বাংলার ক্রিকেটে পেস বোলিংয়ের যে রেনেসাঁ চলছে, তার সবশেষ সংগীতে এক বৈদিক সুর হয়ে যুক্ত হয়েছেন নাহিদ রানা। তপ্ত দুপুরের রোদে চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম্রকানন ছাপিয়ে যে গতির স্বপ্ন ডানা মেলেছিল ক্লেমন ক্রিকেট একাডেমির ধুলোবালি মাখা নেটে, আজ সেই স্বপ্নই মিরপুরের বাইশ গজে প্রলয়ংকরী এক ঝড়ে রূপ নিয়েছে।
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) চনমনে আলোয় যখন ডিজিটাল স্পিডোমিটারে প্রথমবার নাহিদ রানার আগুনের গোলার গতি ধরা পড়েছিল, তখন টিভিস্ক্রিন থেকে গ্যালারি – সবখানে যেন অবিশ্বাসের গুঞ্জন। ‘ধুর! এও কি সম্ভব?’। মাছ-ভাতে বেড়ে ওঠা এক বাঙালি পেসারের গতির কাঁটা ১৫০ ছুঁইছুঁই করবে, তা তো ছিল আমাদের কল্পনারও অতীত।
কিন্তু সেই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ দিতেই যেন নাহিদের আগমন। ঘরোয়া পর্যায় পেরিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে লাল বল হাতে যখন অভিষেক হলো, ক্রিকেটবিশ্বও দেখল লাল সবুজের এক প্রতিনিধিও পারেন বল হাতে ঘন্টায় দেড়শ কিলোমিটার স্পর্শ করতে।

সিলেটে শ্রীলঙ্কার সাথে অভিষেক টেস্টেই দুই ইনিংস মিলিয়ে শিকার করেন পাঁচ উইকেট। সেই ধারা বজায় থাকে বিদেশের অচেনা কন্ডিশনেও। রাওয়ালপিন্ডিতে গিয়েও পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইন আপে তান্ডবলীলা চালান নাহিদ। দ্বিতীয় ম্যাচে বাংলাদেশকে এনে দেন এক ঐতিহাসিক জয়।
সেই শুভ্রবসনের পরে শুভ্র বল হাতেও দিনের পর দিন নিজেকে চেনাচ্ছেন নাহিদ। যার সবশেষ সংযোজন ঘরের মাঠে পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ। তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে নাহিদের শুরুটাই ছিল স্বপ্নের মতো। সিরিজের প্রথম ম্যাচে নিজের ক্যারিয়ারের প্রথম পাঁচ উইকেট শিকারের কৃতিত্ব অর্জন করে ধসিয়ে দেন পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইন-আপ। পুরো সিরিজে মোট আটটি উইকেট শিকার করে তিনি যৌথভাবে সিরিজ সেরাও নির্বাচিত হয়েছেন।
মুস্তাফিজুর রহমানের কাটার আর তাসকিন আহমেদের অভিজ্ঞতার সাথে নাহিদ রানা যুক্ত হয়েছেন এক নতুন মাত্রা হিসেবে। যিনি বল হাতেই নেন ব্যাটারদের দম্ভ চূর্ণ করতে। তানজিম হাসান সাকিব কিংবা শরিফুল ইসলামের সাথে নাহিদের এই অনবদ্য পারফরম্যান্স যেন টিম ম্যানেজমেন্টকে এক মধুর বিড়ম্বনায় ফেলছে।

চলতি মাসেই নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচের সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ। মিরপুরের চেনা আঙিনা ছেড়ে চট্টগ্রামের ব্যাটিং-স্বর্গে যখন বল হাতে দৌড় শুরু করবেন নাহিদ, তখন পরীক্ষাটা হবে ভিন্ন। আগামী বিশ্বকাপের সরাসরি টিকিট পাওয়ার যে কঠিন লক্ষ্য এখন বাংলাদেশের, সেখানে বল হাতে নাহিদ রানাই এখন অন্যতম প্রধান ভরসা।











