টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট এক অদ্ভুত অনিশ্চয়তার খেলা। এখানে যেমন রানের জোয়ার আসে, তেমনি আবার মূহুর্তের ভুলে গ্রাস করে ঘোর অন্ধকার। মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়েতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ভারতের বিশ্ব আসরের শুরুটা যেন ঠিক এমনই এক ধ্বংসস্তূপের কিনারে দাঁড়িয়ে ছিল। তখনই ত্রাতা হয়ে আবির্ভূত হলেন সুরিয়াকুমার যাদব। সেই সুবাদে মিলেছে গুরুর প্রশংসাও।
৭৭ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকা ভারতীয় ইনিংসকে একার কাঁধে টেনে তুললেন তিনি। আর তার এই শান্ত অথচ বিধ্বংসী ৮৪ রানের মহাকাব্যিক ইনিংসের ওপর ভর করেই ২৯ রানের রোমাঞ্চকর জয় দিয়ে বিশ্বজয়ের অভিযান শুরু করল টিম ইন্ডিয়া। স্টার স্পোর্টসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে গম্ভীর সুরিয়াকে কেবল একজন বিষ্ফোরক ব্যাটার হিসেবে নয়, বরং একজন প্রজ্ঞাবান সেনাপতি হিসেবে তুলে ধরেছেন।
গম্ভীরের মতে, সুরিয়ার রান করার চেয়েও বড় গুণ হলো কঠিন সময়ে তার হিমশীতল মেজাজ। গম্ভীর বলেন, ‘কোচ হিসেবে আমার কাজটা অনেক সহজ হয়ে গেছে। যখন আমি জানি যে মাঝমাঠে সুরিয়ার মতো একজন নেতা আছেন যিনি চাপের মুখেও যেকোন পরিস্থিতি শান্ত রাখতে পারেন, তখন আমি নিশ্চিন্তে অন্য পরিকল্পনা নিয়ে ভাবতে পারি। একজন কোচ যা স্বপ্ন দেখেন, নেতা হিসেবে সুরিয়া তার প্রতিটি শর্ত পূরণ করেছে।’

এই ম্যাচে দেখা গিয়েছিল সুরিয়ার ব্যাটিং কৌশলের এক অন্য রূপ। শুরুতে যখন উইকেটের মিছিল চলছিল, তখন তিনি নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছিলেন। অপেক্ষায় ছিলেন সঠিক মুহূর্তের। পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল হতেই ৪৯ বলে অপরাজিত ৮৪ রানের সেই ইনিংসটি খেলেন। গম্ভীরের ভাষায়, সুরিয়ার এই ‘টেম্পারমেন্ট’ বা মেজাজই হলো বর্তমান ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় মুদ্রা।
ভারতের বর্তমান ড্রেসিংরুমের আবহাওয়া এখন আগের চেয়ে অনেকটাই ভিন্ন। দলের আক্রমণাত্মক ব্যাটিং বা ধারালো বোলিংয়ের পাশাপাশি বিপদের মুখে বিচলিত না হওয়ার যে সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে, তার নেপথ্যে কারিগর এই সুরিয়াকুমার যাদবই।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দিল্লিতে নামিবিয়ার মুখোমুখি হবে ভারত। বিশ্ব আসরে বড় বড় সব কৌশলের ভিড়ে ভারতের অন্যতম শক্তি হলো মাঠে এবং মাঠের বাইরে ড্রেসিংরুমকে শান্ত রাখার মতো একজন ধীরস্থির অধিনায়ক।











