বাংলাদেশের ক্রিকেটে লেগ স্পিনের হাহাকার ছিল দীর্ঘদিনের। মরুভূমিতে এক পশলা বৃষ্টির মতো সেই তৃষ্ণা মেটাতে আবির্ভাব ঘটেছিল রিশাদ হোসনের। কেবল দেশের মাটিতে নয়, বিদেশের মাটিতেও এখন রিশাদ মানেই প্রতিপক্ষ ব্যাটারদের জন্য এক গোলকধাঁধা। সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার বিগ ব্যাশ লিগে নজরকাড়া পারফরম্যান্সের পর এবার দেশে ফিরে অদম্য টি-টোয়েন্টি কাপেও সেই ধারা বজায় রেখেছেন রিশাদ।
প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বল করতে নেমেই সবার প্রশংসা কুড়িয়েছেন রিশাদ। হোবার্ট হারিকেন্সেসে হয়ে বল হাতে ১১ ইনিংসে বল করতে নেমে ১৫ উইকেট নিয়েছেন তিনি। যা দলটির হয়ে ব্যাক্তিগত সর্বোচ্চ উইকেটসংখ্যা।
আসর জুড়েই ধারাভাষ্যকার থেকে শুরু করে লিগের সাথে সংশ্লিষ্ট সব কিংবদন্তিরাই তার প্রশংসায় মেতেছে। দলটির হেড কোচ জেফ ভনও রিশাদের পারফরম্যান্সে মুগ্ধতা প্রকাশ করেছেন। এমনকি পরের আসরেও রিশাদকে দলে নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন তিনি।

সাফল্যের এই রথ থেমে থাকেনি ঘরের মাঠেও। দেশে ফিরেই অদম্য বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি কাপ খেলেছেন রিশাদ। লিটন দাশের নেতৃত্বাধীন ধূমকেতু একাদশে ছিলেন তিনি।
আসরে তিন ইনিংসে বল করতে নেমে পাঁচটি উইকেট নিয়েছেন রিশাদ। যা যৌথভাবে সর্বোচ্চ। প্রতি ১৮.৪০ রান দিয়ে একজন ব্যাটারকে ড্রেসিং রুমে ফিরিয়েছেন তিনি।
দলীয় পারফরম্যান্সের কল্যাণে এই টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ধূমকেতু একাদশ। আর চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পথে বল হাতে রিশাদের অবদান এড়িয়ে যাওয়া একেবারেই অসম্ভব। ঘরের মাটিতে কিংবা বিদেশের অপরিচিত কন্ডিশনে, বল হাতে রিশাদের এই পারফরম্যান্স যে বাংলার ক্রিকেটে স্বস্তির বার্তা বয়ে আনে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।











