দ্বাদশ বিপিএলের সেরা একাদশে বাংলাদেশিদের জয়জয়কার

চলুন দেখে নেওয়া যাক এবারের বিপিএলের সেরা একাদশ। খেলা ৭১ এর চোখে এবারের সেরা একাদশে বাংলাদেশী খেলোয়াড়দের দাপটই বেশি। স্থান পেয়েছেন মোটে দুই বিদেশি।

আন্দোলনের মুখে থমকে যাওয়া, একেবারেই বিতর্কমুক্ত হতে না পারা, চট্টগ্রাম পর্ব না হওয়া- এসব কিছুর মিশেলে অবশেষে শেষ হল দ্বাদশ বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ। প্রত্যাশা অনুযায়ী রাজশাহী ওয়ারিয়ার্সই জিতেছে শিরোপা। সঠিক পরিকল্পনার ফলাফল পেয়েছে দলটি।

দ্বাদশ বিপিএলের পর্দা নেমেছে, অপেক্ষা এখন ত্রয়োদশ বিপিএলের। তার আগে চলুন দেখে নেওয়া যাক এবারের বিপিএলের সেরা একাদশ। খেলা ৭১ এর চোখে এবারের সেরা একাদশে বাংলাদেশী খেলোয়াড়দের দাপটই বেশি। স্থান পেয়েছেন মোটে দুই বিদেশি।

  • তানজিদ হাসান তামিম (রাজশাহী ওয়ারিয়ার্স)

ফাইনালে রেকর্ড গড়া সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছিলেন তানজিদ হাসান তামিম। তার দলকে শিরোপা জয়ের ভীত গড়ে দিয়েছিলেন তিনি একাই। পুরো টুর্নামেন্টে প্রত্যাশা মাফিক পারফরম করতে না পারলেও, বড় ম্যাচে ঠিকই জ্বলে উঠেছে তার ব্যাট। উত্থান-পতনে মধ্য দিয়ে গিয়েও ৩৫৬ রান ঠিকই জড়ো করেছেন তিনি। হাঁকিয়েছেন টুর্নামেন্টের যৌথ সর্বোচ্চ ছক্কা, ১৯টি। ১৩৬.৩৯ স্ট্রাইকরেটকে মন্দ বলবার উপায় নেই।

  • তাওহীদ হৃদয় (রংপুর রাইডার্স)

এবারের বিপিএলের শুরুতে সেই অর্থে ছন্দে ছিলেন না তাওহীদ হৃদয়। কিন্তু যেই মুহূর্তে তাকে ওপেনিংয়ে পাঠানো হল, সেই মুহূর্ত থেকেই এক ভিন্ন হৃদয়ের আবির্ভাব ঘটে বিপিএলের মঞ্চে। সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছেন তিনি ওপেনিং পজিশনে। ১৩৭.৯০ স্ট্রাইকরেটে টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক তিনি। তার নামের পাশে আছে ৩৮২ রান। এক সেঞ্চুরি ছাড়াও আরও তিনটি অর্ধশতক এসেছে তার ব্যাট থেকে।

  • নাজমুল হোসেন শান্ত (রাজশাহী ওয়ারিয়ার্স)

দ্বাদশ বিপিএলের সেরা একাদশের অধিয়ানক নাজমুল হোসেন শান্ত ব্যতীত অন্য কাওকে বানানো অসম্ভব। সেঞ্চুরির ঝঙ্কারে তিনি পর্দা তুলেছিলেন এবারের বিপিএলের। ধারাবাহিকভাবে রান করে গেছেন তিনিও। দলের অ্যাঙ্কর হিসেবে ১৩৫.৪৯ স্ট্রাইকরেটে ৩৫৫ রান এসেছে শান্তর ব্যাট থেকে। এছাড়াও বলিষ্ঠ নেতৃত্বে তিনি রাজশাহী ওয়ারিয়ার্সকে জিতিয়েছেন শিরোপা।

  • পারভেজ হোসেন ইমন (সিলেট টাইটান্স)

টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক পারভেজ হোসেন ইমন। এবারের বিপিএলে চার নম্বরে ব্যাটিং করেও হয়েছেন সফল। তামিমের সাথে পাল্লা দিয়ে তিনিও হাঁকিয়েছেন ১৯টি ছক্কা। এছাড়া ১৩২.৯৯ স্ট্রাইকরেটে ৩৯৫ রান করেছেন তিনি। সিলেটকে ফাইনালের তোলার চেষ্টা করে শেষ অবধি ব্যর্থ হয়েছেন। তবুও তার পারফরমেন্সকে অগ্রাহ্য করবার তো আর কোন উপায় নেই। তিনটি ফিফটি এসেছে তার ব্যাট থেকে।

  • মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ (রংপুর রাইডার্স)

