নতুন রোলে বাবর অভয়ের বার্তাবাহক

খুব স্বাভাবিক টপ অর্ডারে অতিরিক্ত আক্রমণাত্মক ধ্যান-ধারণা সবসময় পক্ষে আসে না। এমন সব দিনে বাবরের কাজ হবে ইনিংসকে বড় করা।

নতুন দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিতে পুরোপুরি প্রস্তুত বাবর আজম। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ফিফটি হাঁকিয়ে তিনি নিজের অবস্থান আরও পোক্ত করলেন। চার নম্বরে তার উপর অর্পিত দায়িত্ব ষোলআনা পূরণের সক্ষমতা বাবর রাখেন- সেটাই যেন বুঝিয়ে দিলেন অজি বোলারদের চোখে চোখ রেখে।

টি-টোয়েন্টিতে বাবর আজম ও মোহাম্মদ রিজওয়ানের ওপেনিং জুটি, পাকিস্তানের জন্য ছিল এক নিয়মিত চিত্র। তবে সেই চিত্র বদল হয়েছে, দু’জনই দল থেকে বাদ পড়েছেন। বাবর আবার ফিরেছেন বটে। কিন্তু বিশ্বকাপের ঠিক আগ মুহূর্তে বাবরের কাঁধে দেওয়া হয়েছে নতুন দায়িত্ব।

চার নম্বর ব্যাটিং পজিশনে দলের অ্যাঙ্কর এখন বাবর আজম। প্রথম তিন ব্যাটারের জন্য দায়িত্ব নির্ধারণ করে দিয়েছে টিম ম্যানেজমেন্ট। যাদের দায়িত্ব চোখ বন্ধ করে আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের ধারক ও বাহক বনে যাওয়া। তারা যদি ফেল করেন, খুব স্বাভাবিক অতিরিক্ত আক্রমণাত্মক ধ্যান-ধারণা সবসময় পক্ষে আসে না। এমন সব দিনে বাবরের কাজ হবে ইনিংসকে বড় করা। খেলাকে গভীর পর্যন্ত টেনে নেওয়া।

এমন এক দৃষ্টান্ত স্থাপনের সুযোগ এলো সিরিজের তৃতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে। টপ থ্রি এদিন ফিরল দ্রুততম সময়ে। কিন্তু বাবর দাঁড়িয়ে গেলেন ঢাল হয়ে। ৩৬ বলে ৫০ রানের অপরাজিত ইনিংসে, তিনি উইকেট পতনের অপ্রতিরোধ্য ধারার মাঝে বাঁধ বনে গেলেন।

তার উপর ভরসা রেখে খাজা নাফে ও শাদাব খান বাইশ গজে চালিয়ে গেছেন তাণ্ডব। তাদের অভয় দিয়েছেন বাবর আজম। মানসিক সেই স্বাধীনতা ছিল তাদের, বাবর আছেন লড়াকু একটা পুঁজি হয়েই যাবে। সেই স্বাধীনতাই নির্ভয়ে ব্যাট চালানোর পেছনের প্রভাবক। যার ফলশ্রুতিতে পাকিস্তানের সংগ্রহ ছাপিয়েছে ২০০ রানের গণ্ডি।

এদিন বাবর যে খুব বেশি নেতিবাচক ব্যাটিং করেছেন- বিষয়টি তেমনও নয়। ১৩৮.৮৮ স্ট্রাইকরেটে তিনি নিজেও রান তুলেছেন। এই কাজটাই তাকে করে যেতে হবে আসন্ন পুরো বিশ্বকাপ জুড়ে। কেবল তবেই পাকিস্তানের পক্ষে আসতে শুরু করবে সমস্ত ফলাফল।

Share via
Copy link