অবশেষে হাত মেলালো ভারত-পাকিস্তান

জাতীয় দল কিংবা অন্যান্য দলকে কেন্দ্র করে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে ম্যাচ পরবর্তী করমর্দন না করে নিয়ে যেই বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে, সেই জোয়ারেই যেন স্রোতের বিপরীতে গা ভাসালেন মালিক-পাঠানরা।

সৌদি আরবের জেদ্দায় ওয়ার্ল্ড ক্রিকেট ফেস্টিভালের ভারত-পাকিস্তান ম্যাচটি কেবল একটি ফলাফলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। ভারত-পাকিস্তান ক্রিকেটের দীর্ঘদিনের উত্তেজনার আবহে ম্যাচ শেষে এক সৌহার্দ্যপূর্ণ দৃশ্য নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

পাকিস্তানের জয়ের পর সাবেক ভারতীয় পেসার ইরফান পাঠান ও অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার শোয়েব মালিক একে অপরকে আলিঙ্গন করে ক্রীড়াসুলভ আচরণের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।

ম্যাচ শেষে দেখা যায়, দুই দলের ক্রিকেটাররা করমর্দন ও সৌজন্য বিনিময় করছেন। সেই মুহূর্তেই ইরফান ও মালিকের আলিঙ্গন যেন মাঠের বাইরের গল্পটিকে আরও গভীর করে তোলে।

ভারত-পাকিস্তান ক্রিকেট মানেই স্বাভাবিকভাবেই উত্তেজনা, বিতর্ক আর শীতল সম্পর্কের ইতিহাস। বিশেষ করে ২০২৫ সালের এশিয়া কাপে ভারতের অধিনায়ক সুরিয়াকুমার যাদবের পাকিস্তানের সালমান আলি আগার সঙ্গে করমর্দন এড়িয়ে যাওয়া ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল।

সেই টুর্নামেন্টে গ্রুপ পর্ব থেকে শুরু হয়ে সুপার ফোর পেরিয়ে ফাইনাল পর্যন্ত টানটান উত্তেজনা ছিল চোখে পড়ার মতো। ফাইনালে ভারত জয় পেলেও পিসিবি চেয়ারম্যান ও এসিসি প্রেসিডেন্ট মহসিন নকভির কাছ থেকে ব্যক্তিগতভাবে ট্রফি গ্রহণ না করায় বিতর্ক আরও ঘনীভূত হয়।

এ ধরনের সৌজন্য এড়িয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছিল নারী বিশ্বকাপের ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ এবং হংকং সুপার সিক্সেসের মতো আসরগুলোতেও। পরিস্থিতি আরও জটিল হয় যখন ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপ অব লিজেন্ডসের দ্বিতীয় মৌসুমে পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলতেই অস্বীকৃতি জানায় ভারত। গ্রুপ পর্ব ও সেমিফাইনাল, দুই পর্যায়েই।

এই পটভূমিতে জেদ্দার ম্যাচের দৃশ্য যেন ভিন্ন এক বার্তা দেয়। মাঠের লড়াইয়ে পাকিস্তানই ছিল এগিয়ে। প্রথমে ব্যাট করে চার ওভারে ৪ উইকেটে ৫৬ রান তোলে তারা। শোয়েব মালিকের ঝড়ো ৩৪ রানের ইনিংসের সঙ্গে ইমরান নাজিরের ১৬ রান দলকে শক্ত ভিত দেয়। জবাবে ভারত চার ওভারে ৪ উইকেটে ৫১ রানেই থেমে যায়।

ম্যাচ শেষে দুই দেশের খেলোয়াড়দের মধ্যে করমর্দন এখন ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিচ্ছে। জাতীয় দল কিংবা অন্যান্য দলকে কেন্দ্র করে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে ম্যাচ পরবর্তী করমর্দন না করে নিয়ে যেই বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে, সেই জোয়ারেই যেন স্রোতের বিপরীতে গা ভাসালেন মালিক-পাঠানরা।

 

লেখক পরিচিতি

ক্রীড়াচর্চা হোক কাব্য-কথায়!

Share via
Copy link