিংস খেলেছেন বাংলাদেশি ব্যাটাররা। এর মধ্যে একটিমাত্র সেঞ্চুরি এসেছে তামিম ইকবালের ব্যাট থেকে, তাও আবার সহযোগী দেশ ওমানের বিরুদ্ধে। দুই বা ততোধিক পঞ্চাশোর্ধ ইনিংস খেলেছেন স্রেফ সাকিব আল হাসান, চারটি।

অন্যদিকে উইকেট শিকারির তালিকাতেও শীর্ষস্থানে রয়েছে ওই সাকিব আল হাসান। ৫০টি উইকেট রয়েছে তার ঝুলিতে। অন্যদিকে ফাইফারের দেখা পেয়েছেন একমাত্র মুস্তাফিজুর রহমান। সাকিবের অবশ্য একাধিক চার উইকেট নেওয়ার দৃষ্টান্ত রয়েছে। তবুও বড় বড় দলগুলোর তুলনায় এমন ব্যক্তিগত পারফরমেন্স পার্থক্য সৃষ্টিতে খুব একটা প্রভাব ফেলতে পারে না।

তাইতো কোনরকম দ্বিধা ছাড়াই ভারতের সাবেক খেলোয়াড়রা হুঙ্কার ছেড়ে বাংলাদেশকে বাদ দেওয়ার কথা বলে দেয়। শেষ অবধি বাংলাদেশ দল বিশ্বকাপ খেলতে পৌঁছায়, তবে এদফা খেলোয়াড়দের দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নতুবা সহজেই ‘মাইনাস’ করার মানসিক বলয়েই রয়ে যাবে বাংলাদেশ।

লেখক পরিচিতি

রাকিব হোসেন রুম্মান

কর্পোরেট কেরানি না হয়ে, সৃষ্টি সুখের উল্লাসে ভাসতে চেয়েছিলাম..

Share via
Copy link