সেরা একাদশে পাঁচ নম্বর ব্যাটার হিসেবে ভাবনাতে ছিলেন মুশফিকুর রহিমও। কিন্তু পারফরমেন্সের ইম্প্যাক্ট বিবেচনায় মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ পেয়েছেন সুযোগ। কেননা রংপুর রাইডার্সের উত্থান-পতনের সফরে টানা দুই ম্যাচে রিয়াদ হয়েছিলেন ম্যাচ সেরা, জিতিয়েছিলেন ম্যাচ। আট ইনিংসে ১৩৫.৫০ স্ট্রাইকরেটে ১৮৭ রান সংগ্রহ করেছেন অভিজ্ঞ রিয়াদ।

  • খুশদিল শাহ (রংপুর রাইডার্স)

টপ অর্ডারদের পারফরমেন্সের ভীড়ে, লোয়ার মিডল অর্ডার বেশ ভালভাবে সামলাতে পেরেছেন খুব কম সংখ্যক খেলোয়াড়। তাদেরই একজন খুশদিল শাহ জায়গা করে নিয়েছেন সেরা একাদশে। ইম্প্যাক্টফুল অলরাউন্ডার হিসেবেই তিনি স্থান করে নিয়েছেন। রংপুর রাইডার্সের জার্সিতে ১১ ইনিংসে ১৪৮.৭০ স্ট্রাইকরেটে ২২৯ রান সংগ্রহ করেছেন তিনি। এছাড়াও বল হাতে ৬.৮৪ ইকোনমিতে বাগিয়েছেন চারটি উইকেট।

  • শেখ মেহেদী হাসান (চট্টগ্রাম রয়্যালস)

চট্টগ্রাম রয়্যালস দলটাকে ঘিরে ছিলে সংশয়। সেই দলটাকে এক সুতোয় বেঁধে ফাইনাল অবধি তুলেছেন শেখ মেহেদী হাসান। দলনেতা হিসেবে ব্যাটে-বলে সামনে থেকে দিয়েছেন নেতৃত্ব। বিপিএলের সেরা একাদশের সহ-অধিনায়ক হিসেবে তাকে নিযুক্ত করা যায় অনায়াসে। ১৪১ স্ট্রাইকরেটে ১৭৭ রান করেছেন তিনি ১০ ইনিংসে। এছাড়াও ১২ ইনিংসে ১৫টি উইকেট শিকার করেছেন মেহেদী।

  • নাসুম আহমেদ (সিলেট টাইটান্স)

যৌথভাবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উইকেট শিকার করেছেন সিলেট টাইটান্সের নাসুম আহমেদ। ১৮টি উইকেট শিকার করে দলের ফাইনাল খেলার স্বপ্ন বাঁচিয়ে রেখেছিলেন নাসুম। যদিও শেষ অবধি তার দল পৌঁছাতে পারেনি ফাইনালে। সে দায় অবশ্য তার উপর বর্তায় না। উইকেট শিকারের পাশাপাশি ৫.৯৭ ইকোনমিতে রান আটকে রাখার প্রয়াশও করেছেন নাসুম।

  • শরিফুল ইসলাম (চট্টগ্রাম রয়্যালস)

রেকর্ড গড়ে এক মৌসুমে সর্বোচ্চ ২৬ উইকেট তুলে নিয়েছেন শরিফুল ইসলাম। পেছনে ফেলেছেন তাসকিন আহমেদের গড়া একাদশ বিপিএলের রেকর্ডকে। চট্টগ্রাম রয়্যালসকে ফাইনাল অবধি তোলার অগ্রণী সেনানী ছিলেন তিনি। বা-হাতের সুইংয়ের মায়াজাল সৃষ্টি করে তিনি মেতে উঠেছিলেন শিকারের নেশায়। তাকে বাদ রেখে সেরা একাদশ কি আর সাজানো যায়!

  • রিপন মণ্ডল (রাজশাহী ওয়ারিয়ার্স)

রাজশাহী ওয়ারিয়ার্সকে সুপার ওভারে ম্যাচ জিতিয়েছেন রিপন মণ্ডল। এছাড়াও স্লগ ওভারে তার নিয়ন্ত্রিত ইয়োর্কার গড়ে দিয়েছে রাজশাহীর শিরোপা জয়ের মসৃণ পথ। উইকেট শিকারেও তিনি পিছপা হননি। ১৭ খানা উইকেট ঢুকেছে তার ঝুলিতে। চতুর্থ সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি তিনি এবারের বিপিএলে।

  • বিনুরা ফার্নান্দো (রাজশাহী ওয়ারিয়ার্স)

দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার ও ফাইনাল, এই দুই ম্যাচ মিলিয়ে বিনুরার শিকার আট উইকেট। দলকে শিরোপার জেতানোর জন্য মোক্ষম সময়ে দুর্ধর্ষ পারফরমেন্স করেছেন বিনুরা। গোটা টুর্নামেন্টে উইকেট নিয়েছেন ১৮টি। তার অনবদ্য পারফরমেন্সের কল্যাণেই রাজশাহী ওয়ারিয়ার্স শেষ অবধি হয়েছে চ্যাম্পিয়ন।

লেখক পরিচিতি

রাকিব হোসেন রুম্মান

কর্পোরেট কেরানি না হয়ে, সৃষ্টি সুখের উল্লাসে ভাসতে চেয়েছিলাম..

Share via
Copy link