একই মানুষ, শচীন টেন্ডুলকারের স্টাম্প উপড়ে ফেলছেন, রাগবির মাঠজুড়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন, রূপ বদলে ডাক্তার হয়ে মানুষের প্রাণ রক্ষা করছেন। আবার তিনিই প্রাণী সংরক্ষণের এক স্বপ্নদ্রষ্টা। এমনকি অবসরে বনে গেছেন পাইলট। রুডি ফন ভুরেন একের ভেতর যেন সবটাই বিধাতা তাকে দিয়েছেন।
২০০৩ সালে নামিবিয়ার ক্রিকেট স্বপ্নের দোড়গোড়ায় এসে দাঁড়িয়ে। বিশ্বকাপ অভিষেক তাদের। আর সেই দলের স্বপ্নসারথি ছিলেন এই রুডি ফন ভুরেন।
দুই মিলিয়ন মানুষের দেশটি তখনো ক্রিকেটের ছন্দ শিখছিল। সেই সময় শোয়েব আখতারের গতির সামনে বুক চিতিয়ে লড়েছেন তিনি। আবার বল হাতে সময়ের সেরা ব্যাটসম্যান শচীনকে দেখিয়েছেন সাজঘরের পথ।

একই বছর রাগবি বিশ্বকাপেও অংশ নিয়েছিলেন তিনি। একমাত্র ক্রীড়াবিদ হিসেবে দুই ভিন্ন খেলায় বিশ্বকাপে নামা প্রমাণ করে তার প্রতিভার কোন সীমারেখা নেই।
ক্রিকেট কিংবা রাগবির মাঠই তার পরিচয়ের গন্ডি ছিল না। একই সময়ে ডাক্তার হিসেবে তিনি দেশের মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। ম্যাচের ফাঁকে ৭০ জন শিশুর জন্ম নিরাপদে সম্পন্ন করানো, এইচআইভি মহামারির সময় প্রাপ্তবয়স্কদের সংক্রমণ কমানো, এই সব কৃতিত্বের জন্য তিনি দেশের মানুষের কাছে এক মানবিক নায়ক হয়ে উঠেছিলেন। মাঠে যেমন দ্রুতগতির বল সামলাতেন, হাসপাতালে তেমনি চাপের মুহূর্তে জীবন বাঁচাতেন।
রুডি ফন ভুরেনের কৃতিত্ব শুধু মানুষের জীবন বাঁচানোয় সীমাবদ্ধ ছিল না। তিনি আহত ও অনাথ প্রাণীদের জন্য প্রাণী সংরক্ষণাগারও প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

২০১৮ সালে ক্রিকেট নামিবিয়ার সভাপতি হয়ে দেশের ক্রিকেটকে আন্তর্জাতিক মানে পৌঁছে দিয়েছেন। টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজনের মাধ্যমে তিনি প্রমাণ করেছেন যে ক্রীড়া প্রশাসনেও তার দক্ষতা অনন্য।
এ যেন এক স্বপ্নের জীবন, এ যেন জীবনের দায়বদ্ধতার নিখাদ সংস্করণ। সৃষ্টিকর্তার উপহার দেওয়া জীবনকে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে কাজে লাগানোর অনন্য দৃষ্টান্ত। রুডি ফন ভুরেন, মাঠের নায়ক, আবার মাঠের বাইরে মহানায়ক।











