দু’হাত গগন পানে উঁচিয়ে ধরে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব জানান দিলেন তানজিদ হাসান তামিম। তার আগে তিনি হাওয়া ভেসে ছিলেন খানিকক্ষণ। নিজেকে ওই সাত আসমান উপরেই তো তিনি কল্পনা করছিলেন। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের ফাইনালে সেঞ্চুরি হাঁকালেন তামিম। তিন ব্যাটারের সংক্ষিপ্ত তালিকায় তিনি সর্বশেষ সংযোজন। এমন কীর্তি কি আর চাট্টিখানি কথা!
বড় মঞ্চে পারফরম করেন না তানজিদ হাসান তামিম। নিজের গায়ে লেপ্টে থাকা এই কালিমা মুছে ফেলার জন্য তিনি বেছে নিলেন দ্বাদশ বিপিএলের ফাইনালকে। রানের অবারিত ধারায় উৎস বনে গেলেন তিনি। দৃঢ় প্রত্যয়ে রাজশাহী ওয়ারিয়ার্সকে চ্যাম্পিয়ন বানানোর ভীতটা গড়ে দিয়ে গেলেন তিনি।
৬২ বলে ১০০ রানের ইনিংসটিতে এসেছে রাজশাহীর সিংহভাগ সংগ্রহ। এবারের বিপিএলের শেষ অধ্যায়ে তিনি জুড়ে নিয়েছেন শতক ছোঁয়ার আনন্দ। এর আগে এই পুরো আসরে স্রেফ একবারই তিনি ফিফটির গণ্ডি পেরিয়েছিলেন। ফর্মে ছিলেন না- সেটা যে কেউ বলে দেবে অকপটে। তবে নিজের সামর্থ্যের সবটুকু রসদ তিনি জমিয়ে রেখেছিলেন ফাইনালের জন্য।

চট্টগ্রাম রয়্যালস প্রথয়ে বোলিং নিয়ে চাপে ফেলতে চেয়েছিল রাজশাহীকে। কিন্তু সেই চাপ কখনোই রাজশাহীর বুকে বোঝা হতে দেননি তানজিদ তামিম। একটা প্রান্ত ধরে রেখে নিজের স্বভাবজাত আক্রমণাত্মক ক্রিকেটটাই তিনি খেলে গেছেন। মিরপুরের এদিনের উইকেটে টার্ন ছিল, সাথে ছিল বাউন্সও। এখানে খুব বেশি আগ্রাসী হওয়া ছিল না বাস্তবসম্মত।
তবুও তানজিদ ব্যাট চালিয়েছেন ১৬১ এর বেশি স্ট্রাইকরেটে। সাত খানা বিশাল ছক্কা মেরেছেন তামিম। শতকের ইনিংসটিকে তিনি ছয়টি চারেও করেছেন সুসজ্জিত। এর মধ্য দিয়ে ক্রিস গেইল ও তামিম ইকবাল খানের পর, তৃতীয় ব্যাটার হিসেবে বিপিএলের ফাইনালে সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছেন তানজিদ তামিম।
এছাড়া বাংলাদেশী খেলোয়াড়দের মধ্যে সর্বোচ্চ ৩টি সেঞ্চুরির মালিকও বনে গেছেন তিনি। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ খেলতে যাবে কি-না, সে উত্তর আছে সময়ের কাছে। কিন্তু যদিও যায় এই সেঞ্চুরির আত্মবিশ্বাসের ভর দিয়ে, তানজিদ তামিম নিশ্চয়ই চাইবেন নিজের সকল ব্যর্থতা মুছে, বড় মঞ্চেও জ্বলে উঠতে।












