এই স্মার্টনেসের জন্যই ভারত বিশ্বসেরা

পাকিস্তানের চেয়ে ভারত অনেক বড় দল। আর সেটা ‍ফুটে ওঠে তাঁদের মানসিকতায়। আর সেটা বহুদিনের পরিশ্রম ও আর অনুশীলনের ফসল। পাকিস্তান নিজেদের গেম সেন্স দিয়ে কোনো একদিন জিতে যেতে পারবে, কিন্তু অধিকাংশ সময়েই হারবে। কারণ, ভারত কখনওই একজনের ওপর নির্ভরশীল নয়, বরং পুরো দলের গেম সেন্সের ওপর নির্ভরশীল।

শুধু পরিসংখ্যান নয়, ভারতের পরিকল্পনা, তাঁদের মানসিকতা কিংবা তাঁদের শারীরিভাষা – সবই তাঁদের পক্ষে কথা বলে। একদম ব্যাটিংয়ের গোড়াতেই অভিষেক শর্মাকে হারিয়ে ফেলার পরও তাঁদের পরিকল্পনা মার খায়নি, কারণ ঈশান কিষাণ ছিলেন।

তিনি ক্রমাগত স্লো হয়ে আসা উইকেটেও ৪০ বলে ৭৭ করে গেছেন। কাউন্টার অ্যাটাক করেছেন, নিজেকে ফোর্স করেননি, স্রোতের বিপরীতে গিয়ে কিছু করার চেষ্টা করেননি। কেবল সময়ের অপেক্ষা করেছেন, হিটিং জোনে বল পেলেই বাউন্ডারি আদায় করেছেন। তাই তিনি সময়ে চেয়ে এগিয়ে যেতে পেরেছেন।

একই শুরু পাকিস্তানের ব্যাটিংয়ের ‍সূচনালগ্নেও ছিল। প্রথম ওভারে শাহিবজাদা ফারহান ফিরে গেলে পরের ওভারেই তেড়েফুড়ে পেটাতে গিয়েছিলেন সায়িম আইয়ুব। একটা টপ এজে ছক্কা হওয়ার পর জাসপ্রিত বুমরাহর ইয়র্কারের সামনে তাঁর কোনো জবাব ছিল না। প্রথম ওভারেই যে ইয়র্কার করা যায় এই গেম সেন্স পাকিস্তানের বোলারদের মধ্যে নেই।

বাবর আজম কিংবা সালমান আলী আঘা সবার ব্যাটিংই একই দোষে দুষ্ট। প্রেমাদাসার উইকেট তুলনামুলক স্লো। এখানে শট খেলতে মোক্ষম বলের অপেক্ষা করতে হয়। এই সামান্য ব্যাসিকটা মনে রেখে ভারত যেখানে স্মার্ট ব্যাটিং করতে পেরেছে, পাকিস্তানের কাছে সেই সহজ কাজটাই দুর্বোধ্য বলে মনে হয়েছে।

ভারতের এই স্মার্টনেসের সামনে পাকিস্তানের কোনো প্রিমিয়াম বোলারই প্রেমাদাসায় ভাল সূচনা পাননি। শাহিন শাহ আফ্রিদি, শাদাব খান কিংবা আবরার আহমেদ – সবাই নিজেদের প্রথম ওভারে রান বিলিয়ে গেছেন। ফলে, ভারতের রানের কোষাগার পরিপূর্ণ হয়েছে।

এই উইকেটে ১৭৬ রান আসলে স্বাভাবিক উইকেটে ২০০-এর চেয়েও বেশি। আর এই রান ডিফেন্ড করতে বোলিংয়েও সেই স্মার্টনেসের পরিচয় দিয়েছে ভারত। বুমরাহ-পান্ডিয়াদের দিয়ে বোলিং শুরু করতে পেরেছেন সুরিয়াকুমার, স্পিনিং কন্ডিশনেও পেস দিয়ে শুরু করা সাহসের কাজ।

তাঁর ভরসার প্রতিদন দিয়ে পেস আক্রমণ সফলও হয়েছেন কারণ তাঁরা উইকেট বুঝে বোলিং করেছেন। লেন্থ বল একদমই করেননি, যেটা পাকিস্তানের শাহীন আফ্রিদি করে গেছেন। বরং হার্ড লেন্থ ও ইয়র্কার লেন্থে মনোযোগ দিয়েছেন।

আদতে, পাকিস্তান চাইলেই ভারতকে হারাতে পারবে। তবে, তাঁর জন্য ভারতের বিপর্যয় ও পাকিস্তানের কারও একজনের অতিমানবীয় পারফরম করতে হবে। শুধু স্মার্টনেসে ভারতকে টপকাতে তাঁরা পারবে না। ভারতের সেই দুশ্চিন্তা নেই। কারণ, তাঁদের হয়ে একেকদিন একেকজন দাঁড়িয়ে যেতে পারেন।

কখনও সেটা অভিষেক শর্মা, কখনও ঈশান কিষান, কখনও বা জাসপ্রিত বুমরাহ। ভারতের একটা সিস্টেম সেট করা আছে, একদিন কেউ ব্যর্থ হলেও সেই সিস্টেম ব্যর্থ হয় না। এই মানসিকতাটাই দলীয় স্মার্টনেস, আর এই স্মার্টনেস বছরের পর বছর ধরে প্র্যাকটিস করতে পারে বলেই ভারতের এই দল বিশ্বসেরা।

লেখক পরিচিতি

সম্পাদক

Share via
Copy link