দিল্লির অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে মঙ্গলবারের অনুশীলন সেশন যেন ভারতের নতুন করে ছন্দ খোঁজার গল্প বলছিল। দলীয় আলোচনা, দীর্ঘ ব্যাটিং সেশন এবং বোলারদের বল হাতে নিজেকে ঝালিয়ে নেওয়ার দৃশ্যের মধ্যেই আলাদা করে নজর কাড়েন জাসপ্রিত বুমরাহ।
প্রায় দশ দিন বল হাতে না নেওয়ার পর আবার পূর্ণমাত্রায় বোলিংয়ে ফিরেছেন এই পেসার। মুম্বাইয়ে তিনি কেবল ওয়ার্ম-আপ অনুশীলনে সীমাবদ্ধ ছিলেন। এবার নেটে নিয়মিত বল করেন এবং স্পেলের ফাঁকে বোলিং কোচ মর্নে মর্কেলের সঙ্গে দীর্ঘ সময় আলোচনা করেন।
অনুশীলনের প্রায় এক ঘণ্টা পর অধিনায়ক সুরিয়াকুমার যাদব ও তিলক ভার্মার বিপক্ষে প্রায় আধা ঘণ্টা বোলিং করেন বুমরাহ। পুরো সময় জুড়ে কোনো শারীরিক সমস্যা দেখা যায়নি। এক পর্যায়ে গতি বাড়ালে সুরিয়া তার পেস সামলাতেই পারেননি।

এই অনুশীলন সেশন অলরাউন্ডার ওয়াশিংটন সুন্দর ফিট হয়ে ওঠার বিষয়টিও নিশ্চিত করেছে। প্রথমে থ্রোডাউন অনুশীলনের পর ধীরে ধীরে বোলিং শুরু করেন তিনি এবং ধাপে ধাপে কাজের চাপ বাড়ান। অন্যদিকে পেটের সমস্যার কারণে এখনো পুরোপুরি সুস্থ না হওয়ায় অভিষেক শর্মা দলের সঙ্গে যোগ দেননি।
সামনের ম্যাচগুলোকে কেন্দ্র করে পরিকল্পনায় বদল আনার আভাসও দিয়েছেন সহকারী কোচ টেন ডেসকাট। তিনি বলেন, ‘পরিস্থিতি অনুযায়ী মানিয়ে নেওয়াই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’
তার মতে, মুম্বাইয়ের উইকেট ব্যাটারদের আরও ধৈর্য এবং কৌশলগত পরিবর্তনের দাবি করেছিল। পাওয়ারপ্লের শেষ ওভারে তিন উইকেট হারানো এবং ৭০ রানে ছয় উইকেট পড়ে যাওয়ার পরিস্থিতিতে মানিয়ে নেওয়া জরুরি হয়ে পড়ে।

তিনি আরও বলেন, ‘টি-টোয়েন্টিতে প্রতিবার ২৫০ রানের লক্ষ্য নিয়ে খেলতে গেলে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা থাকেই। টুর্নামেন্টের প্রথম কয়েক দিনের উইকেটের আচরণ দেখে ব্যাটিং কৌশলে সামান্য পরিবর্তন আনা হতে পারে।’
বোলিং নিয়েও তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে পারফরম্যান্স ভালো মনে হলেও আরও উন্নতির সুযোগ রয়েছে। কোথায় বল করা হয়েছে এবং কীভাবে ব্যবহার করা হয়েছে সেই দিক থেকে বিশ্লেষণ করলে দল আরও ভালো করতে পারবে বলে বিশ্বাস তার।
মাঠের বাইরের বিষয় নিয়ে তিনি বলেন, ‘দল রাজনীতি থেকে দূরে থাকতে চায়। দুই দেশের আবেগ ও বাস্তবতা বোঝা গেলেও তাদের মূল মনোযোগ ক্রিকেটে। কলম্বোতে পাকিস্তান দুই সপ্তাহ ধরে অবস্থান করায় ম্যাচটি কঠিন হতে পারে, তবে ভারত নিজেদের সেরা ক্রিকেট খেলতেই মনোযোগী।’











