একজন লেগস্পিনারের হাহাকার যেন আজন্মকাল ধরেই ছিল বাংলাদেশে। একটা সময় যখন বিশ্বের সব দলগুলোই লেগস্পিন দিয়ে কৌশল সাজাচ্ছিল, সেখানে বাংলাদেশের ষোল আনা ভরসা রাখতে হত অফস্পিনারদের উপরেই। কিন্তু এই দীর্ঘকালের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে বাংলার ক্রিকেটে আগমন ঘটেছিল রিশাদ হোসেনের। এখন কেবল বাংলাদেশের হয়েই না, বিশ্বজুড়ে একের পর এক ফ্র্যাঞ্চাইজির নজরে পড়ছে রিশাদ।
২০২৩ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হওয়ার পরের বছরই গ্লোবাল টি-টোয়েন্টি লিগে সুযোগ মেলে রিশাদের। সর্বপ্রথম বিদেশি ফ্র্যাঞ্চাইজি হিসবে রিশাদকে দলে ভেড়ায় টরন্টো ন্যাশনালস। তবে ভিসা জটিলতায় সেই লিগে অংশ নেওয়া হয়নি তার।
পরবর্তীতে বিগব্যাশ লিগ (বিবিএল) ২০২৪-২৫ সালের আসরে হোবার্ট হারিকেন্সের স্কোয়াডে সুযোগ পান রিশাদ। কিন্তু একই সময়ে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ(বিপিএল) আয়োজিত হওয়ায় বিবিএলের পরিবর্তে দেশের মাটিতে ফরচুর বরিশালের হয়ে খেলেন রিশাদ।

২০২৫ সাল থেকেই শুরু হয় রিশাদের বিদেশি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ খেলার যাত্রা। পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) ২০২৫ সালের আসরে লাহোর কালান্দার্সের স্কোয়াডে জায়গা করে নেন রিশাদ। সেই আসরে সাত ইনিংস বল করতে নেমে ১৭.২৩ গড়ে ১৩টি উইকেট সংগ্রহ করেন রিশাদ। আসর জুড়েই অন্যান্য স্পিনারদের তুলনায় অনেক বেশি ডিগ্রিতে বল ঘুরিয়ে বিশ্লেষকদের প্রশংসা কুড়িয়েছেন বাংলাদেশি এই লেগ স্পিনার।
একই বছর আয়োজিত বিবিএলের ২০২৫-২৬ সালের আসরে আবারও হোবার্ট হারিকেন্স রিশাদ হোসেনকে স্কোয়াডে ভেড়ায়। সেই আসরে ১১ ইনিংসে বল হাতে নিয়ে ২০.৮৬ গড়ে ১৫টি উইকেট নিয়েছেন রিশাদ। আসর শেষ করেছেন দলের সবচেয়ে সফল বোলার হিসেবে।
পিএসএল ২০২৬ এর নিলাম থেকে তিন কোটি পাকিস্তানি রুপির বিনিময়ের রিশাদের নতুন ঠিকানা এখন রাওয়ালপিন্ডি এক্সপ্রেস। ২৬ মার্চ থেকে শুরু হতে যাওয়া পিএসএলের এবারের আসরে তাই রাওয়ালপিন্ডির জার্সি গায়ে দেখা যাবে রিশাদকে।
বিবিএলে অনবদ্য পারফরম্যান্সের কল্যাণে পরের আসরেও তাকে দলে চেয়েছেন দলটির কোচ জেফ ভোগান। বাংলাদেশ দলে একজন কোয়ালিটি লেগ স্পিনার পাওয়াই যেখানে স্বপ্নের মতো ছিল, সেখানে বাংলাদেশি এক লেগ স্পিনার বিশ্বজুড়ে ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগগুলোতে দাপিয়ে বেড়ানো – এ যেন স্বপ্নের চেয়েও বড়।











