একজন খেলোয়াড়। দুটো আলাদা জীবনের গল্প। আর সেটাকে এক সংযোগস্থলে টেনে আনা। ওয়েইন ম্যাডসেন যেন এমনই এক বিরল কীর্তি গড়লেন। হকির স্টিক ছেড়ে হাতে তুলে নিলেন ক্রিকেট ব্যাট। দক্ষিণ আফ্রিকার জার্সির মায়া কাটিয়ে ইতালির নীল স্বপ্নের সারথী হয়ে আবির্ভূত হলেন। ২০ বছরের ব্যবধানে সময় যেন ভিন্ন এক গল্প লিখল।
প্রথমবার, ইতালি খেলতে যাচ্ছে স্বপ্নের বিশ্বকাপ। এই অভিযানে তাদের কমান্ড দেবেন ম্যাডসেন। যিনি একাধারে হকির মাঠ মাতিয়েছেন, আবার ক্রিকেটের পাঠ রপ্ত করে নিয়েছেন।
২০০৬ সাল, তখন বয়স মাত্র ২২ বছর। দক্ষিণ আফ্রিকার হকি দলে ডাকা হলো তাঁকে। তারুণ্যের তেজ গায়ে চাপিয়ে দাপিয়ে বেড়িয়েছেন হকির মাঠে। খেলেছেন ৩৯টি ম্যাচও। তবে ভাগ্য লিখেছিল অন্য হিসাব, নিয়তি সাজিয়েছিল ভিন্ন পরিকল্পনা।

হকি বিশ্বকাপের ২০ বছর পর এবার ইতালির হয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মঞ্চে আবির্ভূত হচ্ছেন। ইতিহাসের পাতায় নিজের নাম স্বর্ণাক্ষরে খোদাই করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি।
জন্ম দক্ষিণ আফ্রিকায়, ২০০৩ সালে ক্রিকেট যাত্রাও শুরু করেন সেখান থেকেই। শুরুর দিন থেকেই ব্যাটিং প্রতিভা ও ম্যাচ বোঝার দক্ষতায় নজর কাড়েন ম্যাডসেন। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে খেলেছেন ইংল্যান্ডের কাউন্টি লিগ, পাকিস্তান সুপার লিগ, বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের মতো মঞ্চে। যা তাকে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এক অভিজ্ঞ নাম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
স্বপ্ন ছিল নিজ দেশের জাতীয় দলের জার্সি গায়ে চাপাবেন তিনি। সে আশা পূরণ হয়নি। তবে ভাগ্যের খেলায় জাতীয় দলের জার্সি ঠিকই পরেছেন, তবে সেটা ভিন্ন দেশের হয়ে।

২০২৩ সালে ইতালির হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয় ম্যাডসেনের। এখন পর্যন্ত তিনি ইতালির হয়ে সাতটি টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন। জো বার্নসের জায়গায় দলটির অধিনায়ক হয়েছেন তিনি।
৪২ বছর বয়সের ম্যাডসেন, ব্যাটে আছে অভিজ্ঞতা আর চোখে আছে লক্ষ্য, জয়ের ক্ষুধা। ইতালিকে নেতৃত্ব দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের মানচিত্রে নতুন গল্প লিখতে যাচ্ছেন। সেই সাথে গড়তে যাচ্ছেন দুটো ভিন্ন ডিসিপ্লিনের বিশ্বকাপ খেলার বিরল কীর্তি।











