ঘরোয়াতে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স, জাতীয় দলে প্রত্যাবর্তন, নিউজিল্যান্ড সিরিজে বিধ্বংসী সেঞ্চুরি, তাদের বিপক্ষেই দু’বার ম্যাচসেরা পারফরম্যান্স, আর ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দলে ওপেনার হিসেবে জায়গা পাকা করে নেওয়া।
এই পর্যন্ত ঈশান কিষাণের গল্পটা বেশ শ্রুতিমধুর লাগলেও মুদ্রার ওপিঠে নির্মম বাস্তবতা। ২০২৫-২৬ মৌসুমের জন্য ঘোষিত বিসিসিআইয়ের কেন্দ্রীয় চুক্তির তালিকায় নাম উঠল না তাঁর। এই বাদ পড়া অবশ্য নতুন নয়।
গত মৌসুমেও কেন্দ্রীয় চুক্তির বাইরে ছিলেন তিনি। সেবার জাতীয় দলের নিয়মিত শিডিউলের বাইরে থেকে ঘরোয়া ক্রিকেটে না খেলার সিদ্ধান্তে বিসিসিআইয়ের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয়েছিল ইশানের। সে সময় অনেকেই ভেবেছিলেন, ইশান কিষাণের ভারত অধ্যায় বুঝি থেমেই গেল।

কিন্তু ক্রিকেট অনেক সময়ই প্রত্যাবর্তনের গল্প লেখে। ঘরোয়া ক্রিকেট রঞ্জি ট্রফিতে সেঞ্চুরি, বুচি বাবু টুর্নামেন্টে ধারাবাহিক রান, সৈয়দ মুশতাক আলী ট্রফিতে দুইটি শতক, নিজের ব্যাট দিয়েই কথা বলেছেন ঈশান।
শুধু রান নয়, দায়িত্বশীল ব্যাটিং, পরিণত সিদ্ধান্ত, সব মিলিয়ে বদলে যাওয়া এক কিষাণের ছবি দেখেছে ভারতীয় ক্রিকেট। তারই ফল মিলেছে আন্তর্জাতিক মঞ্চে। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজে ওপেনিংয়ে নেমে দুর্দান্ত সেঞ্চুরি, একই সিরিজে দু’টি ম্যাচেই ম্যাচ সেরা। আগ্রাসী শুরু দেওয়ার পাশাপাশি ইনিংস গড়ে নেওয়ার ক্ষমতাও দেখিয়েছেন।
যে জায়গাটায় ভারত এতদিন পরীক্ষানিরীক্ষা করছিল, সেই ওপেনিং স্লটে হঠাৎ করেই স্থায়ী সমাধান হয়ে উঠেছেন ইশান। যার সুবাদে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ দলে গুরুত্বপূর্ণ সদস্য এখন তিনি।

এর মাঝেই প্রকাশ হলো কেন্দ্রীয় চুক্তি। আর সেখানেই যত গণ্ডগোল। নাম নেই ঈশানের। তাই প্রশ্ন আসে কেন এমন সিদ্ধান্ত নিল বিসিসিআই? হতে পারে সাময়িক পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই কিষাণকে ডাকা হয়েছে দলে।
কিংবা শৃঙ্খলাজনিত কারণে এখনও বিসিসিআইয়ের আস্থা কুড়াতে পারেননি তিনি। হয়তো বোর্ড আরও সময় চায়, আরও ধারাবাহিকতা দেখতে চায়।











