ওমান টের পেল শক্তিমত্তার ফারাকটা ঠিক কত। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে পাত্তাই পায়নি। ১০৫ রানের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত হয়েছে দলটি। ব্যাটে-বলে সেই অর্থে প্রতিরোধ কিংবা সংশয় কোন কিছুই সৃষ্টি করতে পারেনি তারা। শ্রীলঙ্কা একপ্রকার হেসেখেলেই জিতে নিয়েছে ম্যাচ।
পালেকেল্লেতে টসে জিতে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় ওমান। উইকেটের আচরণ বোঝাই সাধারণত থাকে মুখ্য বিষয়। যেহেতু দিনের ম্যাচ, সেহেতু শিশিরের সমস্যা নয় কোন প্রভাবক। উইকেট কেমন সেই উত্তর পেতে পেতে ওমানের সামর্থ্যের বাইরে চলে যায় ম্যাচ। লঙ্কান ব্যাটারদের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ের ভর করে প্রবল স্রোতে বেড়েছে রানের ধারা।
যদিও শুরুতে ওমান বেশ উচ্ছ্বসিত ছিল, মাত্র ১৫ রানের মাথায় কামিল মিশারা আউট হওয়ায়। এরপর ৪২ রানের মাথায় পাথুম নিসাঙ্কা আউট হলে, লঙ্কান ব্যাটিং ইউনিট তুলে দেয় প্রায় অভেদ্য এক দেয়াল। প্রতিরক্ষায় দাঁড়িয়ে যান কুশল মেন্ডিস ও পাভান রত্নানায়েকে। কুশল খানিকটা স্লথ গতিতে রান তুললেও, পাভানের ব্যাট চলেছে ২০০ ছাড়ানো স্ট্রাইকরেটে। মাত্র ২৮ বলে ৬০ রান করে আউট হন পাভান।

কুশল ফেরেন ৪৫ বলে ৬১ রান করে। তবে এদিন সবচেয়ে বেশি আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন অধিনায়ক দাসুন শানাকা। মাত্র ১৯ বলে এবারের বিশ্বকাপের দ্রুততম হাফসেঞ্চুরি তুলে ফেলেন শানাকা। ২০ বলে ৫০ করে তিনি যতক্ষণে আউট হয়েছেন, ততক্ষণে ওমান ছিটকে গেছে ম্যাচ থেকে।
কামিন্দু মেন্ডিসের ৭ বলের ১৫ রানের ইনিংসটির কল্যাণে ২২৫ রানে গিয়ে থামে শ্রীলঙ্কার সংগ্রহের যাত্রা। রান তাড়ায় সর্বোচ্চ ১৯০ রান অবধি পৌঁছাতে পেরেছে ওমান। তাও আবার কানাডার বিপক্ষে। অতএব ২২৬ রানের শ্রীলঙ্কার দেওয়া টার্গেট টপকানো যে তাদের জন্য ছিল অসাধ্য সাধন সেটা বেশ ভাল করেই জানা ছিল ওমানের ব্যাটারদের।
তবুও চেষ্টা কে না করতে চায়! কিন্তু লঙ্কান বোলাররা ওমানের চেষ্টার রাস্তাটাও অবরুদ্ধ করে ফেলেন। দুশমন্থ চামিরা, মাহিশ থিকসানা দুইটি করে উইকেট তুলে নেন। দুশান হেমান্তা, দুনিথ ওয়েলালাগে ও কামিন্দু নেন একটি করে উইকেট। এক মোহাম্মদ নাদিমের দৃঢ়তায় শেষ অবধি আর অলআউট হতে হয়নি ওমানকে।

তিনি শেষ অবধি টিকে ছিলেন, তুলে নেন ফিফটি। ৫৬ বলে ৫৩ রানের ইনিংসটি ব্যবধান কমালেও, ১০০ রানের নিচে নিয়ে আসতে পারেনি। অগত্যা দাপট দেখানো জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে দাসুন শানাকার শ্রীলঙ্কা।











