বাংলাদেশ টেলিভিশনের সেই কালজয়ী ধারাবাহিকগুলোর কথা মনে আছে? যেখানে শেষ দৃশ্যে এসে খলনায়কের হঠাৎ বোধোদয় হয়, কিংবা মরতে বসা নায়ক অলৌকিকভাবে বেঁচে ফিরে এসে পুরো গল্পের মোড় ঘুরিয়ে দেয়? গত দশ দিন ধরে ভারত-পাকিস্তান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ম্যাচ নিয়ে যা চলল, তা বিটিভির সেই টানটান উত্তেজনার সিরিয়ালকেও হার মানিয়েছে।
সব জল্পনা আর বয়কটের ‘ক্লাইম্যাক্স’ শেষে পর্দা নামল পিসিবির জেদ ত্যাগের মাধ্যমে। ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোতেই মুখামুখি হচ্ছে ক্রিকেটের দুই চিরশত্রু।
গল্পের শুরুটা অনেকটা ‘সংশপ্তক’ বা ‘কোথাও কেউ নেই’ এর মতো গম্ভীর। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সাথে সংহতি জানিয়ে পিসিবি যখন ঘোষণা করল তারা ভারতের বিপক্ষে মাঠে নামবে না, তখন মনে হয়েছিল এই নাটকের শেষ বোধহয় ট্র্যাজেডিতেই হবে।

পহেলা ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান সরকারের কঠোর হুশিয়ারি ক্রিকেট পাড়ায় যেন এক নিস্তব্ধতা নামিয়ে এনেছিল। পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভির সেই অনড় অবস্থান দেখে মনে হচ্ছিল, হিমালয় সরলেও পাকিস্তান তাদের সিদ্ধান্ত থেকে নড়বে না।
কিন্তু নাটকে টুইস্ট আসতে শুরু করে তিন ফেব্রুয়ারি থেকে। আইসিসি’র ডেপুটি চেয়ারম্যান ইমরান খাজা আর এমিরেটস ক্রিকেট বোর্ডের মুবাশির উসমানি যেন নাটকে গ্রামের চেয়ারম্যান সাহেব চরিত্র হয়ে আবির্ভূত হলেন, যে দুই পক্ষের বিচার বসিয়ে বিবাদ মেটানোর চেষ্টা করেন।
শ্রীলঙ্কা যেন নাটকে মায়ের ইমোশনাল চরিত্র। যিনি আবেগকে পুঁজি করে উদ্দেশ্য হাসিল করতে জানেন। লঙ্কান বোর্ড সভাপতি শাম্মি সিলভা যখন মনে করিয়ে দিলেন, এই একটি ম্যাচের ওপর তাদের দেশের অর্থনীতির ভাগ্য ঝুলে আছে, তখন পিসিবি’র ‘জেদ’ কিছুটা ইমোশনে রূপ নেয়। সাথে যোগ হয় বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলামের অনুরোধ।
নাটকের শেষে যেমন সব ভুল বোঝাবুঝির অবসান হয়ে পরিবারের সবাই একসাথে ডাইনিং টেবিলে বসে হাসিমুখে খাবার খায়, এই ক্রিকেটীয় নাটকের সমাপ্তিও হলো তেমন। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের হঠাৎ করে মনে হলো, ক্রিকেটের মর্যাদা বাঁচানো জরুরি। তাই তারা ভারতের সাথে মাঠে নামবে।











