নেপালের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল?

এই হার যেন পরাজয় নয়, বরং বিশ্বমঞ্চে এক উদীয়মান পরাশক্তির আগমণী বার্তা। সেই সুবাদে সাবেক ক্রিকেটারদের প্রশংসার জোয়ারে ভাসছে নেপাল ক্রিকেট দল।

মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে তখন লাল-নীল পতাকার উদ্দাম ঢেউ। গ্যালারিভর্তি নেপালি সমর্থকদের গগনবিদারী চিৎকার দেখে বোঝার উপায় ছিল না যে এটি ভারতের মাঠ।ক্রিকেটের সমীকরণ হয়তো দিনশেষে ইংল্যান্ডের জয় লিখেছে, কিন্তু হৃদয়ের মানচিত্রে এক চিলতে হিমালয়ের দেশ নেপাল যে বীরত্বগাথা রচনা করল, তা ক্রিকেট বিশ্ব অনেকদিন হৃদয়ে লালন করবে।

২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের রোমাঞ্চকর এই লড়াইয়ে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মাত্র ৪ রানের আক্ষেপ নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে নেপালকে। তবে এই হার যেন পরাজয় নয়, বরং বিশ্বমঞ্চে এক উদীয়মান পরাশক্তির আগমণী বার্তা। সেই সুবাদে সাবেক ক্রিকেটারদের প্রশংসার জোয়ারে ভাসছে নেপাল ক্রিকেট দল।

ভারতীয় সাবেক কিংবদন্তি ক্রিকেটার যুবরাজ সিং এক্সে বলেছেন, ‘নেপালের প্রতি অগাধ শ্রদ্ধা। বিশ্বসেরাদের চোখে চোখ রাঙিয়ে শেষ বল পর্যন্ত লড়াই করা আর অদম্য সাহস দেখানোই হলো আগামীর চ্যাম্পিয়ন হওয়ার লক্ষণ। সারা বিশ্ব আজ তোমাদের দেখছে।’

অন্যদিকে ইরফান পাঠান মনে করেন, ফিনিশিংয়ে ঘাটতি পূরণ করলে দারুণ করার সম্ভাবনা রয়েছে নেপালের। রবিচন্দ্রন অশ্বিনও নেপালের ক্রিকেটকে সম্ভাবনাময়ী মনে করছেন। তিনি লেখেন, ‘নেপালের কাছ থেকে অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্যান্স। উদীয়মান ক্রিকেট দেশগুলোর মধ্যে তারা নি:সন্দেহে সেরাদের একটি। বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে।’

তবে সবচেয়ে আলোচনার জন্ম দেয় দক্ষিণ আফ্রিকার কিংবদন্তি পেসার ডেল স্টেইনের মন্তব্য। তিনি প্রকাশ্যে জানান, প্রয়োজনে তিনি নেপাল দলকে মেন্টর করতে প্রস্তুত এবং দলটির আরও উন্নতি কামনা করেন। তিনি লেখেন, ‘নেপাল, যদি কখনও প্রয়োজন হয় আমি আমার সেবা দিতে প্রস্তুত।’

নেপালের পরবর্তী গন্তব্য আরও এক সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজ। আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি একই মাঠে তারা মুখোমুখি হবে ক্যারিবিয়ানদের। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এই মরিয়া পারফরম্যান্স নিশ্চিতভাবেই সতর্কবার্তা পাঠিয়ে দিল উইন্ডিজ শিবিরেও।

লেখক পরিচিতি

ক্রীড়াচর্চা হোক কাব্য-কথায়!

Share via
Copy link