নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দক্ষিণ আফ্রিকার ম্যাচটাকে আপনি চাইলেই বলতে পারেন দ্য মার্করাম শো। কিংবা তাদের জয়কে বলে যেতে পারে মার্করাম ও ইয়ানসেনের যৌথ প্রযোজনা। গ্রুপের দুই হেভিওয়েট দলের লড়াই, যেমনটা হওয়ার কথা ছিল হয়েছে তাই। বিনোদনের ভরপুর ম্যাচটায় শেষ হাসি হেসেছে প্রোটিয়ারাই।
টসে জিতে নিউজিল্যান্ডকে ব্যাটিংয়ে পাঠায় দক্ষিণ আফ্রিকা। এ ম্যাচ যে জিতবে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন। নিজেদের ব্যাটিংয়ের উপর এইডেন মার্করামের যেন রয়েছে পূর্ণ আস্থা। নিউজিল্যান্ডকে তাই স্কোরবোর্ডে লক্ষ্য ঠিক করার দায়িত্ব তুলে দিলেন। সেই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে টিম সেইফার্ট ও ফিন অ্যালেন বেশ আগ্রাসী শুরুই করেছিলেন বটে।
কিন্তু এরপরই শুরু হয় মার্কো ইয়ানসেন নামক ধ্বংসযজ্ঞ। ব্ল্যাকক্যাপস টপ অর্ডার একাই গুড়িয়ে দেন ইয়ানসেন। নিজের পকেটে পুরেছেন চার খানা উইকেট। দিনশেষে ম্যাচ সেরা হয়েছেন তিনিই। কেননা টপ অর্ডারের ধ্বসই বরং নিউজিল্যান্ডকে করেছিল কাবু। যদিও মার্ক চ্যাপম্যান ও ড্যারিল মিশেলরা হাল ছাড়েননি। তাদের ইনিংসগুলো স্কোরবোর্ডে রানের চাকা স্থির হতে দেয়নি।

শেষ দিকে জিমি নিশামের প্রায় দেড়শ স্ট্রাইকরেটের একটা ছোট্ট ক্যামিও, ব্ল্যাকক্যাপসদের এনে দেয় সাত উইকেট হারিয়ে ১৭৫ রানের পুঁজি। ১৭৫ ডিফেন্ড করার জন্য নেয়াহেৎ মন্দ সংগ্রহ নয়। কিন্তু তারা কি আর ভেবেছিলেন মার্করাম এদিন হয়ে উঠবেন দৈত্য-দানব। একা হাতে তিনি হারিয়ে দিলেন মিচেল স্যান্টনারদের।
মাত্র ১৯ বলে হাফসেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। প্রোটিয়াদের ইতিহাসে বিশ্বকাপের মঞ্চে এটি দ্রুততম হাফসেঞ্চুরির রেকর্ড। এবারের বিশ্বকাপেও এটি যৌথভাবে দ্রুততম। তবে মার্করাম স্রেফ হাফসেঞ্চুরি হাকিয়েই থেমে থাকেনি, বরং দলের জয় একেবারে সুনিশ্চিত করে তবেই তিনি মাঠ ছেড়েছেন।
তার অপরাজিত ৮৬ রানের ইনিংসটিই দক্ষিণ আফ্রিকাকে জয়ের বন্দরে নিয়ে গেছে। শেষদিকে ডেভিড মিলারের ব্যাট থেকে সৃষ্ট দমকা হাওয়া জাহাজের গতি দ্রুত করেছে। যার ফলশ্রুতিতে ১৭ বল আর সাত উইকেট বাকি থাকতেই বিজয় লেখা হয়ে যায় প্রোটিয়াদের নামে।












