টানা দ্বিতীয় দফা, অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপে সুপার সিক্সে থেমেছে বাংলাদেশের যাত্রা। ২০২৪ সালের পুনরাবৃত্তি ঘটেছে, ২০২৬ সালেও। কোথায় ঠিক বাংলাদেশ পিছিয়ে গেল? ২০২০ সালের চ্যাম্পিয়ন দলের পর, তিনটি আসর পেরিয়ে গেলেও, সেমিফাইনাল অবধি পৌঁছানো হয়নি বাংলাদেশের। এবারের দলটায় অভিজ্ঞ ক্রিকেটারের অভাব অবশ্য ছিল না, কিন্তু তবুও আশানুরূপ পারফরমেন্সের দেখা মেলেনি।
এর প্রধান কারণ ব্যাটারদের ব্যর্থতা। ভারতের বিপক্ষে প্রথম রাউন্ডের গ্রুপ পর্বের ম্যাচটি বাংলাদেশ হেরেছিল স্রেফ ১৮ রানের ব্যবধানে। বৃষ্টি বিঘ্নিত ম্যাচে, বাংলাদেশকে করতে হতো ২৯ ওভারে ১৬৮ রান। সেই রানটুকুও নিতে সমর্থ্য হয়নি বাংলাদেশ। জাওয়াদ আবরার, আজিজুল হাকিম তামিমদের উপর ছিল রাজ্যের প্রত্যাশা।
সেই প্রত্যাশা তারা কেউই পূরণ করতে পারেননি। পুরো আসরজুড়েই তারা হতাশ করেছেন দারুণভাবে। যদিও বাংলাদেশের পক্ষে তিনটি ফিফটির সহয়তায় সর্বোচ্চ ১৯৪ রান করেছেন অধিনায়ক তামিম। কিন্তু তার স্ট্রাইকরেট রীতিমত বিস্ময় জাগানিয়া। ৬৭.৫৯ স্ট্রাইকরেটে তিনি ব্যাটিং করেছেন যুবদের বিশ্বকাপে। রীতিমত প্রাচীন টেস্ট ঢঙে ব্যাটিং করেছেন তিনি।

এই ঘটনা ঘটেছে পুরো ব্যাটিং ইউনিটের ক্ষেত্রে। ১০০ তো দূরে থাক, বাংলাদেশের কোন স্বীকৃত ব্যাটারের স্ট্রাইকরেট ৯০ এর ঘরেও পৌঁছায়নি এবারের বিশ্বকাপে। বৃষ্টি, বৈরি পরিবেশ, স্লো উইকেট- সবকিছু বিবেচনা করেও এমন ব্যাটিংয়ের স্বপক্ষে যুক্তি দেওয়ার উপায় নেই।
ব্যাটারদের ব্যর্থতায়, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সুপার সিক্সের ম্যাচে লড়াই করার মত পুঁজিও জড়ো হয়নি বাংলাদেশের স্কোরবর্ডে। দু’টো ম্যাচ বাংলাদেশ জিতেছে এবারের বিশ্বকাপে। একটির প্রতিপক্ষ ছিল যুক্তরাষ্ট্র, দ্বিতীয়টির প্রতিপক্ষ স্বাগতিক জিম্বাবুয়ে। এই দুই খর্বশক্তির বোলিং ইউনিটের বিপক্ষে যা একটু রান করতে পেরেছেন যুব টাইগাররা।
তবে ব্যাটারদের এমন নিদারুণ বাজে সময়ের মাঝেও, বোলাররা নিজেদের কাজটা যথাযথভাবে করে যেতে পেরেছেন অন্তত। বাংলাদেশের দুই পেসার আল ফাহাদ ও ইকবাল হোসেন ইমন- দুইজনই আছেন সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি তালিকার সেরা দশে। ফাহাদের ঝুলিতে পাঁচ ম্যাচে যুক্ত হয়েছে ১২ উইকেট। অন্যদিকে ইমনের শিকার ১১ উইকেট।

অর্থাৎ ম্যাচ প্রতি দুইয়ের অধিক হারে উইকেট শিকার করেছেন এই দুই পেসার। পাঁচের নিচে ইকোনমি, প্রায় ১৯ এর কাছাকাছি স্ট্রাইকরেটে প্রতিপক্ষের উইকেট তুলে নিয়ে তারা ছিলেন সম্মুখ সারির সেনানী। তবে ব্যাটারদের ব্যর্থতায় ম্লান হয়েছে সবকিছু। বৃষ্টিকে যদিও দোষারোপ করা যায় চাইলেই।
কেননা বৃষ্টির কারণেই নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটি পণ্ড হয়েছিল। তবে ব্যাটারদের পারফরমেন্সের করুণ দশার পর, সেই ম্যাচে বাংলাদেশের পক্ষে ফলাফল আসার সম্ভাবনা যে প্রায় শূন্যের কাছাকাছি ছিল- সেটা নিশ্চয়ই না বলে দিলেও চলছে। অতএব এবারের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ব্যর্থতার কারণ মোটাদাগে ব্যাটারদের ব্যর্থতা।
ব্যাটারদের নেতিবাচক ব্যাটিং অ্যাপ্রোচ, ধারাবাহিকতার অভাব, বড় ইনিংস খেলতে না পারা, স্রেফ দুইজন ব্যাটারের সর্বমোট সংগ্রহ ১০০ রানের গণ্ডি ছাড়ানো- এসব কিছুকেই অনায়াসে দায়ী করা যায়। অতএব পরবর্তী অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে ভাল করতে হলে, অন্তত ব্যাটারদের ব্যাটিং অ্যাপ্রোচ পরিবর্তন করা ভীষণ জরুরি। মান্ধাতার আমলের ব্যাটিং দিয়ে আর যাইহোক শিরোপার লড়াই সম্ভব নয়।












