ধারাবাহিকতায় ইমন খুললেন নব সম্ভাবনার দুয়ার

ওপেনার তকমা গায়ে লেপ্টে থাকলে তো রীতিমত এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা চলে সর্বত্র। সেদিক থেকে ইমন একটা দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন বটে। অবশ্যই তা নিজের পারফরমেন্সের জোরে। 

প্রথমবারের মত বিদেশি কোন ফ্রাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট খেলতে চলেছে পারভেজ হোসেন ইমন। তার এই যাত্রায় অবশ্য একটা ভীষণ পজিটিভ দিক রয়েছে। বাংলাদেশের তরুণ ব্যাটারদের বিদেশি লিগে সেই অর্থে প্রাধান্য দেওয়া হয় না। ওপেনার তকমা গায়ে লেপ্টে থাকলে তো রীতিমত এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা চলে সর্বত্র। সেদিক থেকে ইমন একটা দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন বটে। অবশ্যই তা নিজের পারফরমেন্সের জোরে।

১১ ফেব্রুয়ারি বসেছিল পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) নিলাম। সেখানে ৫৩ বাংলাদেশি খেলোয়াড়দের মধ্যে ছিল পারভেজ হোসেন ইমনেরও নাম। ১ কোটি ১০ লাখ পাকিস্তানি রুপি ছিল তার ভিত্তিমূল্য। সেই অর্থব্যয়ে তাকে কোন দল নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেনি সে কথা সত্য। তবে দ্বিতীয় দফা যখন তার ভিত্তিমূল্য কমে দাঁড়ায় ৬০ লাখ রুপিতে, ঠিক তখন তাকে লুফে নেয় লাহোর কালান্দার্স।

বাংলাদেশি অর্থমূল্যে ২৬ লাখ টাকার একটু বেশি পারিশ্রমিক পেতে চলেছেন ইমন। যদিও বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে ইমনের পারিশ্রমিক ছিল ৩৫ লাখ টাকা। সেদিক বিবেচনায় পারিশ্রমিকের ফারাক থাকলেও, ইমনের এই অন্তর্ভুক্তি তার ধারাবাহিক পারফরমেন্স ও ভার্সেটাইল ব্যাটিংয়ের ফসল।

সর্বশেষ বিপিএলে সর্বোচ্চ রান করেছিলেন ইমন সিলেট টাইটান্সের জার্সি গায়ে। ৩৯৫ রান তুলতে তিনি প্রায় ১৩৩ স্ট্রাইকরেট বজায় রেখেছেন। যৌথভাবে তিনি টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ ছক্কা হাঁকিয়েছেন ১৯টা। এটাতো গেল তার সর্বশেষ বিপিএলের ফিরিস্তি। গত বছর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেরও রানের ধারা অব্যাহত ছিল ইমনের ব্যাটে।

২০২৫ সালে বাংলাদেশের হয়ে ২৩টি ইনিংস খেলেছেন ইমন। ১৩৭.৬৬ স্ট্রাইকরেটে ৫১৯ রান করেছিলেন। ছক্কা হাঁকিয়েছিলেন ৩৪টা। ঠিক এই ধারাবাহিকতাই ইমনের দুয়ার খুলে দিয়েছে দেশের গণ্ডির বাইরেও। সাধারণত বাংলাদেশের কোন ওপেনার সেই বিদেশের ফ্রাঞ্চাইজি লিগগুলোতে সুযোগ পাননা। ওপেনিংয়ে সেই আগ্রাসী শুরুর দিক বিবেচনায় বাংলাদেশ দল বেশ পিছিয়ে ছিল। তবে দিন বদলের পালে হাওয়া দিয়েছেন পারভেজ হোসেন ইমন, সাথে ছিলেন তানজিদ হাসান তামিমও।

একেবারেই যে ওপেনাররা সুযোগ পাননি সে কথা বলা বরং ভুল। লিটন কুমার দাসই ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে খেলেছেন। তামিম ইকবাল খান আইপিএলে গিয়েছিলেন বটে, কিন্তু ম্যাচ খেলার সুযোগ পাননি। তবে তারা প্রত্যেকেই দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের প্রমাণ করার পরে গিয়ে সুযোগ মিলেছে, তাও প্রথম পছন্দের ছিলেন না কেউই। এনামুল হক বিজয় একেবারে তরুণ বয়সে কোয়েটা গ্ল্যাডিয়েটর্সের এক ম্যাচ খেলার সুযোগ পেয়েও হয়েছিলেন ব্যর্থ।

তবে সর্বশেষ বিপিএলে চার নম্বরেও আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের ধারা অব্যাহত রেখেছিলেন ইমন। সেটাও একটা প্রভাব ফেলেছে তার দল পাওয়ার ক্ষেত্রে। লাহোর কালান্দার্স হয়ত তিন কিংবা চারেই ব্যবহার করতে চাইবে পারভেজ হোসেন ইমনকে। ইমনের পারফরমেন্সই বদলে দিতে পারে বাংলাদেশি ব্যাটারদের ভিনদেশি ফ্রাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টের ভাগ্য।

লেখক পরিচিতি

রাকিব হোসেন রুম্মান

কর্পোরেট কেরানি না হয়ে, সৃষ্টি সুখের উল্লাসে ভাসতে চেয়েছিলাম..

Share via
Copy link