কালুগামাগের অবিশ্বাস্য স্বপ্নযাত্রা!

লুক্কার ছোট্ট এক রেস্তোরাঁয় দিনের বেলায় পিৎজা বানানো, রোমের অ্যাস্ট্রোটার্ফে রাতে প্র্যাকটিস, এভাবেই চলেছে ক্রিশান কালুগামাগের জীবন। অনেকটা দুই নৌকায় পা দিয়ে চলার মতোই। একদিকে জীবনের বাস্তবতা আর অন্যদিকে স্বপ্নটাকে টিকিয়ে রাখার এক অসম লড়াই। যেখানে জিতেছে স্বপ্নটাই। ইতালির জার্সি গায়ে বিশ্বকাপের মঞ্চে তাঁর ঘূর্ণি জাদুই তো ইতিহাস সৃষ্টি করা জয়ের বার্তাবাহক হিসেবে কাজ করেছে।

কালুগামাগের ক্রিকেট যাত্রা শুরু হয়েছিল শ্রীলঙ্কার নেগোম্বোর স্কুলের মাঠে। অল্প বয়সে স্কুলের অনূর্ধ্ব-১৩ ও অনূর্ধ্ব-১৫ দলে খেলার পাশাপাশি দাদুর সঙ্গে রেডিওতে ক্রিকেট শোনা ছিল তার শখের বড় অংশ। আর ওই শখটাই একটু একটু করে স্বপ্নের আকার ধারণ করেছে। কালুগামাগের মন বলেছে, আমাকে যেতে হবে বাইশ গজে, সেটা যে করেই হোক।

২০০৭ সালে পরিবার যখন ইতালিতে চলে আসে, তখন ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্নে ফাটল ধরে, দেয়াল তুলে দাঁড়িয়ে থাকে এক অনিশ্চয়তা। তবে স্বপ্নের পথে বাধা না এলে সেটা আবার কিসের স্বপ্ন? কালুগামাগে তাই আবারও নতুন উদ্যমে চলতে লাগলেন।

ক্রিকেট বল ছেড়ে হাতে উঠল টেপ টেনিস। নিজেকে উজাড় করে দিতে থাকলেন। স্থানীয় ক্লাবগুলোর পরিচর্যাও পেলেন। তবে নতুন করে স্বপ্নের প্রাণসঞ্চার ঘটল ২০১৫-১৬ সাল নাগাদ। রোমা ক্রিকেট ক্লাবে নাম লেখালেন। এখান থেকেই শুরু নতুন পথচলা।

এক দশকের ক্রিকেট যাত্রা তাকে বিশ্বকাপের মঞ্চে পৌঁছে দিয়েছে। উচ্চতার কারণে একসময় ফাস্ট বোলিং করার চেষ্টা করেছিলেন, তবে চোটের কারণে ২০২১ সালে আবার লেগস্পিনে ফিরে আসেন। এরপর ওটাকেই বানিয়ে ফেলেন নিজের আগ্নেয়াস্ত্র।

চেষ্টায় সব হয়, এটাকেই এক প্রকার বীজমন্ত্র বানিয়েছেন কালুগামাগে। সুযোগ পেলেই ছুটে গেছেন ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা কিংবা রশিদ খানের মতো বিশ্বসেরাদের কাছে। ডায়েরিতে টুকে নিয়েছেন ব্যাটারকে কাত করার পদ্ধতি। সেই সঙ্গে সমান তালে চলেছে নিজের পিৎজা বানানো।

লোকে বলে দুই নৌকায় পা দিয়ে চলা যায় না। তবে মনের ভেতর সাহস আর স্বপ্নকে হাতের মুঠোয় আনার অনবরত চেষ্টা যারা চালান, তারা ঠিকই পারেন। নেপালের বিপক্ষে বিশ্বকাপে ইতালি পেয়েছে প্রথম জয়। এও এক অধরা স্বপ্নে ছোঁয়ার গল্প। যার পেছনের কারিগরদের একজন এই কালুগামাগে। চার ওভারে ১৮ রানের বিনিময়ে তিন শিকার, বিশ্বকাপে নিজের দলকে জয় এনে দেওয়া, এটাও যে ওই ছেলেবেলায় দেখা স্বপ্নেরই প্রতিফলন।

কালুগামাগে পেরেছেন। ইতালির স্বপ্নসারথী হয়ে নিজের লালিত স্বপ্নকে বাস্তব রূপ দিতে। একদিন ক্রিকেটার হবো, এই বাক্যের বাস্তব রূপ দিতে। জীবনের বাস্তবতার সীমানা এক লাফে ডিঙিয়ে বাইশ গজে দাপট দেখাতে পেরেছে সেই স্বপ্নবাজ ছেলেটা। এও কি রূপকথার গল্প না?

লেখক পরিচিতি

প্রত্যয় হক কাব্য

স্বপ্ন লেখার কি-বোর্ড

Share via
Copy link