বাংলাদেশের ক্রিকেটে সাব্বির রহমান মানেই এক সময়ের বড় আশা। এক ধরনের রঙিন সম্ভাবনার নাম। যখন তাঁর পারফরম্যান্সই যেমনই থাকুক না কেন, সাব্বিরকে নিয়ে বারবারই আশায় বুক বাঁধে বাংলাদেশ। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তিনি যখন এলেন, তখন মনে হয়েছিল—এই ছেলেটা ম্যাচ ঘুরিয়ে দিতে পারে একাই, বদলে দিতে পারে বাংলাদেশ ক্রিকেটের ভাগ্য। কিন্তু সেই আশার বেলুনটা বারবার ফুলতে গিয়েও নানা কারণে থেমে গেছে।
ইনজুরি, ফর্ম আর শৃঙ্খলাজনিত ইস্যু—সব মিলিয়ে সাব্বিরের যাত্রায় এসেছে একাধিক বিরতি। ক্যারিয়ার ছোট হয়েছে, বাংলাদেশের আক্ষেপ বেড়েছে। সর্বশেষ বিপিএলে অবশ্য একেবারে খারাপ করেননি সাব্বির। ঢাকা ক্যাপিটালসের জার্সিতে খেলেছেন ৯ ইনিংস, যার মধ্যে ৩ বার ছিলেন নট আউট।
রান করেছেন ১৩৪, গড় ছিল ২২.৩৩ এবং স্ট্রাইক রেট ১৩৫.৩৫। একজন ফিনিশারের জন্য এই সংখ্যাগুলো খুব আহামরি না হলেও একেবারে ফেলনা বলার সুযোগও নেই। তবুও বিপিএলের পর তিন দলের কোনোটিতেই জায়গা হলো না সাব্বিরের। জায়গা দিলেও সেটা নিয়ে খুব সমালোচনা হত না।

এই প্রসঙ্গে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে সাব্বির ছিলেন বেশ ঠান্ডা মাথার। তার কথায় কোনো অভিযোগ নেই, বরং বাস্তবতার স্বীকারোক্তি। তিনি বললেন, হয়তো তাদের প্ল্যানে তিনি নেই বলেই যোগাযোগ করা হয়নি। প্ল্যান না থাকলে যোগাযোগ করে লাভ কী—প্ল্যান থাকলেই তো ফোন আসবে, বলেই হেসে উড়িয়ে দেন বিষয়টা।
দলে জায়গা না পাওয়া নিয়ে আক্ষেপ আছে কি না—এই প্রশ্নে সাব্বির আরও স্পষ্ট। তিনি মনে করেন যারা আপনাকে গুরুত্বই দেয় না, তাদের জন্য মন খারাপ করে লাভ নেই। কিন্তু, তাঁর জন্য তো বারবার মন খারাপ হয় বাংলাদেশের ক্রিকেট সমর্থকদের।
এর মধ্যেই বিসিবি ঘোষণা করেছে অদম্য বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি কাপের তিন দলের স্কোয়াড। বিশ্বকাপের ফাঁকা সময়ে ক্রিকেটারদের ম্যাচ অনুশীলনের সুযোগ দিতে এই টুর্নামেন্ট আয়োজনের কথা আগেই জানানো হয়েছিল। আনুষ্ঠানিক ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে দল, কোচিং স্টাফ এবং সূচিও প্রকাশ করা হয়েছে। তিন দলের একটি দল প্রায় বিশ্বকাপ স্কোয়াডের মতো শক্তিশালী, আরেকটি পুরোপুরি তারুণ্যনির্ভর, আর তৃতীয়টি অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের মিশেলে গড়া। কিন্তু এই তিন দলের কোনোটিতেই জায়গা হয়নি সাব্বির রহমানের।

সব মিলিয়ে সাব্বিরের গল্পটা এখন একরকম নীরব লড়াইয়ের। আশার প্রদীপ এখনো নিভে যায়নি, কিন্তু আলোটাও আর আগের মতো ঝলমলে নয়। তবুও সাব্বির যেন নিজের মতো করেই এগোতে চান—কারও স্বীকৃতির অপেক্ষা না করে, সুযোগ এলে খেলবেন, না এলে চুপচাপ নিজের পথেই হাঁটবেন। বাংলাদেশ ক্রিকেটে এমন গল্প নতুন নয়, কিন্তু প্রতিটা গল্পই আলাদা করে ভাবায়। সাব্বিরের গল্পটা একটু বেশিই ভাবায়।










