কলম্বোতে ভারত-পাকিস্তান মহারণ শুধু মাঠের লড়াই নয়, এই ম্যাচ বদলে দিতে পারে দক্ষিণ এশিয়ার ক্রিকেট রাজনীতির নতুন সংজ্ঞা। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মাঝপথে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সভাপতি আমিনুল ইসলাম এই ইঙ্গিতই দিয়েছেন। ১৫ ফেব্রুয়ারির চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দ্বৈরথই হতে পারে ‘বরফ গলানোর’ সূচনা।
ঘটনার শুরুটা ছিল বেশ নাটকীয়ভাবে। নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে যাওয়া নিয়ে আপত্তি তোলে বিসিবি। নিজেদের ম্যাচ অন্য ভেন্যুতে সরানোর আবেদন জানালেও আইসিসি তা নাকচ করে দেয়। কঠিন অবস্থান নেয় বাংলাদেশ, জানিয়ে দেয় ভারতে যাচ্ছে না। এ নিয়ে দফায় দফায় বৈঠক চলে, বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ায় পাকিস্তান। আর শেষটাতে বিশ্বকাপে খেলায় হলো না বাংলাদেশের। আর পাকিস্তান সিদ্ধান্ত নেয় ভারত ম্যাচ বয়কটের।
এরপরই অবশ্য সংকট নিরসনে আইসিসির ডাকে আমিনুল ইসলামকে যেতে হয় পাকিস্তানে। সেখানে তিন পক্ষের মধ্যে চলে পাঁচ ঘণ্টার বৈঠক। আর বদলে যায় দৃশ্যপট।

আইসিসি জানিয়ে দেয়, বিশ্বকাপ বয়কট করলেও বাংলাদেশের ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা আসবে না। শুধু তাই নয়, ২০২৮ থেকে ২০৩১ সালের মধ্যে একটি আইসিসি ইভেন্ট আয়োজনের দায়িত্ব পাবে বাংলাদেশ। অর্থাৎ মাঠের বাইরে কূটনৈতিক লড়াইয়ে একেবারে খালি হাতে ফেরেনি বিসিবি। শুধু তাই নয়, সমাধান হয় ভারত-পাকিস্তান ম্যাচেরও।
আর এই অসাধ্য সাধনের কেন্দ্রীয় চরিত্রের একজন ছিলেন বুলবুল। ফিরে এসে প্রথম আলোকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এই বৈঠকের মূল প্রতিপাদ্য তুলে ধরেন তিনি। বলেন, “আইসিসি একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ এবং আফগানিস্তান। আইসিসির বড় স্টেকহোল্ডার তো এশিয়ার এই পাঁচটা দেশ। বিশ্বকাপে ১৫ তারিখ ভারতের সঙ্গে পাকিস্তানের যে ম্যাচটা হবে, তারা চাচ্ছে এশিয়ার এই পাঁচ দেশের প্রতিনিধিদের সবাই মাঠে থেকে একসঙ্গে খেলা দেখবে এবং সবাই সবার সঙ্গে কথা বলবে। এটাকে বরফ গলানোর উদ্যোগ হিসেবেও বিবেচনা করতে পারেন।”
আমিনুল ইসলাম জানান, লাহোর বৈঠকে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো ভবিষ্যতে যেন উপেক্ষিত না হয়, সে জন্য একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) প্রস্তুত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমরা একটি চুক্তিতে যাব। চুক্তিটি লাইন বাই লাইন, এমওইউ ধরনের একটি দলিল হবে, যাতে কোনো ধরনের অনিশ্চয়তা না থাকে।’

সব মিলিয়ে বার্তাটা পরিষ্কার, বাংলাদেশ বোর্ড এখন কেবল প্রতিক্রিয়া নয়, কৌশল নিয়েই এগোতে চায়। বিশ্বকাপের উত্তেজনার মাঝেই তাই কলম্বোর গ্যালারি হয়ে উঠতে পারে কূটনৈতিক মঞ্চ। ভারত-পাকিস্তান ম্যাচে চোখ থাকবে কোটি দর্শকের, কিন্তু সমান গুরুত্বে নজর থাকবে বোর্ড কর্তাদের দিকে।
Share via:











