এক অবাধ্য ত্রাসের রাজত্ব সৃষ্টি করতে জানতেন শোয়েব আখতার। যে ভয়ের স্মৃতি এখনো গেঁথে আছে ম্যাথু হেইডেনের স্মৃতির পাতায়। এই দুইজনের প্রথম মোলাকাতে কথার লড়াইয়ে জিতেছিলেন পাকিস্তানের ওই গতিদানব। হেইডেনের বুকের পাঁজরে সজোরে আঘাত হেনে তিনি জায়গা করেছেন হেইডেনের মস্তিষ্কে। সেই স্মৃতি সম্প্রতি সামনে এনেছেন অজি কিংবদন্তি ব্যাটার।
সময়টা ১৯৯২ সালের দিকে। পাকিস্তানকে সেবার আতিথিয়েতা দিচ্ছিল অস্ট্রেলিয়া। শোয়েব আখতারকে সেবারই প্রথম মোকাবেলা করছিলেন ম্যাথু হেইডেন। সেই স্মৃতি মোটেও সুখকর নয়। তার তো রীতিমত মনে হচ্ছিল বাইশ গজে দূরবীণ নিয়ে নামা উচিত ছিল। কেননা শোয়েব আখতার প্রায় বাউন্ডারি লাইন থেকে দৌড়ে এসে তখন বল ছুড়তেন।
এক পডকাস্টে হেইডেন সেই দিনের স্মৃতিচারণা করে বলেন, ‘সত্যি বলতে কী, ক্রিজে দাঁড়িয়ে আমার যেন বাইনোকুলার বের করতে হচ্ছিল। মনে হচ্ছিল, আরে ভাই, লোকটা কোথায়? একেবারে উধাও!’ কিন্তু মুহূর্তেই যেন তার সেই ধারণা পালটে যায়। শোয়েব আখতার ছোড়েন আগুনের গোলা। সেই বলে ব্যাট বাড়ানোর কোন প্রয়োজনই অনুভব করেননি হেইডেন।

তিনি বলেন, ‘সে প্রথম বলটা করল, আমি ছেড়ে দিলাম। তখন মনে হলো, আহ, বাঁচা গেল! কারণ বলটা ছিল ভীষণ দ্রুত।’ এরপরই মূলত শুরু হয় কথার লড়াই। শোয়েব এগিয়ে গিয়ে অদ্ভূত একটা প্রশ্ন করে বসেন হেইডেনকে। হেইডেন বলেন, ‘এরপর সে আমার দিকে এগিয়ে এসে বলল- এই, তুমি কে?’
সেই প্রশ্নের খানিকটা হতভম্ব হয়ে গিয়েছিলেন ম্যাথু হেইডেন। তবে অজি মানসিকতার হেইডেন পালটা আক্রমণাত্মক জবাব দিতে পিছপা হননি। তিনি শোয়েবকে বলেন, ‘আরে, স্কোরবোর্ডটার দিকে তাকাও না—ওটাই বলে দেবে আমি কে। পড়তে পারো না নাকি?’ ব্যাস, এক পাগলা ষাড়ের সামনে লাল কাপড় নাড়ানোর মত ঘটনার ঘটিয়ে ফেলেছেন হেইডেন।
শোয়েব সেই বাউন্ডারির কাছাকাছি দূরত্ব থেকে দৌড়ে এলেন। ছুড়লেন আবারও আগুনের গোলা। এদফা গতি ঘন্টায় প্রায় ১৬০ কিলোমিটার। সেই বলটা পাঁজরে আঘাত করে হেইডেনের। তিনি রীতিমত ব্যথায় কাতর। সেই দিনের ভয়াল স্মৃতি রোমন্থন করে তিনি বলেন, ‘ঘণ্টায় ১৬০ কিলোমিটার গতির বল—সরাসরি বুকে। মনে হলো যেন পয়েন্ট-ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে কেউ গুলি ছুড়ে মারল।’

এরপর হেইডেনকে জবাব দেন শোয়েব। সেই জবাব ভীষণ বিস্মিত করেছিল ব্যথায় কাতর হেইডেনকে। শোয়েব বলেছিলেন, ‘আমি জানি না তুমি কে, কিন্তু তুমি নিশ্চয়ই খুব বাজে খেলোয়াড়—মার্ক টেলরকেও টপকে টেস্ট দলে ঢুকতে পারোনি।’ শোয়েবের বোলিং যে স্রেফ ধ্বংসযজ্ঞ চালাত তা নয়, তার কথাও হৃদয় জুড়ে তাণ্ডব চালাত। অজিদের ইস্পাত দৃঢ় মস্তিষ্কতেও দারুণভাবে আঘাত করত। হেইডেনের এই স্মৃতিচারণাই যার প্রমাণ।











