সাতে সাত বাংলাদেশের!

নাহিদা আক্তারের নিয়ন্ত্রিত বোলিং আর অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতির দৃঢ় ব্যাটিং গুঁড়িয়ে দিল নেদারল্যান্ডসকে। সাত উইকেটের জয় নিয়ে নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে সাতে সাত বাংলাদেশের। অপ্রতিরোধ্য থেকেই টুর্নামেন্ট শেষ করলো  জ্যোতিরা।

নাহিদা আক্তারের নিয়ন্ত্রিত বোলিং আর অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতির দৃঢ় ব্যাটিং গুঁড়িয়ে দিল নেদারল্যান্ডসকে। সাত উইকেটের জয় নিয়ে নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে সাতে সাত বাংলাদেশের। অপ্রতিরোধ্য থেকেই টুর্নামেন্ট শেষ করলো  জ্যোতিরা।

এদিন টস জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় নেদারল্যান্ডস। কিন্তু শুরু থেকেই বাংলাদেশি বোলারদের  আক্রমণের সামনে ধুঁকতে থাকে ডাচ ব্যাটিং লাইনআপ। ইনিংসের প্রথম দিকেই ধস নামে তাদের ব্যাটিংয়ে। মাত্র ২৩ রানের মধ্যেই ৫ উইকেট হারিয়ে বড় বিপর্যয়ের মুখে পড়ে ডাচরা। স্কোরবোর্ডে তখন একশ রানও যেন দূরের স্বপ্ন।

এই বিপর্যয়ের মাঝেই প্রতিরোধ গড়ে তোলেন রবিন রাইক ও সানিয়া খুরানা। ষষ্ঠ উইকেটে তাদের ৭৮ রানের জুটি নেদারল্যান্ডসকে ম্যাচে কিছুটা হলেও ফিরিয়ে আনে। এই জুটিতেই ভর করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ১০২ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় নেদারল্যান্ডস।

বল হাতে দুর্দান্ত ছিলেন নাহিদা আক্তার। বাঁহাতি স্পিনে ডাচ ব্যাটারদের পুরোপুরি বেঁধে রাখেন তিনি। ৪ ওভারে একটি মেডেনসহ মাত্র ১০ রান খরচ করে নেন তিন উইকেট। এছাড়া মারুফা আক্তার, স্বর্ণা আক্তার ও রাবেয়া খান নেন একটি করে উইকেট।

১০৩ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুটা অবশ্য বাংলাদেশের জন্য খুব স্বস্তির ছিল না। ইনিংসের প্রথম দুই ওভারে দুই উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়ে যায় দল। তবে তৃতীয় উইকেটে   জ্যোতি ও সুপ্তার ৪২ রানের জুটি সেই চাপ কাটিয়ে তোলে। দলের স্কোর যখন পঞ্চাশ ছুঁই ছুঁই, তখন ১৩ রান করে আউট হন সুপ্তা।

এরপর আর কোনো বিপদের সুযোগ দেননি জ্যোতি। সোবহানা মোস্তারিকে সঙ্গে নিয়ে দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন তিনি। চতুর্থ উইকেটে তাদের অবিচ্ছিন্ন ৫৭ রানের জুটিতে ১৬.৪ ওভারে লক্ষ্য পূরণ করে ফেলে বাংলাদেশ। জ্যোতি ৫০ রানে অপরাজিত থাকেন। অন্যদিকে সোবহানা মোস্তারি করেন অপরাজিত ৩৩ রান।

এই ম্যাচের মধ্য দিয়ে বাছাইপর্বে টানা সাত ম্যাচে জয় পেল বাংলাদেশ। প্রথম রাউন্ডের চার ম্যাচ ও সুপার সিক্সের তিন ম্যাচ—সবগুলোতেই জয় তুলে নিয়ে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হিসেবে বিশ্বকাপের মূল পর্ব নিশ্চিত করে বাংলাদেশ। পুরো বাছাইপর্বে সোবহানা মোস্তারি ছিলেন ব্যাট হাতে অন্যতম উজ্জ্বল মুখ। সাত ম্যাচে ৫২.৪০ গড় ও ১৪৫.৫৫ স্ট্রাইক রেটে ২৬২ রান করে তিনি বাছাইপর্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হন।

আগামী জুন-জুলাইয়ে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে অনুষ্ঠিত হবে এবারের নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। সেই মঞ্চে নামার আগে বাছাইপর্বে এমন অপরাজিত অভিযান নিঃসন্দেহে আত্মবিশ্বাস জোগাবে বাংলাদেশের নারী দলকে।

লেখক পরিচিতি

প্রত্যয় হক কাব্য

স্বপ্ন লেখার কি-বোর্ড

Share via
Copy link